Showing posts with label এসইসি. Show all posts
Showing posts with label এসইসি. Show all posts

Monday, July 13, 2020

শেয়ারবাজারে আসছে ব্যাংকের ১১১ কোটি বোনাস শেয়ার

ডেস্ক রিপোর্ট: শেয়ারবাজারে আসছে তালিকাভুক্ত ১৯ ব্যাংকের ১১১ কোটি বোনাস শেয়ার। যেগুলোর বর্তমান বাজার দর রয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। কিন্তু শেয়ারবাজারে বর্তমানে এই বিশাল বোনাস শেয়ারের চাপ নেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

২০১৯ সালের ব্যবসায় শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে ৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এছাড়া ১৫টি ব্যাংকের পর্ষদ নগদের পাশাপাশি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ ২০১৯ সালের ব্যবসায় ১৯টি ব্যাংকের বোনাস শেয়ার শেয়ারবাজারে যোগ হতে যাচ্ছে।

Friday, July 10, 2020

৪০ ব্রোকারেজ হাউসে গ্রাহকদের জমা করা অর্থের ঘাটতির তথ্য পাওয়া গেছে

ডেস্ক রিপোর্ট: শুধু ক্রেস্ট নয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ১০ ব্রোকারেজ হাউসের সমন্বিত গ্রাহক অ্যাকাউন্টে অর্থ ঘাটতির প্রমাণ মিলেছে। ১৭ হাউস সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য পেয়েছে। এগুলোসহ অন্তত ৪০ হাউসে গ্রাহকদের জমা করা অর্থের ঘাটতির তথ্য পাওয়া গেছে। অবশ্য বেশিরভাগ হাউসে তা কোটি টাকার কম। চলিত মাসের মধ্যে সবাইকে ঘাটতি পূরণের নির্দেশ দিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ডিএসই এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্নিষ্টদের তলব করেছে। তবে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে অনেক হাউস ধার করে বা সরিয়ে নেওয়া অর্থ অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়ে ঘাটতি মেটাতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। করোনাকালে ছুটির সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং অফিস ভাড়া পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার কারণে অনেক হাউসের ঘাটতি হয়েছে বলে সংশ্নিষ্টরা দাবি করেছে।

Tuesday, June 30, 2020

ব্রোকার হাউজ লাপাত্তা? তাতে কি? নিজের বিও অ্যাকাউন্ট নিজেই নিরাপদ রাখতে পারেন, কোনো অর্থ ছাড়াই

স্টাফ রিপোর্টার: জুন মাসের শুরুতেই দেশের পুঁজিবাজারে ঘটে গেছে বড় একটি দূর্ঘটনা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেডের মালিকরা সব অফিস বন্ধ করে দিয়ে আত্মগোপন করেছেন। এতে ব্রোকারহাউজের ২১ হাজার গ্রাহকের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকরা গোপনে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে কি-না, তাদের টাকা আছে কি-না, ওই শেয়ার ও টাকা ফেরত পাবেন কি-না তা নিয়ে তাদের মনে সন্দেহের জাল দানা বেধেছে। 

শুধু ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের গ্রাহক নয়, ওই ঘটনায় অন্যান্য ব্রোকারহাউজের গ্রাহকদের মনেও দেখা দিয়েছে কিছুটা দ্বিধা ও সন্দেহ। অথচ চাইলে একজন বিনিয়োকারী নিজেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে পারেন। সব সময় আপডেট থাকতে পারেন তার বিও অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ারের অবস্থা সম্পর্কে। 

পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ ১ বছর

স্টাফ রিপোর্টার: কালোটাকা সাদা করা অর্থাৎ অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিধান রেখে অর্থবিল ২০২০ পাস হয়েছে সংসদে। তবে এতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজেট ঘোষণার দিনে অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করতে চাইলে তিন বছরের লকইনের প্রস্তাব করেছিলেন। সেটি কমিয়ে এক বছর করা হয়েছে।

তবে শেয়ারবাজার ছাড়া অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো লক-ইন বা শর্ত না থাকায় এই পরিবর্তনে সংশ্লিষ্টদের খুশি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এতে পুঁজবাজারেও তেমন ওই অর্থ আসার সম্ভাবনা থাকবে না।

ব্রোকারহাউজের মূলধন ১০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব

বিএসইসি ও ডিএসইতে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের চিঠি 

স্টাফ রিপোর্টার: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে প্রত্যেক ব্রোকারহাউজের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১০০ কোটি করার প্রসস্তাব দিয়েছে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। আর তার জন্য সর্বোচ্চ এক বছর সময় বেঁধে দেয়ারও দাবি করেছে সংগঠনটি। রোববার (২৮শে জুন) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লিখিতভাবে এই দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে ব্যর্থ ব্রোকারহাউজের ট্রেক স্থগিত করার দাবি করেছে।

Saturday, June 27, 2020

নিট সম্পদ মূল্যে পুঁজিবাজারে টপ ৫-এ ওয়ালটন

স্টাফ রিপোর্টার: শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি বিবেচনায় পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষ-৫ এ ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এমনকি তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো (বিএটিবিসি), বার্জার পেইন্টস, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন, রেকিট বেনকিজার ও গ্রামীণফোনের চেয়েও ওয়ালটনের শেয়ার প্রতি এনএভি বেশি। এছাড়া শেয়ার প্রতি মুনাফা বা ইপিএস বিবেচনায় তালিকাভুক্ত দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওয়ালটন দ্বিতীয় অবস্থানে।

