Wednesday, February 2, 2011

অভিহিত মূল্যের প্রজ্ঞাপন স্থগিত করেছে এসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১শ টাকা থেকে ১০ টাকায় পরিবর্তনে অনুমোদনের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বুধবার ২০১০ সালের ১০ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করে এসইসি এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এসইসি এবং ডিএসইর ওয়েব সাইটে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী নিদের্শ না দেয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে এ সংক্রান্ত সব রকম প্রক্রিয়া বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

এসইসির সূত্র জানা গেছে, অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের নিয়ে বাজারে অনেক কারসাজি হয়েছে। তাই কোম্পানির উদ্যোক্তাদের নতুন করে কারসাজির সুযোগ নিতে না পারে এ জন্য, একযোগে সব কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় নামিয়ে আনার জন্য সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাব দিয়েছিল এসইসি। সূত্র আরও জানায়, অভিহিত মূল্য পরিবর্তন সংক্রান্ত সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি যেহেতু অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে, তাই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। কিন্তু অভিহিত মূল্যে পরিবর্তনের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী রাজি হলেও অর্থ সচিবের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই কাগজপত্রে অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু বুধবার তা নির্দেশনা আকারে উদ্যোক্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তী এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলে একযোগে সব শেয়ারের অভিহিত মূল্য পরিবর্তন করা হতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে অস্থিরতার জন্য অভিহিত মূল্য পরিবর্তন অন্যতম কারণ। তাদের মতে, অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে বাজার অতিমূল্যায়িত হয়েছে। দেখা গেছে- কোন কোম্পানির অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেই বাজারে ওই কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। অথচ অভিহিত মূল্য পরিবর্তন করলে বাজারে ওই কোম্পানির মৌল ভিত্তির কোন পরিবর্তন হয় না। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কোম্পানির উদ্যোক্তারা তাদের শেয়ারের দাম বাড়িয়েছেন। আর বাড়তি দামে স্পন্সর শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, পুঁজিবাজারের সব কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য হবে ১০০ টাকা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্বে করেন। একই বছরের ১০ নভেম্বর এসইসির পরামর্শক কমিটির সভায় সুপারিশ করা হয়, পুঁজিবাজারের সব কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা। যা পরবর্তী এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। এক বছরের মধ্যে যেসব কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা হবে না। তাদের বিশেষ সভা ডেকে বাস্তবায়ন করতে হবে। 

২৫ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বর্তমানে কোম্পানির অভিহিত মূল্য যা আছে তা ঠিক রাখার সুপারিশ করা হয়। সুপারিশে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে যে কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে তাদের অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা। ওই সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১ টাকা অভিহিত মূল্যেও ছিল ১টি, ১০ টাকার ৬৩টি, ১০০ টাকার ১৯৮টি এবং ১০০০ টাকার ২টি কোম্পানি।

এসইসির এ সুপারিশের পরই ১০টি কোম্পানি তাদের শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়ে তা অনুমোদনের জন্য এসইসিতে আবেদন করে। গত ২০১০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এসইসির কমিশন মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, বর্তমানে বাজারে তালিকাভুক্ত কোন কোম্পানির অভিহিত মূল্য পরিবর্তন করা হবে না। ১ মার্চ কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্যে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। এ সময়ে ওই ১০টি কোম্পানির আবেদন ফিরিয়ে দেয় এসইসি। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, পরবর্তীতে আর কোন তালিকাভুক্ত কোম্পানি অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবে না।

এসইসির এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ওই কোম্পানির উদ্যোক্তারা মামলার প্রস্তুতি নেন। ফলে ১০টি কোম্পানির আবেদন বিবেচনার জন্য উদ্যোক্তাদের মৌখিক আশ্বাস দেন এসইসির চেয়ারম্যান।

গত ২০১০ সালের ৭ এপ্রিল এসইসির প থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার মূল্যে সমতা আনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়। এ নিয়ে কয়েক দফা সিদ্ধান্তের পর গত বছরের ১০ মে অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেয়, উদ্যোক্তারা চাইলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় নামিয়ে আনতে পারবে। তবে আগামীতে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা। এরপরই অভিহিত মূল্য পরিবর্তনের হিড়িক পড়ে। বুধবার আবার এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করলো এসইসি।

No comments:

Post a Comment