Showing posts with label ডিএসই. Show all posts
Showing posts with label ডিএসই. Show all posts

Monday, July 13, 2020

শেয়ারবাজারে আসছে ব্যাংকের ১১১ কোটি বোনাস শেয়ার

ডেস্ক রিপোর্ট: শেয়ারবাজারে আসছে তালিকাভুক্ত ১৯ ব্যাংকের ১১১ কোটি বোনাস শেয়ার। যেগুলোর বর্তমান বাজার দর রয়েছে ১ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। কিন্তু শেয়ারবাজারে বর্তমানে এই বিশাল বোনাস শেয়ারের চাপ নেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

২০১৯ সালের ব্যবসায় শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে ৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এছাড়া ১৫টি ব্যাংকের পর্ষদ নগদের পাশাপাশি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ ২০১৯ সালের ব্যবসায় ১৯টি ব্যাংকের বোনাস শেয়ার শেয়ারবাজারে যোগ হতে যাচ্ছে।

Friday, July 10, 2020

৪০ ব্রোকারেজ হাউসে গ্রাহকদের জমা করা অর্থের ঘাটতির তথ্য পাওয়া গেছে

ডেস্ক রিপোর্ট: শুধু ক্রেস্ট নয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ১০ ব্রোকারেজ হাউসের সমন্বিত গ্রাহক অ্যাকাউন্টে অর্থ ঘাটতির প্রমাণ মিলেছে। ১৭ হাউস সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য পেয়েছে। এগুলোসহ অন্তত ৪০ হাউসে গ্রাহকদের জমা করা অর্থের ঘাটতির তথ্য পাওয়া গেছে। অবশ্য বেশিরভাগ হাউসে তা কোটি টাকার কম। চলিত মাসের মধ্যে সবাইকে ঘাটতি পূরণের নির্দেশ দিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ডিএসই এসব প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্নিষ্টদের তলব করেছে। তবে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে অনেক হাউস ধার করে বা সরিয়ে নেওয়া অর্থ অ্যাকাউন্টে ফেরত দিয়ে ঘাটতি মেটাতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। করোনাকালে ছুটির সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং অফিস ভাড়া পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার কারণে অনেক হাউসের ঘাটতি হয়েছে বলে সংশ্নিষ্টরা দাবি করেছে।

Tuesday, June 30, 2020

পুঁজিবাজারে লাভজনক বিনিয়োগের জন্য যে ৬টি কৌশল আপনাকে জানতেই হবে

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে অর্থ উপার্জন করা লাভজনক ব্যবসা হলেও অনেকে এটাকে একটু ভিন্ন চোখে দেখেন। আসলে এই বাজারে কীভাবে বিনিয়োগ করতে হবে, কেমন শেয়ার কিনতে হবে, কখন তা বিক্রি করতে হবে; তা সঠিকভাবে না জানার কারণে এমন ধারণার জন্ম হয়েছে। তবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সঠিক সময়ে বিনিয়োগ করতে পারলে সেখান থেকে ভালো মুনাফা আনা সম্ভব। 

ব্রোকার হাউজ লাপাত্তা? তাতে কি? নিজের বিও অ্যাকাউন্ট নিজেই নিরাপদ রাখতে পারেন, কোনো অর্থ ছাড়াই

স্টাফ রিপোর্টার: জুন মাসের শুরুতেই দেশের পুঁজিবাজারে ঘটে গেছে বড় একটি দূর্ঘটনা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেডের মালিকরা সব অফিস বন্ধ করে দিয়ে আত্মগোপন করেছেন। এতে ব্রোকারহাউজের ২১ হাজার গ্রাহকের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকরা গোপনে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে কি-না, তাদের টাকা আছে কি-না, ওই শেয়ার ও টাকা ফেরত পাবেন কি-না তা নিয়ে তাদের মনে সন্দেহের জাল দানা বেধেছে। 

শুধু ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের গ্রাহক নয়, ওই ঘটনায় অন্যান্য ব্রোকারহাউজের গ্রাহকদের মনেও দেখা দিয়েছে কিছুটা দ্বিধা ও সন্দেহ। অথচ চাইলে একজন বিনিয়োকারী নিজেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে পারেন। সব সময় আপডেট থাকতে পারেন তার বিও অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ারের অবস্থা সম্পর্কে। 

পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ ১ বছর

স্টাফ রিপোর্টার: কালোটাকা সাদা করা অর্থাৎ অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা পুঁজিবাজারসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের বিধান রেখে অর্থবিল ২০২০ পাস হয়েছে সংসদে। তবে এতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজেট ঘোষণার দিনে অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করতে চাইলে তিন বছরের লকইনের প্রস্তাব করেছিলেন। সেটি কমিয়ে এক বছর করা হয়েছে।

তবে শেয়ারবাজার ছাড়া অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো লক-ইন বা শর্ত না থাকায় এই পরিবর্তনে সংশ্লিষ্টদের খুশি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এতে পুঁজবাজারেও তেমন ওই অর্থ আসার সম্ভাবনা থাকবে না।

ব্রোকারহাউজের মূলধন ১০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব

বিএসইসি ও ডিএসইতে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের চিঠি 

স্টাফ রিপোর্টার: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে প্রত্যেক ব্রোকারহাউজের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১০০ কোটি করার প্রসস্তাব দিয়েছে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। আর তার জন্য সর্বোচ্চ এক বছর সময় বেঁধে দেয়ারও দাবি করেছে সংগঠনটি। রোববার (২৮শে জুন) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লিখিতভাবে এই দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে ব্যর্থ ব্রোকারহাউজের ট্রেক স্থগিত করার দাবি করেছে।

Saturday, June 27, 2020

নিট সম্পদ মূল্যে পুঁজিবাজারে টপ ৫-এ ওয়ালটন

স্টাফ রিপোর্টার: শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি বিবেচনায় পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষ-৫ এ ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এমনকি তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো (বিএটিবিসি), বার্জার পেইন্টস, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন, রেকিট বেনকিজার ও গ্রামীণফোনের চেয়েও ওয়ালটনের শেয়ার প্রতি এনএভি বেশি। এছাড়া শেয়ার প্রতি মুনাফা বা ইপিএস বিবেচনায় তালিকাভুক্ত দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওয়ালটন দ্বিতীয় অবস্থানে।

শুধু তাই নয়; দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ইপিএস (শেয়ার প্রতি মুনাফা) নিয়ে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ওয়ালটন হাই-টেক। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ইপিএস বিবেচনায় শীর্ষ ৮-এ রয়েছে ওয়ালটন। এক্ষেত্রেও বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস ও গ্রামীণফোনের চেয়েও ওয়ালটনের ইপিএস বেশি। 