শুধু তাই নয়; দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ইপিএস (শেয়ার প্রতি মুনাফা) নিয়ে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ওয়ালটন হাই-টেক। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ইপিএস বিবেচনায় শীর্ষ ৮-এ রয়েছে ওয়ালটন। এক্ষেত্রেও বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস ও গ্রামীণফোনের চেয়েও ওয়ালটনের ইপিএস বেশি। 

Friday, June 26, 2020

সর্বোচ্চ ইপিএস নিয়ে পুঁজিবাজারে ওয়ালটন, যেভাবে লাভবান হবেন বিনিয়োগকারীরা

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ইপিএস (শেয়ার প্রতি মুনাফা) নিয়ে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। শুধু তাই নয়; ইপিএস বিবেচনায় বর্তমানে শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর তালিকায়ও রয়েছে ওয়ালটন। এতে বিনিয়োগকারীদের লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকছে। কিভাবে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন? বাকিটুকু পড়ে জানতে হবে।
ট্রিপল এ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক এম এ হাফিজ জানান, ওয়ালটনের মতো সর্বোচ্চ ইপিএস নিয়ে আগে কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। 
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের ইপিএসের বিবেচনায় ওয়ালটনের অবস্থান শীর্ষ-৮ এ। এমনকি বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস ও গ্রামীণফোনের চেয়েও ওয়ালটনের ইপিএস বেশি। আবার তালিকাভুক্ত দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওয়ালটনের ইপিএস দ্বিতীয় অবস্থানে।

Tuesday, June 23, 2020

অবশেষে আইপিও অনুমোদন পেল ওয়ালটন

স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন দিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের ৭২৯তম নিয়মিত সভায় ওয়ালটন শেয়ারের কাট-অব প্রাইস ৩১৫ টাকায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ইপিএস নিয়ে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ওয়ালটন।

প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ওয়ালটনের শেয়ার প্রতি মুনাফা বা ইপিএস ৪৫.৮৭ টাকা।  নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি ২৪৩.১৬ টাকা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের ইপিএসের বিবেচনায় ওয়ালটন ৮ম স্থানে রয়েছে। এমনকি বহুজাতিক বার্জার পেইন্টস ও গ্রামীণফোনের চেয়েও ওয়ালটনের ইপিএস বেশি।

Monday, June 22, 2020

'বর্তমান কমিশনও কি আগের কমিশনের মতোই হলো?


বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, বর্তমান কমিশন খুব বেশি আইপিও’র অনুমোদন দেবে না। বাজারে চাহিদা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত যোগান সেভাবে বাড়ানো হবে না।


তিনি বলেন, আইনী বাধ্যবাধকতার কারণে এমনিতেই এ বছর অনেকগুলো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আইপিও অনুমোদন করতে হবে। তাই অন্য খাতের কোম্পানির  খুব একটা অনুমতি দেবেন না তারা। তবে খুব ভালো কোম্পানিগুলোকে উ৭সাহ দেওয়া হবে। 

Saturday, June 20, 2020

‘পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো শুধু বিএসইসির একার কাজ নয়’

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তবে এটি (আস্থা ফেরানো) শুধু বিএসইসির একার কাজ নয়। এখানে অনেকগুলো পক্ষ আছে, তাদেরকেও নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেকেই বিএসইসির দিকে আঙ্গুল তুলে। কিন্তু বিএসইসি শুধুই রেগুলেটর। আমাদের প্রধান কাজ আইন-কানুন প্রণয়ন করা। আইনে দেওয়া এখতিয়ারের মধ্যে থেকে পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আমরা সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের বক্তব্য শুনি, কোনো সমস্যা থাকলে সমাধানের চেষ্টা করি, বাজারের কল্যাণে আইন সংশোধনের প্রয়োজন হলে সেটিও করা হয়। কিন্তু বিএসইসি বাজারে বিনিয়োগ বা ম্যানুপুলেট (কৃত্রিমভাবে শেয়ারের মূল্য পরিবর্তনের চেষ্টা) করতে পারে না। এটি সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর কাজ।

Saturday, June 13, 2020

দেশের বড় বড় শিল্প গ্রুপকে পুঁজিবাজারে আনার আহ্বান দেশবন্ধু চেয়ারম্যানের

বিএসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: দেশের বড় বড় শিল্প গ্রুপকে পুঁজিবাজারে আনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি গোলাম মোস্তফা। গতকাল বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়েত-উল-ইসলামের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।  বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বিএসইসি কার্যালয়ে দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএসইসি নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ায় অধ্যাপক শিবলী রুবায়েত-উল-ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা।

Saturday, May 14, 2011

এসইসি কি নিয়ন্ত্রণহীন?

পুঁজিবাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। কোরাম সঙ্কটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না এসইসি। প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টারা। কমিশনের সদস্য তিনজন। ইতোমধ্যে দুজন পদত্যাগ করায় কোরাম অপূর্ণ থাকায় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হিমসিম খাচ্ছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মূল দায়িত্ব এসইসি’র। কিন্তু বর্তমানে এসইসিতে বিরাজ করছে নেতৃত্বশূন্যতা। কোনো ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় এসইসি নিষ্ক্রীয় সংস্থায় পরিণত হতে চলেছে কি না- এমন প্রশ্নও তুলেছেন বিনিয়োগকারীরা।
জানা যায়, পুঁজিবাজার সম্পর্কিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে এসইসির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে কমিটি এসইসি সংস্কারের সুপারিশ করেছে। এরই পরিপ্রেেিত সরকার এসইসি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এসইসির জন্য নতুন চেয়ারম্যান খোঁজা হচ্ছে বলা হলেও, এখন পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ায় তারাও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারছেন না।
কমিশনের সঙ্ঘবিধি অনুযায়ী নীতিনির্ধারণে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে অবশ্যই তিন সদস্যের কোরাম পূর্ণ হতে হবে। এতদিন চেয়ারম্যান ও ওই দুই সদস্য ইয়াছিন আলী এবং আনিসুজ্জামানকে নিয়ে চলছিল কমিশনের কার্যক্রম। দুই সদস্য পদত্যাগের পর নতুন করে শুধু একজন সদস্য হেলাল উদ্দিন নিযামীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে চেয়ারম্যানসহ কমিশনে দুজন সদস্য রয়েছেন।
এদিকে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে এসইসির ১০ ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে উদ্বৃত্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই ১০ কর্মকর্তার আত্তীকরণকে কেন্দ্র করে এখন অর্থ ও সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাহেঁচড়া চলছে। সংস্থাপন মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে এসইসি আত্তীকরণ করায় তাদের উদ্বৃত্ত ঘোষণা করতে বলা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর চাকরি করার পর তারা নিজেদের পদে বহাল থাকা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন।
গত ৬ এপ্রিল এসইসি থেকে আত্তীকৃত ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের মনোনয়ন প্রদানের আবেদন জানিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে কমিশনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোকবলের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ অবস্থায় কমিশনে কর্মরত অভিজ্ঞ এবং পূর্বে আত্তীকৃত ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের উদ্বৃত্ত ঘোষণা করা হলে কমিশনের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে এসইসির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে উদ্বৃত্ত কর্মকর্তারা।
সবমিলিয়ে এসইসির জনবল কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তাই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাজার নিয়ন্ত্রণে এসইসি কোনো কার্যকর পদপে নিতে পারছে না।
এ ব্যাপারে বাজার বিশ্লেষক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, এসইসি এখন ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। পুঁজিবাজারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। যে কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত ছিল সবার আগে এসইসির বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে এর পুনর্গঠন করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ডিএসইর সাবেক সিইও সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, এসইসির বিধি অনুযায়ী তিন সদস্য না থাকায় কোরাম অপূর্ণ রয়েছে। ফলে তারা নীতিনির্ধারণী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। এটা বিনিয়োগকারীসহ সামগ্রিক বাজারকে প্রভাবিত করছে।

Wednesday, February 2, 2011

অভিহিত মূল্যের প্রজ্ঞাপন স্থগিত করেছে এসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১শ টাকা থেকে ১০ টাকায় পরিবর্তনে অনুমোদনের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বুধবার ২০১০ সালের ১০ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করে এসইসি এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এসইসি এবং ডিএসইর ওয়েব সাইটে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী নিদের্শ না দেয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে এ সংক্রান্ত সব রকম প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

এসইসির সূত্র জানা গেছে, অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের নিয়ে বাজারে অনেক কারসাজি হয়েছে। তাই কোম্পানির উদ্যোক্তাদের নতুন করে কারসাজির সুযোগ নিতে না পারে এ জন্য, একযোগে সব কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় নামিয়ে আনার জন্য সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাব দিয়েছিল এসইসি। সূত্র আরও জানায়, অভিহিত মূল্য পরিবর্তন সংক্রান্ত সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি যেহেতু অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে, তাই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। কিন্তু অভিহিত মূল্যে পরিবর্তনের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী রাজি হলেও অর্থ সচিবের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই কাগজপত্রে অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু বুধবার তা নির্দেশনা আকারে উদ্যোক্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তী এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলে একযোগে সব শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তন করা হতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে অস্থিরতার জন্য অভিহিত মূল্য পরিবর্তন অন্যতম কারণ। তাদের মতে, অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে বাজার অতিমূল্যায়িত হয়েছে। দেখা গেছে- কোন কোম্পানির অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেই বাজারে ওই কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। অথচ অভিহিত মূল্য পরিবর্তন করলে বাজারে ওই কোম্পানির মৌল ভিত্তির কোন পরিবর্তন হয় না। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কোম্পানির উদ্যোক্তারা তাদের শেয়ারের দাম বাড়িয়েছেন। আর বাড়তি দামে স্পন্সর শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, পুঁজিবাজারের সব কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য হবে ১০০ টাকা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্বে করেন। একই বছরের ১০ নভেম্বর এসইসির পরামর্শক কমিটির সভায় সুপারিশ করা হয়, পুঁজিবাজারের সব কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা। যা পরবর্তী এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। এক বছরের মধ্যে যেসব কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা হবে না। তাদের বিশেষ সভা ডেকে বাস্তবায়ন করতে হবে। 

২৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বর্তমানে কোম্পানির অভিহিত মূল্য যা আছে তা ঠিক রাখার সুপারিশ করা হয়। সুপারিশে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে যে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে তাদের অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা। ওই সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১ টাকা অভিহিত মূল্যেও ছিল ১টি, ১০ টাকার ৬৩টি, ১০০ টাকার ১৯৮টি এবং ১০০০ টাকার ২টি কোম্পানি।

