Tuesday, January 18, 2011

স্টক ডিলারাদের জামানতবিহীন লেনদেন সীমা ১৫ কোটি টাকা নির্ধারণ, দরপতনের মুখে আবারও দুই বাজারে লেনদেন বন্ধ

সব কোম্পানির ফেস ভ্যালু ১০ টাকা করার সিদ্ধান্ত
 দরপতনের মুখে আবারও দুই বাজারে লেনদেন বন্ধ
স্টক ডিলারদের জন্য মেম্বারস মার্জিনের জামানতবিহীন লেনদেন সীমা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকায় নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল বড় ধরণের দরপতনের কারণে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত সবগুলো কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য (ফেস ভ্যালু) ১০ টাকার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি।

শেয়ার বাজারের চলমান মন্দা কাটাতে মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সুপারিশের প্রেক্ষিতে বুধবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন কমিশনের মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূইয়া। আজ বুধবার থেকে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে আবারও স্বাভাবিক লেনদেন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসিরউদ্দিন চৌধুরী এবং ডিএসইর সিইও সতিপতি মৈত্র উপস্থিত ছিলেন ।

উল্লখ্য, মেম্বারস মার্জিনের ফ্রি সীমা শুধুমাত্র স্টক ডিলারদের শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারুল কবীর ভুইয়া বলেন, পুঁজিবাজারে বড় দরপতনের আশঙ্কায় এসইসি দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ঢাকা ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। বেলা দেড়টা নাগাদ ডিএসইর সূচক ২৩৭ পয়েন্ট পতন হলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে ডিএসইর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে এসইসি। পুঁজিবাজারের বর্তমান সঙ্কট কাটাতে ডিএসই থেকে দুটি সুপারিশ করা হয়। সেগুলো হলো স্টক ডিলারদের জন্য মেম্বারস মার্জিনের ফ্রি সীমা বাড়ানো এবং সবগুলো কোম্পানির অভিহিত মূল্য ১০ টাকা করা। এসইসি ওই দুটি সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বিবেচনায় স্টক ডিলারদের জন্য মেম্বারস মার্জিনের ফ্রি সীমা ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ স্টক ডিলাররা যদি সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয় করেন, তাহলে ওই পরিমাণের শেয়ারের বিপরীতে কোন নিরাপত্তা জামানত রাখতে হবে না। তবে ডিএসইর সুপারিশ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত সবগুলো কোম্পানির শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণের বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও কবে থেকে তা বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এছাড়া পুঁজিবাজারের তারল্য সঙ্কট নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি বলে কবীর সাংবাদিকদের জানান।

আনোয়ারুল কবীর আরও জানান, এসব বাস্তবায়ন হলে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর শেয়ার কেনার মতা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বর্ধিত ক্রয়মতা কার্যকর করলে বাজারে শেয়ার কেনার প্রবণতা বাড়বে। শেয়ারের দর ও সূচকে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজারের নেতিবাচক পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, মূলত: বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণেই পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের ঘটনা ঘটছে। বাজারের এ পরিস্থিতিতে ডিএসই মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেছে। মার্চেন্ট ব্যাংকের বক্তব্য শুনার পর সরকারের কাছে আমরা পুঁজিবাজারে সংকট উত্তোরনে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবো বলে শাকিল রিজভী জানান। ট্রেড বন্ধ বিষয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই ট্রেড সাময়িকভাবে বন্ধের উদাহরণ রয়েছে। শাকিল রিজভী অভিযোগ করেন, একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেল স্টক এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারনা চালানোর কারণেও পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে।



দরপতনের মুখে আবারও দুই বাজারে লেনদেন বন্ধ
অব্যাহত দরপতনের মুখে দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের (ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ) লেনদেন। গতকাল দুপুর একটা ৪০ মিনিটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এ সিদ্ধান্ত নেয়। পরে এসইসি'র সদস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে আজ বুধবার ফের স্বাভাবিক লেনদেন শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বাজারে ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর পড়ে যাবার আশঙ্কায় লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসইসি।
প্রত্যদর্শীরা জানান, দরপতনের মধ্য দিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল লেনদেন শুরু হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাধারণ মূল্যসূচক ৭৬ পয়েন্ট নেমে যায়। এরপর সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২৩৭.৩৩ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ২১ শতাংশ কমে গেলে চিন্তিত হয়ে পড়ে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। ফলে এসইসি তাৎণিকভাবে ডিএসইর লেনদেন বন্ধ করে দেয়। একই সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনও। এর আগে গত সোমবার লেনদেনের ৫০ মিনিটের মাথায় দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বড় ধরেণর দরপতন হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুই স্টক এক্সচেঞ্জেরই লেনদেন বন্ধ করে দেয়।

এদিকে টানা চারদিন ধরে অব্যাহত দরপতনের ফলে আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা গতকাল বেলা একটার দিকে ডিএসইর সামনের রাস্তায় নেমে আসে। তবে পুলিশের বাধার মূখে তারা বারবার চেষ্টা করেও কোনো কর্মসূচী পালন করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ডিএসইর সামনের রাস্তার পাশে জড় হয়ে দফায় দফায় বিােভ প্রদর্শন করেন। এসময় তারা ডিএসই ও এসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সেøাগান দিতে থাকেন। পরে সাড়ে তিনটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
 
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গতকাল ডিএসইর সাধারণ সূচক ২৩৭.৩৩ পয়েন্ট কমে ৭১৪০.৩৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে যায়। লেনদেন হওয়া ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম কমেছে ২৩৪টির এবং বেড়েছে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এদিন ডিএমইতে মোট ৬০৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

এদিকে ডিএসইর লেনদেন বন্ধের পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেনও বন্ধ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সিএসই সাধারণ মূল্যসূচক ৪৬১.৩০ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২০ শতাংশ কমে ২০৫৩৫.৪৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এসময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ১০টির এবং কমেছে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। এদিন সিএসইতে ৫৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়।

উল্লেখ্য, এ বছরের এ পর্যন্ত ১৩ কার্যদিবসের ১০ দিনই দরপতন হয়েছে পুঁজিবাজারে। এরমধ্যে পতনের মুখে মঙ্গলবারসহ দুই কার্যদিবসে লেনদেন বন্ধ করে দেয় এসইসি। গত ১০ জানুয়ারি ডিএসই'র সাধারণ সুচক ৬৬০ পয়েন্ট পড়ে যায়। দিনের লেনদেনের প্রথম ৫০ মিনিটে সাধারণ সুচক কমার নতুন রেকর্ড হয় ডিএসই'তে। ওই পরিস্থিতিতে লেনদেন বন্ধ ঘোষণা করে এসইসি। তবে মঙ্গলবার বাজারে শেয়ার ক্রেতা না থাকায় আবারও বড় ধরনের পতনের আশঙ্কায় লেনদেন বন্ধ করে দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

No comments:

Post a Comment