Friday, June 26, 2020

সর্বোচ্চ ইপিএস নিয়ে পুঁজিবাজারে ওয়ালটন, যেভাবে লাভবান হবেন বিনিয়োগকারীরা

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ইপিএস (শেয়ার প্রতি মুনাফা) নিয়ে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। শুধু তাই নয়; ইপিএস বিবেচনায় বর্তমানে শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর তালিকায়ও রয়েছে ওয়ালটন। এতে বিনিয়োগকারীদের লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকছে। কিভাবে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন? বাকিটুকু পড়ে জানতে হবে।
ট্রিপল এ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক এম এ হাফিজ জানান, ওয়ালটনের মতো সর্বোচ্চ ইপিএস নিয়ে আগে কোনো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি। 
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের ইপিএসের বিবেচনায় ওয়ালটনের অবস্থান শীর্ষ-৮ এ। এমনকি বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস ও গ্রামীণফোনের চেয়েও ওয়ালটনের ইপিএস বেশি। আবার তালিকাভুক্ত দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওয়ালটনের ইপিএস দ্বিতীয় অবস্থানে।

Tuesday, June 23, 2020

অবশেষে আইপিও অনুমোদন পেল ওয়ালটন

স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন দিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের ৭২৯তম নিয়মিত সভায় ওয়ালটন শেয়ারের কাট-অব প্রাইস ৩১৫ টাকায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ইপিএস নিয়ে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ওয়ালটন।

প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ওয়ালটনের শেয়ার প্রতি মুনাফা বা ইপিএস ৪৫.৮৭ টাকা।  নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি ২৪৩.১৬ টাকা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের ইপিএসের বিবেচনায় ওয়ালটন ৮ম স্থানে রয়েছে। এমনকি বহুজাতিক বার্জার পেইন্টস ও গ্রামীণফোনের চেয়েও ওয়ালটনের ইপিএস বেশি।

Monday, June 22, 2020

'বর্তমান কমিশনও কি আগের কমিশনের মতোই হলো?


বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, বর্তমান কমিশন খুব বেশি আইপিও’র অনুমোদন দেবে না। বাজারে চাহিদা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত যোগান সেভাবে বাড়ানো হবে না।


তিনি বলেন, আইনী বাধ্যবাধকতার কারণে এমনিতেই এ বছর অনেকগুলো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আইপিও অনুমোদন করতে হবে। তাই অন্য খাতের কোম্পানির  খুব একটা অনুমতি দেবেন না তারা। তবে খুব ভালো কোম্পানিগুলোকে উ৭সাহ দেওয়া হবে। 

Sunday, June 21, 2020

প্রস্তাবিত বাজেট পুঁজিবাজারকে ভাইবারেন্ট করার কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি

।। রকিবুর রহমান।।

আমরা যদি ২০২০-২১ এর বাজেটে পুঁজিবাজার related যে প্রস্তাবনাগুলো দেওয়া হয়েছে তার দিকে লক্ষ্য করি তবে দেখা যায় পুজিবাজারকে ভালো করার অথবা stable করার কোন পরিকল্পনা বা দিকনির্দেশনা এই বাজেটে নেই। পুঁজিবাজারকে vibrant এবং stable করার জন্য বিএসইসি, মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশন, ডিএসই, সিএসই, বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ, বিএএলসি (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ লিস্টেড কোম্পানি) যতগুলি প্রস্তাব দিয়েছে তার কোনোটাই consideration করা হয়নি। বরং প্রস্তাবিত বাজেটে এমন কিছু প্রস্তাব করা হয়েছে যা পুঁজিবাজারে নতুন নতুন কোম্পানি লিস্টিং করাকে নিরুৎসাহিত করবে যেমন লিস্টেড কোম্পানির corporate tax না কমিয়ে উল্টো নন-লিস্টেড কোম্পানিগুলোর corporate tax ২.৫% কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে যে সকল কোম্পানি পুঁজিবাজারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে নিজেদের শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে বা expansion  করতে চাইবে  এবং দীর্ঘমেয়াদী লোন পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করতে আগ্রহী হবে তারা বরং এখন উৎসাহিত হবে পুঁজিবাজারে না আসার জন্য। 

Saturday, June 20, 2020

‘পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরানো শুধু বিএসইসির একার কাজ নয়’

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। তবে এটি (আস্থা ফেরানো) শুধু বিএসইসির একার কাজ নয়। এখানে অনেকগুলো পক্ষ আছে, তাদেরকেও নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেকেই বিএসইসির দিকে আঙ্গুল তুলে। কিন্তু বিএসইসি শুধুই রেগুলেটর। আমাদের প্রধান কাজ আইন-কানুন প্রণয়ন করা। আইনে দেওয়া এখতিয়ারের মধ্যে থেকে পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আমরা সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের বক্তব্য শুনি, কোনো সমস্যা থাকলে সমাধানের চেষ্টা করি, বাজারের কল্যাণে আইন সংশোধনের প্রয়োজন হলে সেটিও করা হয়। কিন্তু বিএসইসি বাজারে বিনিয়োগ বা ম্যানুপুলেট (কৃত্রিমভাবে শেয়ারের মূল্য পরিবর্তনের চেষ্টা) করতে পারে না। এটি সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর কাজ।

Thursday, June 18, 2020

লেনদেনের ওপর অগ্রিম আয়কর কমানোর অনুরোধ ডিবিএর


অনলাইন ডেস্ক: ২০২০-২১ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে ব্রোকার হাউজের শেয়ার লেনদেনের ওপর প্রদেয় অগ্রিম আয়কর বিদ্যমান ০ দশমিক ০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে কমপক্ষে ০ দশমিক ০১৫ শতাংশ করার জোর অনুরোধ করেছে পুঁজিবাজারের ব্রোকারদের শীর্ষ সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিবিএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ করা হয়।

এতে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুঁজিবাজারের লেনদেন কমে যাওয়ায়, একমাত্র কমিশন আয়ের ওপর নির্ভরশীল ব্রোকারেজ হাউজগুলো ক্রমাগত লোকসানের ফলে তাদের অফিস পরিচালনা ব্যয়ভার মেটাতে না পেরে অসংখ্য শাখা অফিস ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে এবং আরও অসংখ্য শাখা অফিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে ব্রোকারদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা বিরাজ করছে। কোভিড-১৯ এর ফলে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা ব্রোকারেজ হাউজের এ সংকট আরও চরমে পৌঁছেছে।’

Monday, June 15, 2020

বিনিয়োগকারীদের অনলাইন লেনদেন করার তাগিদ ডিএসইর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানে করোনা ভাইরাস মহামারির সময়ে বিনিয়োগকারীদের অনলাইনে ট্রেডিং করার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ সময় কমপ্লায়েন্সগুলোও সঠিকভাবে পালন করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের অনলাইন ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে ডিএসই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেনিং একাডেমি আয়োজিত দু’দিনব্যাপী ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত ‘রোল অব স্টক ব্রোকার্স ইন ইন্টারন্টে বেইজড ট্রেডিং’ শীর্ষক অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনকালে ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. সাইফুর রহমান মজুমদার এসব কথা বলেন।