এসইসির এ সুপারিশের পরই ১০টি কোম্পানি তাদের শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়ে তা অনুমোদনের জন্য এসইসিতে আবেদন করে। গত ২০১০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এসইসির কমিশন মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, বর্তমানে বাজারে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানির অভিহিত মূল্য পরিবর্তন করা হবে না। ১ মার্চ কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্যে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। এ সময়ে ওই ১০টি কোম্পানির আবেদন ফিরিয়ে দেয় এসইসি। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, পরবর্তীতে আর কোন তালিকাভুক্ত কোম্পানি অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবে না।

এসইসির এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ওই কোম্পানির উদ্যোক্তারা মামলার প্রস্তুতি নেন। ফলে ১০টি কোম্পানির আবেদন বিবেচনার জন্য উদ্যোক্তাদের মৌখিক আশ্বাস দেন এসইসির চেয়ারম্যান।

গত ২০১০ সালের ৭ এপ্রিল এসইসির প থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার মূল্যে সমতা আনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়। এ নিয়ে কয়েক দফা সিদ্ধান্তের পর গত বছরের ১০ মে অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেয়, উদ্যোক্তারা চাইলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় নামিয়ে আনতে পারবে। তবে আগামীতে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা। এরপরই অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের হিড়িক পড়ে। বুধবার আবার এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করলো এসইসি।

Tuesday, February 1, 2011

মার্জিন ঋণ নির্ধারণ করবে মার্চেন্ট ব্যাংকঃ এসইসি


মার্জিন ঋণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের হস্তপে করবে না পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিউিরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ ব্যাপারে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিশনে জমা দিবেন। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ প্রদানের হার নির্ধারণ করবে। মঙ্গলবার এসইসিতে এক আলোচনা সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের মূখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

সাইফুর রহমান বলেন, মার্জিন ঋণের নীতিমালা তৈরির ব্যাপারে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে নিুোক্ত বিষয়গুলোর ওপর নজর রাখতে হবে। তাহলো গ্রাহকদের হিসাবে রতি সিকিউরিটিজের মূল্যায়ন পদ্ধতি, জোরপূর্বক শেয়ার বিক্রির েেত্র প্রযোজ্য নিয়মাবলীতে এসইসির নীতিমালা অনুসরণ এবং মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো ছয় মাস অন্তর অন্তর তাদের নির্ধারিত মার্জিন ঋণের হার পরিবর্তন করতে পারবে। তবে এ েেত্র জানুয়ারির প্রথম কর্মদিবস ও জুলাইয়ের প্রথম কার্যদিবস থেকে কার্যকর হবে। একইসঙ্গে ডিএসই ও সিএসই তাদের সদস্য স্টক ব্রোকারদের কাছ থেকে মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রতি মাসের নির্ধারিত সময়ে এসইসিতে প্রদান করবে। এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো একই সময়ে সরাসরি এসইসিতে তাদের তথ্য প্রদান করবে।

সাইফুর রহমান আরও বলেন, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে (এসআরও) স্টক এক্সচেঞ্জগুলো এখন থেকে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের লেনদেন স্থগিত, বা যেকোনো ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। তবে বিষয়টি তাৎণিকভাবে এসইসিকে অবহিত করতে হবে।

এসইসির মূখপাত্র বলেন, পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরে পরমার্শ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই স্টক এক্সচেঞ্জ যাতে এসআরও হিসেবে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে সে লে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। এতে বাজার স্বাভাবিক গতিতে চলবে বলেও তিনি আশা করেন।

সভায় অন্যের মধ্যে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার, নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ, তারিকুজ্জামান, সাইফুর রহমান, ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী, সিএসইর  প্রেসিডেন্ট ফকর উদ্দিন আলী আহমেদ ও মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মর্তুজা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

Tuesday, January 18, 2011

স্টক ডিলারাদের জামানতবিহীন লেনদেন সীমা ১৫ কোটি টাকা নির্ধারণ, দরপতনের মুখে আবারও দুই বাজারে লেনদেন বন্ধ

সব কোম্পানির ফেস ভ্যালু ১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত
 দরপতনের মুখে আবারও দুই বাজারে লেনদেন বন্ধ
স্টক ডিলারদের জন্য মেম্বারস মার্জিনের জামানতবিহীন লেনদেন সীমা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকায় নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল বড় ধরণের দরপতনের কারণে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত সবগুলো কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য (ফেস ভ্যালু) ১০ টাকার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি।

শেয়ার বাজারের চলমান মন্দা কাটাতে মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সুপারিশের প্রেক্ষিতে বুধবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন কমিশনের মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূইয়া। আজ বুধবার থেকে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আবারও স্বাভাবিক লেনদেন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসিরউদ্দিন চৌধুরী এবং ডিএসইর সিইও সতিপতি মৈত্র উপস্থিত ছিলেন ।

উল্লখ্য, মেম্বারস মার্জিনের ফ্রি সীমা শুধুমাত্র স্টক ডিলারদের শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারুল কবীর ভুইয়া বলেন, পুঁজিবাজারে বড় দরপতনের আশঙ্কায় এসইসি দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। বেলা দেড়টা নাগাদ ডিএসইর সূচক ২৩৭ পয়েন্ট পতন হলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে ডিএসইর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে এসইসি। পুঁজিবাজারের বর্তমান সঙ্কট কাটাতে ডিএসই থেকে দুটি সুপারিশ করা হয়। সেগুলো হলো স্টক ডিলারদের জন্য মেম্বারস মার্জিনের ফ্রি সীমা বাড়ানো এবং সবগুলো কোম্পানির অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করা। এসইসি ওই দুটি সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বিবেচনায় স্টক ডিলারদের জন্য মেম্বারস মার্জিনের ফ্রি সীমা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ স্টক ডিলাররা যদি সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয় করেন, তাহলে ওই পরিমাণের শেয়ারের বিপরীতে কোন নিরাপত্তা জামানত রাখতে হবে না। তবে ডিএসইর সুপারিশ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত সবগুলো কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণের বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও কবে থেকে তা বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এছাড়া পুঁজিবাজারের তারল্য সঙ্কট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি বলে কবীর সাংবাদিকদের জানান।

