শেয়ারবাজারের অব্যাহত ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। রোববার এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় বাজারের এই অস্বাভাবিক ঊর্ধগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে, শেয়ারের অতি মূল্যায়ন এবং শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবনতার রাশ টেনে ধরতে আবারও মার্জিন ঋণের হার কমিয়েছে এসইসি। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (এসইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে আগের ১:১ এর পরিবর্তে ১:০.৫ হারে মার্জিন ঋণ প্রদান করতে হবে। আজ সোমবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে এসইসির মূখপাত্র নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ জানিয়েছেন। রোববার এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ফরহাদ আহমেদ জানান, শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক উর্ধমুখী প্রবনতা এবং তারল্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রনে এসইসি মার্জিন ঋনের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্জিন ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে সোমবার থেকেই এসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী মার্জিন ঋণ প্রদান করতে হবে। তবে পূর্বের দেয়া ১:১ হারে মার্জিন ঋণ সমন্বয় করতে হবে কিনা সে বিষয়ে এসইসির পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।
এছাড়া তিনি আরও জানান, নতুন বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিনিফিসিয়ারি ওনার (বিও) হিসাব খোলার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবস পর্যন্ত শেয়ার লেনদেনে কোন মার্জিন ঋণ দেয়া যাবে না বলে রোববারের বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়া বিনিয়োগকারীদর উদ্দেশ্যে এসইসি বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে তথ্য দেয় এখন থেকে সেসব তথ্য ঢাকা ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জকে তাদের ওয়েবসাইটে প্রচার করতে হবে বলে এসইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসইসির নেয়া এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন ফরহাদ আহমেদ।
উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারে ক্রমবর্ধমান শেয়ার সঙ্কট এবং অধিক পরিমাণে তারল্য প্রবাহের কারণে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ সিকিউরিটিজ অতি মূল্যায়িত হয়ে পড়ছে। একই সময়ে এক বছরে দ্বিগুণ সংখ্যক বিনিয়োগকারীর উপস্থিতির কারণে শেয়ার সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। এ অবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ বন্ধের সুপারিশ করে। এরপর থেকেই মার্জিন ঋণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এসইসি কয়েকবার বৈঠকে বসে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার মার্জিন ঋনের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সাথে শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থায় নতুন বিনিয়োগকারীদের অনুৎসাহিত করতে বিও হিসাব খোলার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসে শেয়ার ক্রয়ের জন্য কোন মার্জিন সুবিধা দেয়া যাবে না বলে এসইসি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
প্রসঙ্গত, গত আগস্ট মাসে এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের সভাপতিত্ত্বে পর্যালোচনা কমিটির সভায় সব কমিশন সদস্য এবং বাজার সংশ্লিষ্ট নির্বাহী পরিচালকদের উপস্থিতিতে বাজারের উর্ধমুখী রোধে ঋণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে (শেয়ারের এনএভি + শেয়ারের বাজার মুল্য) কে ২ দিয়ে ভাগ করে ওই ভাগফলের সমপরিমাণ টাকা মার্জিন ঋণ হিসেবে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
এছাড়া ওই সভায় এও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যেসব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ ইতোমধ্যে ওই পরিমাণ টাকার বেশি মার্জিন লোন প্রদান করেছে তাদের কে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা সমন্বয় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অর্থ্যৎ কোনো কোম্পানির শেয়ারের এনএভি ৫০০ টাকা এবং ওই শেয়ারের বাজার মূল্য যদি ১ হাজার টাকা হয়। তাহলে শেয়ারের এনএভি ও বাজার মূল্যের যোগফল ১ হাজার ৫০০ টাকা কে ২ দিয়ে ভাগ করে ওই শেয়ারের বিপরীতে ৭৫০ টাকা মার্জিন লোন সুবিধা পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে ওই আগস্ট মাসের শেষের দিকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসইসির ঋণ কমানোর সিন্ধান্তকে ভিন্ন মত পোষণ করে বলেছিলেন, ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারল্য প্রবাহ কমিয়ে বাজারের লাগাম টানার চেষ্টা খুব একটা সফল হবে না। যুক্তি হিসেবে তারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে যেসব শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, সেগুলোর বড় অংশই ঋণসুবিধার বাইরে রয়েছে। অপরদিকে অপেক্ষাকৃত ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম ঋণসুবিধা পাওয়ার পরও কমছে। এতে বোঝা যায়, শেয়ার অতিমূল্যায়িত হওয়ার পেছনে ঋণের ভূমিকা খুবই সামান্য।
তা ছাড়া গত এক বছরে বিভিন্ন সময় ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা তেমনভাবে সফল হয়নি। এর বড় কারণ বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ রয়েছে। তাই ঋণ নিয়ন্ত্রণ নয়, বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নতুন নতুন শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো। তারপরও শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ঋণ কমিয়ে তারল্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে জটিল কোনো প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরাসরি ঋণসীমা কমিয়ে তা করতে পারে। তাহলে তার পরিপালনও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনেক সহজ হবে।
অন্যদিকে ওই আগস্ট মাসের শেষের দিকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসইসির ঋণ কমানোর সিন্ধান্তকে ভিন্ন মত পোষণ করে বলেছিলেন, ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারল্য প্রবাহ কমিয়ে বাজারের লাগাম টানার চেষ্টা খুব একটা সফল হবে না। যুক্তি হিসেবে তারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে যেসব শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, সেগুলোর বড় অংশই ঋণসুবিধার বাইরে রয়েছে। অপরদিকে অপেক্ষাকৃত ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম ঋণসুবিধা পাওয়ার পরও কমছে। এতে বোঝা যায়, শেয়ার অতিমূল্যায়িত হওয়ার পেছনে ঋণের ভূমিকা খুবই সামান্য।
তা ছাড়া গত এক বছরে বিভিন্ন সময় ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা তেমনভাবে সফল হয়নি। এর বড় কারণ বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ রয়েছে। তাই ঋণ নিয়ন্ত্রণ নয়, বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নতুন নতুন শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো। তারপরও শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ঋণ কমিয়ে তারল্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে জটিল কোনো প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরাসরি ঋণসীমা কমিয়ে তা করতে পারে। তাহলে তার পরিপালনও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনেক সহজ হবে।
No comments:
Post a Comment