Saturday, June 13, 2020

ঘোষিত বাজেট অভূতপূর্ব, বিনিয়োগকারীদের অনুকূল: ডিএসই

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। দেশের প্রধান এই স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট যুগান্তকারী, অভূতপূর্ব, ব্যবসাবান্ধব ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনুকূল।

ডিএসই চেয়ারম্যান মো. ইউনুছুর রহমান “অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যত পথপরিক্রমা” শিরোনামের ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করায় অর্থমন্ত্রী ও সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

Sunday, October 9, 2011

পুঁজিবাজারে অর্ধডজন সিদ্ধান্ত ফলাফল শুন্য

পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে দফায় দফায় বৈঠক করেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। এতে অংশ নেন বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি, মার্চেন্ট ব্যাংকারস অ্যাসোসিয়েশন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি, পুঁজিবাজার সমন্বয় কমিটি ও ডিএসই’র ৩০ ব্রোকার হাউজের কর্মকর্তারা। বৈঠকগুলোতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সুপারিশ প্রস্তাব আকারে পেশ করেন। এর মধ্যে কমপক্ষে ৬টির অধিক সিদ্ধান্ত নেন এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে তারল্য সংকট উত্তরণে মিউচুয়াল ফান্ডের নীতিমালার পরিবর্তন, সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজারের ঋণসীমা বৃদ্ধি, একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ ফান্ডের তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা, শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ সীমা স্থগিত, আইসিবি ৮ মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি, আইপিডিসি’র মূলধন বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের ১৫দফা দাবিসহ আরও বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে কয়েক দিন বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলেও আবারও পতনের দিকে ধাবিত হতে থাকে পুঁজিাবাজার। ফলে বাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা দিন দিন প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও কমে যাচ্ছে।

এখনই এ সঙ্কট দূর করতে না পারলে অন্ধকার ঘনীভূত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বর্তমান পুঁজিবাজারের অবস্থা এমন পর্যায়ে চলে এসেছে, যা সারাদেশে এটি এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে শংকা প্রকাশ করছেন তারা। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোও এটিকে ইস্যু হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। 

দীর্ঘ দশ মাস ধরে পুঁজিবাজারের দর পতনকে কেন্দ্র করে বিষটি এখন রাজধানী কিংবা বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা শেয়ার মার্কেট বোঝেন না কিংবা মার্কেটে তাদের কোন ধরনের বিনিয়োগ নেই তারাদেরও বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে। আর এ কারণেই বিষয়টি সামাজিক অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুঁজি হারিয়ে আত্মহত্যা করেছেন একাধিক বিনিয়োগকারী। খুলনায় দেড় কোটি টাকার পুঁজি হারিয়ে স্টক করে মারা গেছে হাফিজুর রহমান নামের এক বিনিয়োগকারী। বগুড়াতে গোলাম মোস্তফা নামে আর এক বিনিয়োগকারী স্টক করে মারা যায়। অন্যদিকে ইতিমধ্যে পুঁজি হারিয়ে রাস্তায় বসার উপক্রম হয়েছে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। পুঁজি হারিয়ে নিস্ব হয়ে অথবা নিজের পকেটের টাকা দিয়ে হাউজের দায় মিটিয়ে শেয়াার বাজার থেকে বিদায় নিয়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী, যা এখন সর্বত্ব  আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক কর্মকর্তা বর্তমান বাজার সম্পর্কে বলেন, বাজারের এই সংঙ্কটকালে অনেক ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান শেয়ার বিক্রয় করছেন। তিনি বলেন, এই অবস্থায় কেউ শেয়ার বিক্রি করে লাভবান হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সামনে বাজার আরো খারাপ হতে পারে এ ধারণা থেকেই তারা এখন শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর এর ফলে দর হারাচ্ছে ভালো কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে মৌলভিত্তির দিক থেকে দুর্বল কোম্পানিগুলোর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কারণ কোন প্রতিষ্ঠানের হাতে এসব শেয়ার নেই। তিনি বলেন, এসইসি চাইলে প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়টি তদন্ত করে বাজারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রথম সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীরা এই মুহূর্তে বিনিয়োগ করলে লাভবান হতে পারবে কী না তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন। তাই তারা বাজারের ওপর কিছুতেই বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। আর এখান থেকেই আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, এ অবস্থার উত্তরণ করতে হলে নতুন ভালো কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসা দরকার।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, আস্থা ও তারল্য সঙ্কটের কারণে শেয়ারবাজারে অব্যাহতভাবে দরপতনের ঘটনা ঘটছে। তার মতে, এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় পরবর্তীতে ব্যবস্থা নিলে তাতে আর কোনো কাজ হবে না।

বাজারের সামগ্রিক উন্নয়নে সাম্প্রতিক উদ্যোগ:
শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে দফায় দফায় বৈঠক হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু সুপারিশের প্রস্তাব করে, যা পর্যায়ক্রমে এসইসি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়।

একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা বৃদ্ধি: ১৯শে সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাজার সংশ্লি­ষ্টদের দাবির পরিপ্রেেিত ব্যাংকগুলোর সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট তথা একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা আরও এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সীমা হয় ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা চতুর্থবারের মতো বাড়ালো।

বাংলাদেশ ফান্ড: ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ শুরু করে বাংলাদেশ ফান্ড।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ সীমা স্থগিত: সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির আবেদনের পরিপ্রেেিত মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগসীমা আপাতত স্থগিত করে এসইসি। এতে মিউচুয়াল ফান্ডের বিধিমালা, ২০০১-এর ৫৬-এর পঞ্চম তফসিলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিধি-নিষেধ সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ নীতিমালায় মিউচুয়াল ফান্ড একক কোম্পানির মূলধনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ এবং একক খাতের শেয়ারে ২৫ শতাংশ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারতো। ১৫ই সেপ্টেম্বর থেকে এ বিধি স্থগিত করা হয়। 

শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা: পাঁচ শতাংশের বেশি কোনো শেয়ারহোল্ডার উদ্যোক্তা, পরিচালক ও মালিকদের শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এসইসি। এ সিদ্ধান্তের ফলে পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নেয়া হয়।

আইপিডিসি’র মূলধন বৃদ্ধি: ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ (আইপিডিসি)’র মূলধন ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করার ঘোষণা দেয়া হয়। 

আইসিবি আট মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি: ৫ই অক্টোবর রাষ্ট্রায়ত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনাধীন ১০ বছর মেয়াদ অতিক্রান্ত নয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮টি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করে এসইসি।