আনোয়ারুল কবীর আরও জানান, এসব বাস্তবায়ন হলে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর শেয়ার কেনার মতা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বর্ধিত ক্রয়মতা কার্যকর করলে বাজারে শেয়ার কেনার প্রবণতা বাড়বে। শেয়ারের দর ও সূচকে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজারের নেতিবাচক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, মূলত: বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণেই পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের ঘটনা ঘটছে। বাজারের এ পরিস্থিতিতে ডিএসই মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেছে। মার্চেন্ট ব্যাংকের বক্তব্য শুনার পর সরকারের কাছে আমরা পুঁজিবাজারে সংকট উত্তোরনে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবো বলে শাকিল রিজভী জানান। ট্রেড বন্ধ বিষয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই ট্রেড সাময়িকভাবে বন্ধের উদাহরণ রয়েছে। শাকিল রিজভী অভিযোগ করেন, একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেল স্টক এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারনা চালানোর কারণেও পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে।



দরপতনের মুখে আবারও দুই বাজারে লেনদেন বন্ধ
অব্যাহত দরপতনের মুখে দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের (ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ) লেনদেন। গতকাল দুপুর একটা ৪০ মিনিটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এ সিদ্ধান্ত নেয়। পরে এসইসি'র সদস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে আজ বুধবার ফের স্বাভাবিক লেনদেন শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বাজারে ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর পড়ে যাবার আশঙ্কায় লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসইসি।
প্রত্যদর্শীরা জানান, দরপতনের মধ্য দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল লেনদেন শুরু হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাধারণ মূল্যসূচক ৭৬ পয়েন্ট নেমে যায়। এরপর সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২৩৭.৩৩ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ২১ শতাংশ কমে গেলে চিন্তিত হয়ে পড়ে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। ফলে এসইসি তাৎণিকভাবে ডিএসইর লেনদেন বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনও। এর আগে গত সোমবার লেনদেনের ৫০ মিনিটের মাথায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বড় ধরেণর দরপতন হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুই স্টক এক্সচেঞ্জেরই লেনদেন বন্ধ করে দেয়।

এদিকে টানা চারদিন ধরে অব্যাহত দরপতনের ফলে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা গতকাল বেলা একটার দিকে ডিএসইর সামনের রাস্তায় নেমে আসে। তবে পুলিশের বাধার মূখে তারা বারবার চেষ্টা করেও কোনো কর্মসূচী পালন করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ডিএসইর সামনের রাস্তার পাশে জড় হয়ে দফায় দফায় বিােভ প্রদর্শন করেন। এসময় তারা ডিএসই ও এসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সেøাগান দিতে থাকেন। পরে সাড়ে তিনটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
 
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গতকাল ডিএসইর সাধারণ সূচক ২৩৭.৩৩ পয়েন্ট কমে ৭১৪০.৩৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে যায়। লেনদেন হওয়া ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম কমেছে ২৩৪টির এবং বেড়েছে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এদিন ডিএমইতে মোট ৬০৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

এদিকে ডিএসইর লেনদেন বন্ধের পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেনও বন্ধ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সিএসই সাধারণ মূল্যসূচক ৪৬১.৩০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২০ শতাংশ কমে ২০৫৩৫.৪৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এসময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১০টির এবং কমেছে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এদিন সিএসইতে ৫৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়।

উল্লেখ্য, এ বছরের এ পর্যন্ত ১৩ কার্যদিবসের ১০ দিনই দরপতন হয়েছে পুঁজিবাজারে। এরমধ্যে পতনের মুখে মঙ্গলবারসহ দুই কার্যদিবসে লেনদেন বন্ধ করে দেয় এসইসি। গত ১০ জানুয়ারি ডিএসই'র সাধারণ সুচক ৬৬০ পয়েন্ট পড়ে যায়। দিনের লেনদেনের প্রথম ৫০ মিনিটে সাধারণ সুচক কমার নতুন রেকর্ড হয় ডিএসই'তে। ওই পরিস্থিতিতে লেনদেন বন্ধ ঘোষণা করে এসইসি। তবে মঙ্গলবার বাজারে শেয়ার ক্রেতা না থাকায় আবারও বড় ধরনের পতনের আশঙ্কায় লেনদেন বন্ধ করে দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

Monday, December 13, 2010

মার্জিন ঋণের হার বাড়িয়েছে এসইসি


পুঁজিবাজারের দরপতন ঠেকাতে শেয়ার ক্রয়ে মার্জিন ঋণের হার বাড়িয়েছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এখন থেকে শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূর্বের ১:০.৫ এর পরিবর্তে ১:১ হারে মার্জিন ঋণ প্রদান করতে পারবে ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সোমবার এসইসির বাজার পর্যালোচনা  কমিটিতে পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় শেয়ার ক্রয়ে মার্জিন ঋণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে জানিয়েছেন এসইসির নির্বাহি পরিচালক সাইফুর রহমান। সোমবার থেকেই এসইসির এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এর আগে গত ২১ নভেম্বর শেয়ারের অতি মূল্যায়ন এবং পুঁজিবাজারের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমূখী প্রবণতার রাশ টেনে ধরতে মার্জিন ঋণের হার কমিয়ে পূর্বের ১:১ এর পরিবর্তে ১:০.৫ হারে মার্জিন ঋণ প্রদান করতে নির্দেশ দেয় এসইসি।