বিনিয়োগকারীদের ১৫দফা দাবি: বাংলাদেশ ব্যাংকের সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত বর্ধিত করতে হবে, প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানি আইনে ব্যাংকগুলির পরিশোধিত মূলধনের ২৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে পূর্বের জামানতের ১০ শতাংশের যে বিধান ছিল তা কার্যকর করতে হবে, মিউচুয়াল ফান্ডের মূলধনের ৮০ শতাংশ টাকা বাধ্যতামূলক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে, বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে তিন থেকে চার শতাংশ বিনিয়োগ করতে তা ১০ শতাংশে বাধ্য করতে হবে, মার্জিন লোনের সুদ ১ ডিসেম্বর ২০১০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১ পর্যন্ত মওকূপ করে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করতে হবে এবং বাজার পতনের সময় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে ‘অ্যাগ্রেসিভ বাই প্রেসার’-এর মাধ্যমে তাদের পূর্ণ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে।

ভুক্তভোগীর কথা: বিনিয়োগকারী হাসনাইনের আলাপকালে জানা যায়। তিনি বলেন, আমি এক বন্ধুর মাধ্যমে শুনেছিলাম যে, শেয়ারব্যবসায় শুধু টাকা আর টাকা, এমনকি বছরে টাকা দ্বিগুণ, তিনগুণ। সারাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দার রেশ, তাই লোভে পড়ে হোক আর প্রয়োজনের তাগিদেই হোক, পিতার মৃত্যুর পর পেনশেনেরর টাকা এনে পুরোটাই বিনিয়োগ করি। 

তিনি বলেন, গত বছরের জুলাই মাসে তিনি এ ব্যবসায় নামেন, লাভও আসতে থাকে। তাই অতিরিক্ত লাভের আশায় ব্রোকার হাউজ থেকে নিজস্ব মূলধনের পাশাপাশি লোন নিয়ে তিনি এ ব্যবসায়ে পূর্ণ মনোযোগ দেন। মাস দুয়েক যেতে না যেতে তার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। ৯৬-এর মতো আরেকটি ভয়াভহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে শেয়ারবাজার।
তিনি জানান, তার ২৫ লাখ টাকার পুঁজি গিয়ে দাঁড়ায় ৫ লাখে। চোখের পলকেই জুয়াড়িদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যান। পিতার মৃত্যুর পর তিনি সংসারের হাল ধরেছেন। সংসারে মা ছাড়াও দুই বোন রয়েছে। তাদের এখনো বিয়ে দেয়া হয়নি। শেয়ারবাজারের ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর ভিড়ে এরকম হাজারো হাসনাইনরা সর্বস্বান্ত হয়ে বসে আছে।

এতো সব সিদ্ধান্তের পরও পুঁজিবাজারে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান বর্তমান বাজার মূল্যে বেক্সিমকো ৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণার পর বাজারে কিছুটা চাঙ্গাভাব দেখা দিলে কার্যত তা আবারো দরপতনের প্রবণতায় চলছেই। 

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করায় ুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রচ্ছন্নভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্য করার কয়েকদিন বাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরলেও তা আবারো দরপতনের ধারায় চলে আসে। এতে ুদ্র বিনিয়োগকারীদের বাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়েছে যা কোনো উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ।

Saturday, October 8, 2011

প্রকট হচ্ছে আস্থার সঙ্কট


কোন পদক্ষেপেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে পারছে না বাজার সংশ্লিষ্টরা। ফলে দিন দিন প্রকট হচ্ছে আস্থার সঙ্কট। পতনের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় লেনদেনও কমছে। এখনই এ সঙ্কট দূর করতে না পারলে অন্ধকার ঘনীভূত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হলেও তা কোন কাজে আসছে না। এছাড়া বর্তমান পুঁজিবাজারের অবস্থা এমন পর্যায়ে চলে এসেছে, যা সারাদেশে এটি এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে শংকা প্রকাশ করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোও এটিকে ইস্যু হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দশ মাস ধরে পুঁজিবাজারের দর পতনকে কেন্দ্র করে বিষটি এখন রাজধানী কিংবা বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়েছে। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যারা শেয়ার মার্কেট বোঝেন না কিংবা মার্কেটে তাদের কোন ধরনের বিনিয়োগ নেই তারাদেরও বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে। আর এ কারণেই বিষয়টি যে কোন সময় সামাজিক অস্থিরতায় রুপ নিবে বলে শংকা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে পুঁজি হারিয়ে ইতিমধ্যে আত্মহত্যা করেছেন একাধিক বিনিয়োগকারী। খুলনায় দেড় কোটি টাকার পুঁজি হারিয়ে স্টক করে মারা গেছে হাফিজুর রহমান নামের এক বিনিয়োগকারী। বগুড়াতে গোলাম মোস্তফা নামে আর এক বিনিয়োগকারী স্টক করে মারা যায়। অন্যদিকে ইতিমধ্যে পুঁজি হারিয়ে রাস্তায় বসার উপক্রম হয়েছে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। পুঁজি হারিয়ে নিস্ব হয়ে অথবা নিজের পকেটের টাকা দিয়ে হাউজের দায় মিটিয়ে শেয়াার বাজার থেকে বিদায় নিয়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী, যা এখন সর্বত্ব  আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক কর্মকর্তা বর্তমান বাজার সম্পর্কে বলেন, বাজারের এই সংঙ্কটকালে অনেক ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান শেয়ার বিক্রয় করছেন। তিনি বলেন, এই অবস্থায় কেউ শেয়ার বিক্রি করে লাভবান হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সামনে বাজার আরো খারাপ হতে পারে এ ধারণা থেকেই তারা এখন শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর এর ফলে দর হারাচ্ছে ভালো কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে মৌলভিত্তির দিক থেকে দুর্বল কোম্পানিগুলোর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কারণ কোন প্রতিষ্ঠানের হাতে এসব শেয়ার নেই। তিনি বলেন, এসইসি চাইলে প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়টি তদন্ত করে বাজারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রথম সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীরা এই মুহূর্তে বিনিয়োগ করলে লাভবান হতে পারবে কী না তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন। তাই তারা বাজারের ওপর কিছুতেই বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। আর এখান থেকেই আস্থার সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, কেনা বেচার মধ্য দিয়ে বাজারে লেনদেন বাড়লে বোঝা যাবে বাজারে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এছাড়া বাজার ভালো হলে ভালো মৌল ভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লে এবং খারাপ হলে তুলনামূলক খারাপ মৌল ভিত্তির কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলে বোঝা যাবে বাজার ভালোর দিকে যাচ্ছে। এর বিপরীত বাজারের জন্য খারাপ লণ বহন করবে। তবে ধারাবাহিকভাবে বাজার বাড়বে বা ধারাবাহিকভাবে বাজার কমবে এটা ভুল ধারণা। এ অবস্থার উত্তরণ করতে হলে নতুন ভালো কোম্পানি বাজারে নিয়ে আসা দরকার। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারীর অংশ গ্রহণও বাড়ানো প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, আস্থা ও তারল্য সঙ্কটের কারণে শেয়ারবাজারে অব্যাহতভাবে দরপতনের ঘটনা ঘটছে। তার মতে এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় পরবর্তীতে ব্যবস্থা নিলে তাতে আর কোনো কাজ হবে না। তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট সফর করেছি। সিএসইর সদস্যদের সঙ্গে বাজারের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। আমরা তাদের মতামত নিয়েছি। সেখান থেকে বেশ কিছু সুপারিশ উঠে এসেছে। সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে সঙ্কট অনেকাংশে কেটে যাবে।

অস্থিরতার বৃত্তে শেয়ারবাজার: দুই সংকটে ঘুরপাক খাচ্ছে শেয়ারবাজার। নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বাজারের সীমাহীন তারল্য সংকট অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চরম আস্থার সংকট। এমন মহুর্তে গত ৮ই সেপ্টেম্বর ডিএসই’র পরিচালক হিসেবে যোগ দেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। তিনি বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে আনার জন্য বেশকিছু পদক্ষেপের কথা সাংবাদিকদের জানান। এর মধে তারল্য সংকটের উত্তরণে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মিউচুয়াল ফান্ডের নীতিমালার পরিবর্তন, সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজারের ঋণসীমা বৃদ্ধিসহ আরও বেশকিছু সিদ্ধান্ত। এতে কয়েক দিন বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলেও আবারও পতনের দিকে ধাবিত হতে থাকে। বাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনও সম্পূর্ণরুপে ভেস্তে যায়। 
শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে দফায় দফায় বৈঠক হয়। এসইসি মার্চেন্ট ব্যাংকারস অ্যাসোসিয়েশন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি, পুঁজিবাজার সমন্বয় কমিটি ও ডিএসই’র ৩০ ব্রোকার হাউজের কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু সুপারিশের প্রস্তাব করে, যা পর্যায়ক্রমে এসইসি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়।

বাজারের সামগ্রিক উন্নয়নে সাম্প্রতিক উদ্যোগ:

একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা বৃদ্ধি: ১৯শে সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বাজার সংশ্লি­ষ্টদের দাবির পরিপ্রেেিত ব্যাংকগুলোর সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট তথা একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা আরও এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সীমা হয় ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা চতুর্থবারের মতো বাড়ালো।
বাংলাদেশ ফান্ড: ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ শুরু করে বাংলাদেশ ফান্ড।
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ সীমা স্থগিত: সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির আবেদনের পরিপ্রেেিত মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগসীমা আপাতত স্থগিত করে এসইসি। এতে মিউচুয়াল ফান্ডের বিধিমালা, ২০০১-এর ৫৬-এর পঞ্চম তফসিলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিধি-নিষেধ সম্পর্কে বলা হয়েছে। এ নীতিমালায় মিউচুয়াল ফান্ড একক কোম্পানির মূলধনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ এবং একক খাতের শেয়ারে ২৫ শতাংশ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারতো। ১৫ই সেপ্টেম্বর থেকে এ বিধি স্থগিত করা হয়। 

শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা: পাঁচ শতাংশের বেশি কোনো শেয়ারহোল্ডার উদ্যোক্তা, পরিচালক ও মালিকদের শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এসইসি। এ সিদ্ধান্তের ফলে পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে নেয়া হয়।

আইপিডিসি’র মূলধন বৃদ্ধি: ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ (আইপিডিসি)’র মূলধন ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করার ঘোষণা দেয়া হয়। 

আইসিবি আট মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি: ৫ই অক্টোবর রাষ্ট্রায়ত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনাধীন ১০ বছর মেয়াদ অতিক্রান্ত নয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮টি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধি করে এসইসি।

এতো সব সিদ্ধান্তের পরও পুঁজিবাজারে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান বর্তমান বাজার মূল্যে বেক্সিমকো ৫ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণার পর বাজারে কিছুটা চাঙ্গাভাব দেখা দিলে কার্যত তা আবারো দরপতনের প্রবণতায় চলছেই। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করায় ুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রচ্ছন্নভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্য করার কয়েকদিন বাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরলেও তা আবারো দরপতনের ধারায় চলে আসে। এতে ুদ্র বিনিয়োগকারীদের বাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়েছে যা কোনো উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ।

বিনিয়োগকারীদের ১৫দফা দাবি: বাংলাদেশ ব্যাংকের সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত বর্ধিত করতে হবে, প্রস্তাবিত ব্যাংক কোম্পানি আইনে ব্যাংকগুলির পরিশোধিত মূলধনের ২৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে পূর্বের জামানতের ১০ শতাংশের যে বিধান ছিল তা কার্যকর করতে হবে, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মূলধনের ৮০ শতাংশ টাকা বাধ্যতামূলক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে, বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে তিন থেকে চার শতাংশ বিনিয়োগ করতে তা ১০ শতাংশে বাধ্য করতে হবে, মার্জিন লোনের সুদ ১ ডিসেম্বর ২০১০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১ পর্যন্ত মওকূপ করে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করতে হবে এবং বাজার পতনের সময় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে ‘‘অ্যাগ্রেসিভ বাই প্রেসার’’-এর মাধ্যমে তাদের পূর্ণ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে।

ভুক্তভোগীর কথা: বিনিয়োগকারী হাসনাইনের আলাপকালে জানা যায়। তিনি বলেন, আমি এক বন্ধুর মাধ্যমে শুনেছিলাম যে, শেয়ারব্যবসায় শুধু টাকা আর টাকা, এমনকি বছরে টাকা দ্বিগুণ, তিনগুণ। সারাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দার রেশ, তাই লোভে পড়ে হোক আর প্রয়োজনের তাগিদেই হোক, পিতার মৃত্যুর পর পেনশেনেরর টাকা এনে পুরোটাই বিনিয়োগ করি। 

তিনি বলেন, গত বছরের জুলাই মাসে তিনি এ ব্যবসায় নামেন, লাভও আসতে থাকে। তাই অতিরিক্ত লাভের আশায় ব্রোকার হাউজ থেকে নিজস্ব মূলধনের পাশাপাশি লোন নিয়ে তিনি এ ব্যবসায়ে পূর্ণ মনোযোগ দেন। মাস দুয়েক যেতে না যেতে তার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়। ৯৬-এর মতো আরেকটি ভয়াভহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে শেয়ারবাজার।

তিনি জানান, তার ২৫ লাখ টাকার পুঁজি গিয়ে দাঁড়ায় ৫ লাখে। চোখের পলকেই জুয়াড়িদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যান। পিতার মৃত্যুর পর তিনি সংসারের হাল ধরেছেন। সংসারে মা ছাড়াও দুই বোন রয়েছে। তাদের এখনো বিয়ে দেয়া হয়নি। শেয়ারবাজারের ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর ভিড়ে এরকম হাজারো হাসনাইনরা সর্বস্বান্ত হয়ে বসে আছে।