গত সপ্তাহ থেকে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতনের ফলে অধিকাংশ শেয়ারের দর হারায়। বিশেষ করে এসইসি সদস্য মনসুর আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে গত ৬ ও ৭ ডিসেম্বর চেক নগদায়ন এবং নেটিং সুবিধা সংক্রান্ত দুটি নির্দেশনা জারি করার পর থেকেই পুঁজিবাজারে ব্যাপক ধস নামে। যদিও ৮ ডিসেম্বর উক্ত দুটি নির্দেশনার কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। কিন্তু তারপরও পুঁজিবাজারের দরপতন ঠেকানো যায়নি। অব্যাহত দরপতনের মুখে এবং বিনিয়োগকারীদের কথা চিন্তা করে সোমবার মার্জিন ঋণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।  

Thursday, November 25, 2010

বুক বিল্ডিং আইনে সংশোধন ১৫ দিনে আইপিও প্রক্রিয়া

এইসির আশা বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়বে

বিদ্যমান বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইন সংশোধন করে আইপিও সময়সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এসইসির সিদ্ধান্ত অনুসারে এখন থেকে মাত্র ১৫ দিনে আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এছাড়া বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রজেক্টেড আর্নিং প্রাইস ও রোড শো বিষয়ে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এসইসির নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সভা শেষে এসইসির নির্বাহি পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামান জানান, বিদ্যমান বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধনের জন্য ইতোপূর্বে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ও মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। ওই রিভিউ কমিটির মতামত যাচাই-বাছাই করে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইন সংশোধন করে আইপিও সময়সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে বুক বিল্ডিং আইনের ২৫ দিনের পরিবর্তে মাত্র ১৫ দিনে আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এতে করে বাজারে শেয়ার সরবরাহ বাড়বে এবং দ্রুত আইপিও প্রক্রিয়া হবে বলে কমিশন মনে করে। এছাড়া বিডিং প্রক্রিয়া শেষ করে দুই দিনের মধ্যে এসইসির কাছে আবেদন জমা দেয়া বাধ্যবাধকতা এবং ১৫ দিনের মধ্যে সাবসক্রিপশন সম্পন্ন করার বিধান করা হয়েছে। এর আগে বিডিং শেষ করে ৩ থেকে ৫ দিনে এসইসিতে আইপিওর জন্য আবেদন জমা দেয়ার রুল ছিল। ইতিপূর্বে বুক বিল্ডিং আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে বিতর্ক হওয়ায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনকে  সংশোধন করার জন্য দায়িত্ব দেয় এসইসি। এ তিন প্রতিষ্ঠানের পরামর্শের ভিত্তিতে এসইসি বুক বিল্ডিং আইনের সংশোধন করেছে। সংশোধনী অনুসারে এখন থেকে রোড শোর ইনফরমেশন  মেমোরেন্ডাম মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বাংলাদেশ লিজিং কোম্পানিজ এসোসিয়েশন, ইন্সুরেন্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ লিস্টেট কোম্পানিজ এসোসিয়েশন ও ব্যংার্কাস এসোসিয়েশনকে পাঠাতে হবে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কোন কোম্পানির বিডিংয়ে অংশগ্রহণ করতে হলে অবশ্যই রোড শোতে অংশগ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধিত বিধানে প্রজেক্টেট আর্নিং প্রাইস অর্থাৎ ভবিষ্যতে আয় হতে পারে ধরে ইপিএস গণনা  বা প্রিমিয়াম ধরা যাবে না। একইসাথে স্বল্প সময়ে আইপিও প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।  এটিএম তারিকুজ্জামান সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জানান, আইপিও প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে সময় কমিয়ে আনতে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিপূর্বে দুই স্টক এক্সচেঞ্জ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনকে বুক বিল্ডিং আইনের যেসব বিষয়ে সংশোধনী করা যেতে পারে সেসব বিষয়ে পরামর্শ দিতে বলা হয়। এরই প্রেক্ষিতে কমিশন আজকের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  উল্লেখ্য ইতিপূর্বে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা রোড শোতে  অংশগ্রহণ না করেই বিডিংয়ে অংশগ্রহণ করতে পারত। আর ভবিষ্যতে কত আয় হতে পারে এমন একটি অদ্ভুত তথ্য এনে ইপিএস ও মুনাফা ধরে নির্দেশক মূল্য ধরা হতো। আর এতে করে বেশিরভাগ কোম্পানির প্রিমিয়াম অতিমাত্রায় বা ৪০ পিই রেশিও এর বেশি হতো। পূর্বের পদ্ধতিতে কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো প্রিমিয়াম নিলেও এসইসি বাধা দিতে পারেনি। বর্তমানে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির আইন সংশোধন হওয়ায় নির্দেশক মূল্য সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে বলে এসইসি আশা প্রকাশ করছে।

পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যমুনা মবিলের আইপিও অনুমোদন

তিন কোম্পানির ৯৬৯ কোটি টাকার আইপিও এবং একটি রাইট শেয়ার অনুমোদন

দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মবিল যমুনা লুব্রিক্যান্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের (এমজেএলবিএল) আইপিও অনুমোদন দিয়েছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গ্রামীণফোনের পর এমজেএলবিএল কোম্পানি পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় আইপিও নিয়ে বাজারে আসছে। এ কোম্পানিটি বাজারে ৬০৯ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়বে। এছাড়া এসইসি বৃহস্পতিবার আরও দু’টি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানি দু’টি হচ্ছেÑ এমআই সিমেন্ট ও স্যালভো  কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। একই সঙ্গে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের রাইট শেয়ারের অনুমোদন দিয়েছে এসইসি। বৃহস্পতিবার এসইসির নিয়মিত সভায় তিনটি আইপিও এবং রাইট শেয়ারের অনুমোদন দেয়া হয়।

কমিশনের বৈঠক শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামান জানান, এমজেএলবিএল’র ৬০৯ কোটি টাকার আইপিও’র (প্রাথমিক গণ প্রস্তাব) অনুমোদন দেয়া হয়েছে, যা কিনা পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিও। কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪ কোটি শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়বে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ধরা হয়েছে ১৫২.৪০ টাকা। এ হিসেবে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ৬০৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এমজেএলবিএল’র পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ১৪০ কোটি টাকা।

এছাড়া এসইসির অনুমোদন পাওয়া এমআই সিমেন্ট পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে ৩৩৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। মোট ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার মাধ্যম কোম্পানিটি বাজার থেকে এ টাকা সংগ্রহ করবে।  ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য হচ্ছে ১১১.৬০ টাকা। এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ৭০ কোটি টাকা। আইপিও পরবর্তি এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন দাঁড়াবে ১০০ কোটি টাকায়।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার এসইসির অনুমোদন পাওয়া আরেক কোম্পানি স্যালভো ক্যামকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ২৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এ কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য হচ্ছে ১০ টাকা। আইপিও পরবর্তি এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন দাঁড়াবে ৪০ কোটি টাকায়। এছাড়া বৃহস্পতিবার কমিশনের সভায় ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের রাইট শেয়ারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতি একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার পাওয়া যাবে। এ কোম্পানির প্রতিটি রাইট শেয়ারের দর রাখা হবে ৩০০ টাকা (২০০ টাকা প্রিমিয়ামসহ)।

Monday, November 22, 2010

এসইসিকে এক কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য জানানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত

শেয়ার নিস্পত্তি না হওয়ায় লংকা-বাংলা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

এসইসিকে এক কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য জানানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত:
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য জানানোর বিষয়ে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। রোববার এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। লেনদেনের তথ্য স্থগিত সংক্রান্ত চিঠি গতকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে বলে এসইসি‘র একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ অক্টোবর শেয়ারবাজারে অব্যাহত উর্ধ্বগতি এবং উচ্চ আদালতের আদেশে মার্জিন ঋণ ও আর্থিক সমন্বয় (নেটিং) সুবিধা সংক্রান্ত এসইসির জারি করা নির্দেশনার কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এসইসি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য জানানোর নির্দেশনা জারি করে। এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কোন গ্রাহক দিনে এক কোটি টাকা এবং স্টক ডিলাররা দিনে এক কোটি ডলারের বেশি লেনদেন করলেই তার তথ্য এসইসিকে জানানোর বাধ্যবাধকতা ছিল। মূলত বড় লেনদেনের উপর নজরদারি বৃদ্ধি ও অনিয়ম রোধে পরিদর্শন কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে সে সময় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এসইসি।
৪ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্রোকারেজ হাউসের কোনো গ্রাহক একদিনে ১ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করলে ওই দিনই এসইসিকে এ সংক্রান্ত তথ্য জানাতে হবে। একইভাবে কোনো স্টক ডিলার একদিনে ১ কোটি ডলার লেনদেন করলে সে তথ্যও কমিশনকে জানানোর নিয়ম ছিল। ব্রোকারেজ হাউস ও ডিলারদেরকে প্রতিদিনের লেনদেন শেষে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ক্রয়-বিক্রয়াদেশের কপি, হোল্ডিং রিপোর্ট, পূর্ববর্তী এক সপ্তাহের আর্থিক বিবরণী, পোর্টফলিও ঘোষণা এবং পূর্ববর্তী এক সপ্তাহের লেনদেনের সংক্ষিপ্ত বিবরণী এসইসিতে পাঠাতে হবে।

তবে এখন মার্জিন ঋণ ও নেটিং সুবিধার বিষয়ে কোন স্থগিতাদেশ না থাকায় এবং রোববার মার্জিন ঋণের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনায় লেনদেনের তথ্য জানার আপাতত কোন প্রয়োজনীয়তা নেই বলে তা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শেয়ার নিস্পত্তি না হওয়ায় লংকা-বাংলা সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য লংকা-বাংলা সিকিউরিটিজ ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) শেয়ার লেনদেন নিস্পত্তি করতে ব্যর্থ হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
তদন্ত কমিটির সদস্য হচ্ছেন এসইসির পরিচালক রিপন কুমার দেবনাথ ও সহকারী পরিচালক তানিয়া শারমিন। কমিটিকে আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ৮ নভেম্বর লংকা-বাংলা সিকিউরিটিজে ডেসকোর ১৫ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়। কিন্তু নিদৃষ্ট সময় পার হওয়া সত্ত্বেও এসব শেয়ার নিস্পত্তি না হওয়ায় এ অস্বাভাবিক কর্মকান্ডের বিষয়টি এসইসির নজরে আসে। সোমবার এসইসি জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় এনে লেনদেন নিস্পত্তি না হওয়ার বিষয়টি তদন্তের জন্য দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ডেসকো’র শেয়ার নিস্পত্তি না হওয়ার বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের খুজে বের করবে। শেয়ার লেনদেন নিস্পত্তিতে লংকা-বাংলা সিকিউরিটিজের পাশাপাশি এ বিষয়ে ডিএসই কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে এসইসি জানিয়েছে।