Tuesday, February 8, 2011

পুঁজিবাজার : ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ঝাড়ু মিছিল, গ্রেফতার, দিনশেষে সূচক বৃদ্ধি ৪২৮ পয়েন্ট

এলায়েন্স সিকিউরিটিজ সিইওর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা চতুর্থদিনের মতো দরপতনে পুলিশের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শুরুর ৪০ মিনিটের মাথায় দরপতনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী। তারা ঝাড়ু মিছিল এবং রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ােভ প্রকাশ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিপে করে। এ সময় পুরো এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৩ জন বিনিয়োগকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক বেড়েছে ৪২৮ পয়েন্ট।
এদিকে গতকাল কারসাজির অভিযোগে স্থগিত ৫ ব্রোকারেজ হাউজের মধ্যে এলায়েন্স সিকিউরিটিজ এন্ড ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
 
জানা যায়, গতকালের লেনদেন শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর সাধারণ সূচক ২৩৬ পয়েন্ট বাড়লেও পরবর্তী আধাঘণ্টার মধ্যেই সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে দুপুর ২টার পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা শুরু করলে ডিএসইর সাধারণ সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ল্য করা যায়।
বিশেষ করে সরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আইসিবি সিকিউরিটিজ বেলা ২টার পর বিপুল পরিমাণে শেয়ার কিনলে সূচক দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকে। একই সময় মার্চেন্ট ব্যাংকসহ অন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার কেনায় আগ্রহী হন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এ আচরণে অস্বাভাবিকতা ল্য করা গেছে। বিশেষ করে গতকাল যখন সূচকের নিম্নগামী প্রবণতা ছিল, তখন মার্চেন্ট ব্যাংক ও অন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা থেকে বিরত ছিল। আবার কিছুটা দর বৃদ্ধির পর সূচক বাড়তে থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিপুল পরিমাণে শেয়ার কিনে। তাই সূচক স্বল্পসময়ে অস্বাভাবিক রকম বেড়ে যায়। এ কারণেই মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ডিএসই হারানো সূচক পুনরুদ্ধার করে আগের দিনের চেয়ে ৪২৮ পয়েন্ট বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে লেনদেন শেষ করেছে।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকালে লেনদেনের আধা ঘণ্টা পর ডিএসই সাধারণ সূচক ৭৭ পয়েন্ট কমে গেলে বিনিয়োগকারীরা খ- খ- মিছিল নিয়ে ডিএসইর সামনে জড়ো হয়। এরপর দুপুর ১২টা থেকে তারা ডিএসই সংলগ্ন এলাকায় বিােভ শুরু করে। বিনিয়োগকারীদের বিােভের কারণে ডিএসই সংলগ্ন রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ুব্ধ বিনিয়োগকারীরা পুলিশের দিকে ইট পাটকেল নিপে করে। দুপুর সোয়া ১২টায় বিনিয়োগকারীরা রহমান ম্যানসনে ইট পাটকেল নিপে করে। এ সময় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত বিনিয়োগকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ারসেল নিপে করে। পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সাংবাদিক ও পুলিশসহ কয়েকজন বিনিয়োগকারী আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে আবদুর রব, নজরুল ইসলামকে হাবিব সিকিউরিটিজ থেকে আটক করা হয়। আটক হওয়া অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এদিকে ডিএসই এলাকায় বিােভ মিছিলে অনেক নতুন মুখ দেখা গেছে। তারা সাংবাদিকদের ভিডিও ফুটেজ নিতে বাধা দেয়। বেলা পৌণে ২টায় ডিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের চাইতে কিছুটা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে মনোযোগী হন। ফলে ডিএসই এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।
 
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, লেনদেনের শুরুতে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইনস্যুরেন্সসহ মৌলভিত্তির শেয়ারের দর বাড়ায় মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে সাধারণ সূচক ২৩৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। তবে পরবর্তী দেড় ঘণ্টায় অধিকাংশ শেয়ারের দর কমার কারণে সূচক ৭৭ পয়েন্ট কমে পায়। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা শুরু করলে মার্কেট ঘুরে দাঁড়ায়। লেনদেন শেষে সূচক ৪২৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬৮২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৪টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪৩টির এবং কমেছে ১১টির। লেনদেন হয়েছে ৭৮৭ কোটি টাকার।  এদিন ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে- ৩ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।
 
এদিকে আগ্রাসি সেলে জড়িত এলায়েন্স সিকিউরিটিজ এন্ড ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এর ফলে এলায়েন্স সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ রায়ের এ ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করতে কোন বাধা রইল না। এসইসির প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে তার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে এসইসির মুখপাত্র সাইফুর রহমান জানিয়েছেন। অন্যদিকে অন্য ৪ ব্রোকারেজ হাউজের সিইওর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানান তিনি। এরমধ্যে দোষ স্বীকার ও দোষীদের শাস্তি দেয়ায় এনসিসি ব্যাংক সিকিউরটিজের সিইওর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আগেই প্রত্যাহার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তপে কামনা : স্থিতিশীল ও উৎপাদনমুখী পুঁজিবাজার এবং বাজারের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তপে কামনা করেছে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বেলা ১১টায় পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ আহ্বান জানানো হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক মিজানুর রশীদ চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক, শাহনেওয়াজ জুয়েল, আতা গাজী, মাহবুব, আকবর খান, জিহাদ প্রমুখ।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিােভ : পুঁজিবাজারে দরপতনে গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে বিােভ করেছে বিনিয়োগকারীরা। রাজশাহী ব্যুরো জানায়, বেলা সোয়া ১২টায় বিনিয়োগকারীরা বিােভ মিছিল বের করে। এ সময় বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। রাজশাহী নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় আইসিবির সামনের সড়কে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক বিােভ করে। বিােভকালে আইসিবি ভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, দুপুরে রাস্তায় নেমে আসে মৌলভীবাজারের বিনিয়োগকারীরা। এ সময় মৌলভীবাজার জেলা ইনভেস্টার ফোরামের উদ্যোগে শহরের চৌমুহনা চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলা সদরের সহস্রাধিক বিনিয়োগকারী অংশ নেয়। মানববন্ধন শেষে বিনিয়াগকারীরা শহরের চৌমুহনা চত্বরে সড়ক অবরোধ করে। বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা জুতা হাতে পুঁজিবাজারে অস্থিরতার জন্যে অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, এসইসি এবং ডিএসই কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে সেøাগান দেয়।
 
লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, ইউসিবিএল, গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো লিমিডেট, তিতাস গ্যাস, বে-লিজিং, পিপলস লিজিং এন্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড, বেক্সটেক্স ও  ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড। দর বৃদ্ধিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো, দেশবন্ধু পলিমার, ফু-ওয়াং ফুডস, বিডি ফাইন্যান্স, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, রেকিট বেঙ্কাইজার, আরএন স্পিনিং, কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্স, কেয়া কসমেটিকস, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড। অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো, ব্র্যাক ২য় বন্ড, সমতা লেদার, মুন্নু স্টাফলার, সমরিতা হাসপাতাল, সাভার রি-ফ্রেক্টরিজ, রেকিট বেঙ্কাইজার, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, লীগেসী ফুটওয়্যার, লিব্রা ইনফিউশনস ও ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স।