Sunday, November 21, 2010

আবারও মার্জিন ঋণ কমাল এসইসি


শেয়ারবাজারের অব্যাহত ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। রোববার এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় বাজারের এই অস্বাভাবিক ঊর্ধগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে, শেয়ারের অতি মূল্যায়ন এবং শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবনতার রাশ টেনে ধরতে আবারও মার্জিন ঋণের হার কমিয়েছে এসইসি। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (এসইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে আগের ১:১ এর পরিবর্তে ১:০.৫ হারে মার্জিন ঋণ প্রদান করতে হবে। আজ সোমবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে এসইসির মূখপাত্র নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ জানিয়েছেন। রোববার এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
 
ফরহাদ আহমেদ জানান, শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক উর্ধমুখী প্রবনতা এবং তারল্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রনে এসইসি মার্জিন ঋনের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্জিন ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে সোমবার থেকেই এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী মার্জিন ঋণ প্রদান করতে হবে। তবে পূর্বের দেয়া ১:১ হারে মার্জিন ঋণ সমন্বয় করতে হবে কিনা সে বিষয়ে এসইসির পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।
এছাড়া তিনি আরও জানান, নতুন বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিনিফিসিয়ারি ওনার (বিও) হিসাব খোলার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত শেয়ার লেনদেনে কোন মার্জিন ঋণ দেয়া যাবে না বলে রোববারের বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়া বিনিয়োগকারীদর উদ্দেশ্যে এসইসি বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে তথ্য দেয় এখন থেকে সেসব তথ্য ঢাকা ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জকে তাদের ওয়েবসাইটে প্রচার করতে হবে বলে এসইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসইসির নেয়া এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন ফরহাদ আহমেদ।

উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারে ক্রমবর্ধমান শেয়ার সঙ্কট এবং অধিক পরিমাণে তারল্য প্রবাহের কারণে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ সিকিউরিটিজ অতি মূল্যায়িত হয়ে পড়ছে। একই সময়ে এক বছরে দ্বিগুণ সংখ্যক বিনিয়োগকারীর উপস্থিতির কারণে শেয়ার সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। এ অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ বন্ধের সুপারিশ করে। এরপর থেকেই মার্জিন ঋণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এসইসি কয়েকবার বৈঠকে বসে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার মার্জিন ঋনের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সাথে শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থায় নতুন বিনিয়োগকারীদের অনুৎসাহিত করতে বিও হিসাব খোলার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসে শেয়ার ক্রয়ের জন্য কোন মার্জিন সুবিধা দেয়া যাবে না বলে এসইসি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

প্রসঙ্গত, গত আগস্ট মাসে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের সভাপতিত্ত্বে পর্যালোচনা কমিটির সভায় সব কমিশন সদস্য এবং বাজার সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালকদের উপস্থিতিতে বাজারের উর্ধমুখী রোধে ঋণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে (শেয়ারের এনএভি + শেয়ারের বাজার মুল্য) কে ২ দিয়ে ভাগ করে ওই ভাগফলের সমপরিমাণ টাকা মার্জিন ঋণ হিসেবে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। 
এছাড়া ওই সভায় এও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যেসব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ ইতোমধ্যে ওই পরিমাণ টাকার বেশি মার্জিন লোন প্রদান করেছে তাদের কে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সমন্বয় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থ্যৎ কোনো কোম্পানির শেয়ারের এনএভি ৫০০ টাকা এবং ওই শেয়ারের বাজার মূল্য যদি ১ হাজার টাকা হয়। তাহলে শেয়ারের এনএভি ও বাজার মূল্যের যোগফল ১ হাজার ৫০০ টাকা কে ২ দিয়ে ভাগ করে ওই শেয়ারের বিপরীতে ৭৫০ টাকা মার্জিন লোন সুবিধা পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে ওই আগস্ট মাসের শেষের দিকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসইসির ঋণ কমানোর সিন্ধান্তকে ভিন্ন মত পোষণ করে বলেছিলেন, ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারল্য প্রবাহ কমিয়ে বাজারের লাগাম টানার চেষ্টা খুব একটা সফল হবে না। যুক্তি হিসেবে তারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে যেসব শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, সেগুলোর বড় অংশই ঋণসুবিধার বাইরে রয়েছে। অপরদিকে অপেক্ষাকৃত ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম ঋণসুবিধা পাওয়ার পরও কমছে। এতে বোঝা যায়, শেয়ার অতিমূল্যায়িত হওয়ার পেছনে ঋণের ভূমিকা খুবই সামান্য। 
তা ছাড়া গত এক বছরে বিভিন্ন সময় ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা তেমনভাবে সফল হয়নি। এর বড় কারণ বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ রয়েছে। তাই ঋণ নিয়ন্ত্রণ নয়, বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নতুন নতুন শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো। তারপরও শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ঋণ কমিয়ে তারল্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে জটিল কোনো প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরাসরি ঋণসীমা কমিয়ে তা করতে পারে। তাহলে তার পরিপালনও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনেক সহজ হবে।