Tuesday, January 25, 2011

বন্ধ থাকা বাজারে ঊর্ধ্মুখীভাব, সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করায় ২০০টি কোম্পানির শেয়ার বেচা-কেনা স্বংয়ক্রিয়ভাবে হল্ট


টানা দুই কার্যদিবস লেনদেন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন চালুর প্রথম দিনেই ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা ফিরতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এদিন সাধারণ সূচক ও বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। দিন শেষে মূল্যসূচক বেড়েছে ৪৯৪.৭৩ পয়েন্ট বা সাত দশমিক ৮২ শতাংশ।
এদিকে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। এর ফলে লেনদেন শুরুর মাত্র ৪২ মিনিটের মাথায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দাম বেড়ে সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করায় ২০০টি কোম্পানির শেয়ার বেচা-কেনা স্বংয়ক্রিয়ভাবে হল্ট হয়েছে। এছাড়াও বাজারে ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা ছিল না।
দিনশেষে ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হওয়া ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২৪৮টির এবং কমেছে ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।

বাজারের এ আচারণ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। তারা বলেছেন, সোমবার সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) কোম্পানির সার্কিট ব্রেকার অর্ধেকে নামিয়ে আনে। এর ফলে কোম্পানিগুলোর দাম বৃদ্ধি বা কমার সীমা আগের থেকে কমে আসায় বাজারে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডিএসইর সহ-সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, আজকের (গতকাল) বাজারের আচারণ খুবই ভাল এবং স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করেছে। পুঁজিাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তে এ অবস্থা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বাজারের প্রতি আস্থা ফিরে এসেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত সময়পোযুগী হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শেয়ারের দরে সার্কিট ব্রেকার না থাকলে সূচক আবারও হাজার পয়েন্টর কাছে চলে যেত এবং বাজার অস্বাভাবিক হতো। সাকির্ট ব্রেকার থাকায় অস্বাভাবিক অচারণ থেকে রক্ষা পেয়েছে পুঁজিবাজার। তবে গতকাল বাজারে বিক্রেতা কম থাকায় লেনদেন কম হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি আশাবাদী আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজার আরও স্বাভাািবক হবে এবং বিক্রেতা বাড়বে।

লেনদেন কমে যাওয়ার ব্যাপারে বিনিয়োগকারীরা বলেন, টানা দরপতনের কারণে এখনো বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে রয়েছে। ফলে তারা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে পারছে না।
তবে তারা জানান, বাজার চাঙা হলেও সার্কিট ব্রেকারের সীমা কমে আসায় তারা আশানুরূপ শেয়ার কেনা-বেচা করতে পারেননি। তারা আরও জানান, লেনদেনের শুরুর কিছুণের মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান সার্কিট ব্রেকারে পৌঁছে যায়।
অন্যদিকে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলো মার্জিন লোন রেশিও না বাড়ানোর কারণে বিনিযোগকারীরা নতুন করে শেয়ার ক্রয় করতে পারছে না। ফলে লেনদেন কমে গেছে।

জানা যায়, ডিএসইতে লেনদেন শুরুর প্রথম ১০ মিনিটে লেনদেন হওয়া ১৮৮টি কোম্পানির মধ্যে কোম্পানি সার্কিট ব্রেকারের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা ১৩১টির লেনদেন হল্ট হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, সোমবার এসইসি কোম্পানির সার্কিট ব্রেকার আগের থেকে অর্ধেকে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাজারে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। দিন শেষে সাধারণ মূল্যসূচক ৪৯৪.৭৩ পয়েন্ট বা সাত দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে ৬৮২১.০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে ২০৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোনিম্ন। এর আগে ২০০৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ২১২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছি। এর পর ৮ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে ৩৩৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ ছাড়া গত বছরের ১৫ এপ্রিল ৭৭২, গত ১৭ জানুয়ারি ৮৪৮ কোটি ও ৬ জানুয়ারি ডিএসইতে ৯৬৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ ছাড়া গত ৫ ডিসেম্বর ডিএসইর ইতিহাসে সর্বোচ্চ তিন হাজার ২৪৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। এই হিসেবে তিন হাজার ৪৩ কোটি টাকা কম লেনদেন হয়। ডিএসই’র বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে- ৩ লাখ ২ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৮টি কোম্পানির মধ্যে ১৭৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ১৯টির এবং অপরিবর্তিত থাকে ৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। সার্বিক মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ১হাজার ১৭৫ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ৬৭৫ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে উন্নীত হয়।

এদিকে সকাল থেকে লেনদেন শুরু হওয়ার আগেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ জলকামান, টিয়ারসেল নিপেযন্ত্রসহ অবস্থান নেয়। যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান একজন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা। এ সময় তারা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তল্লাশিও চালায়। 

ডিএসইতে লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো- বৃটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোং, ওরিয়ন ইনফিউশনস্, তিতাস গ্যাস, এপেক্স এডালচি, ব্যাংক এশিয়া, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, গ্রামীণ ফোন, ইষ্টার্ণ ব্যাংক লিঃ ও ইসলামী ব্যাংক লিঃ। অন্যদিকে দর বৃদ্ধিতে আজকের প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো- দেশবন্ধু পলিমার, ১ম জনতা মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, সিএমসি কামাল, এক্সিম ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, শাহজালাল ব্যাংক, সিনোবাংলা, ইউসিবিএল, জিকিউ বলপেন। দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো- শ্যামপুর সুগার, অলটেক্স, ইসলামি ইন্সুরেন্স, সমতা লেদার, ফার্মা এইড, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, মুন্নু জুটেক্স, ডেল্টালাইফ ইন্সুরেন্স, রহিম টেক্সটাইল ও আইসিবি এএমসিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ড।

Sunday, January 23, 2011

মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে পুঁজিবাজার লেনদেন, ইনডেক্স সার্কিট ব্রেকার ও মার্জিন ঋণ সীমা থাকছে না

মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে পুঁজিবাজার লেনদেন
ইনডেক্স সার্কিট ব্রেকার ও মার্জিন ঋণ সীমা থাকছে না
দু সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি
বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আসা এমআই সিমেন্ট ও মোবিল যমুনার কার্যক্রম স্থগিত
কারসাজি করে কত টাকা সরানো হয়েছে খতিয়ে দেখবে


পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইনডেক্স সার্কিট ব্রেকার ও মার্জিন ঋণ সীমা প্রত্যাহারসহ বেশকিছু জরুরী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে পুঁজিবাজারে তারল্য সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নমনীয় নীতি গ্রহণ করবে। পুঁজিবাজার লেনদেনে ইনডেক্স সার্কিট ব্রেকার প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে বিনিয়োগকারীদের ঋণের উপর কোন ধরণের মার্জিন থাকছে না। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। তার আগ পর্যন্ত দুটি কোম্পানি এমআই সিমেন্ট ও মোবিল যমুনার পুঁজিবাজারে আসার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার থেকে আবারো শুরু হবে শেয়ারবাজার লেনদেন।

এছাড়া পুঁজিবাজারে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা এবং বাজার কারসাজির মাধ্যমে কত টাকা তুলে নেয়া হয়েছে, কারা এ কারসাজির সঙ্গে জড়িত ছিল এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে আগামী দু’ সপ্তাহের মধ্যে একটি তদন্ত কমিশন ঘটন করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োকারী, ব্যাংক ও মার্চেন্ট ব্যাংক পুঁজিবাজার থেকে যে মূলধন করেছে সেটি আবারো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। পুজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকুইরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে শক্তিশালী করতে এর জনবল দ্বিগুণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কিছুটা সমন্বয়ের অভাব ছিল। পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য এটিও একটি বিষয়। এসইসির উপদেষ্টা কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিধি থাকেন। তাদের মধ্যে আলাপ হয়। সেটি যাতে আরো ঘন ঘন হয় সে উদ্যোগ নেয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক করতে এসইসির সমন্বয় কমিটি এবং উপদেষ্টা কমিটি আরো শক্তিশালী করা হবে।

গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারি, এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার, এসইসি সদস্য ইয়াসিন আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা ও জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যুগ্মসচিব অমলেন্দু মুখার্জি প্রমুখ। এর আগে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকে পুঁজিবাজার লেনদেন চালু করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেগুলো বাস্তবায়নে অন্তত একদিন সময় দরকার। তাই মঙ্গলবার থেকে লেনদেন শুরু হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারের যে অবস্থা তাতে বলা যায় এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবে সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং লেনদেন শুরুর মধ্য দিয়ে আবারো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ৫ মিনিটে সূচক ৬০০ পয়েন্ট হারালেও গড় পিই (প্রাইস আর্নিং) রেশিও ২৩ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এ পরিমান পিই রেশিও সহনীয় মনে করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশে এরচেয়ে বেশি পিই রেশিও হয়েছে। আমাদের পুঁজিবাজার ছোট বলে এটিকে বড় ঘটনা মনে হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের এমন উন্মত্ত আচরণ করা উচিত হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার থেকে টাকা চলে গেছে বলে যে কথা বলা হচ্ছে সেটি একেবারেই বাজে কথা; এর কোন ভিত্তি নেই। তবে কিছু টাকা গেছে। কারা এসব টাকা নিয়েছে সেটি খতিয়ে দেখার জন্য কাজ করবে তদন্ত কমিটি।

মুহিত বলেন, শেয়ার বাজারে যে ধরণের ঘটনা ঘটেছে এর দায় আমি এবং এসইসি নিলেও পুরো বিষয়টি থেকে সংশ্লিষ্ট কেউ দায় এড়াতে পারেন না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারীদেরও বিশেষ ভূমিকা ছিল। তবে যে দায়ী হোক তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সেটি খতিয়ে দেখা হবে। আমাদের জন্য এসব বিষয় অনুসন্ধান করে বের করা এখন আর কঠিন কিছু নয়; যেহেতু সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি বাংলাদেশ লি.) পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে তাই এর মাধ্যমে সবই জানা যাবে।

গতকাল বিকেলের সংবাদ সম্মেলনের আগে সকালে অর্থমন্ত্রী সরকারের নীতি নির্ধারক ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মন্ত্রী সকালের সে বৈঠকের সূত্র ধরে জানান যে তার কাছে সংশ্লিষ্টরা পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দু ধরণের প্রস্তাব দিয়েছেন। এরমধ্যে কিছু প্রস্তাব রয়েছে যেগুলো তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন করা আর কিছু মধ্যমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তারল্য সঙ্কটের কথা বলা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারল্য স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যতোটা নমনীয় নীতি গ্রহণ করা উচিত সেটি করবে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ ব্যাংকিং খাত পুঁজিবাজার থেকে যে মুনাফা তুলে নিয়েছে সেটি পুঁজিবাজারেই বিনিয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল। এ পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৩টি কোম্পানি এ পদ্ধতির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার উদ্যোগ নেয়। এরমধ্যে আরএকে সিরামিকস নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। তবে অন্য দুটি কোম্পানি এমআই সিমেন্ট ও মোবিল যমুনা নিয়ে কথা উঠেছে। এ দুটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত এদের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ইনডেক্স সার্কেট ব্রেকার নিয়েও কথা উঠেছে। এট্রি আর প্রয়োজন নেই, তাই এটি আর থাকছে না। তবে শেয়ারের উপর যে সার্কিট ব্রেকার রয়েছে সেটি থাকবে, তবে আরো আধুনিক করার জন্য সেটিরও সংস্কার করা হবে দুয়েকদিনের মধ্যে। তিনি বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো থেকে বিনিয়োগকারীদের যে মার্জিন ঋণ সীমা বেঁধে দেয়া হতো এসইসি থেকে সেটি আর থাকছে না। এর বদলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ঠিক করবে তারা কী পরিমান ঋণ দেবে বিনিয়োগকারীদের।

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশে বাই ব্যাক পলিসি আছে। এর ফলে একটি কোম্পানি যে দামে শেয়ার বিক্রি করে সে দামে আবর কেনার বাধ্যবাধকতা থাকে। ভারত, শ্রীলংখায় এটি আগে থকে চালু আছে। আমাদের কোম্পানি আইনে এটি নেই। বাই ব্যাক পলিসি চালু করার জন্য খুব শিগগিরই কোম্পানি আইন সংশোধন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজার থেকে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ব্যাংক ও মার্চেন্ট ব্যাংক লাভ করেছে সেটি আবার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আর্থিক নীতির প্রয়োজনে কিছুটা কঠোর হয়েছিল। তবে শেয়ার বাজারের জন্য তারা যতোটা সম্ভব নমনীয় হবে। এছাড়া আমাদের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা কম। তাদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ডিএসই, এসইসিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

এসইসিরি ঘনঘন সিদ্ধান্ত বন্ধ হবে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে এসইসি চেয়ারম্যান বলেন, গতবছর সারাবিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ সূচক বেড়েছে ঢাকার পুঁজিবাজারে। এটিকে স্থিতিশীল রাখার জন্যই ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে বাজার সংশোধনের কারণে এখন আর এটি প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি।

সকালে পদ্মায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, সংস্থাপন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খালেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান, বর্তমান সভাপতি শাকিল রিজভী, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি একে আজাদ, সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি ফখরুদ্দীন আলী আহমেদ, মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মুর্তজা আহমেদ প্রমূখ।