Showing posts with label শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ. Show all posts
Showing posts with label শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ. Show all posts

Tuesday, February 22, 2022

শেয়ারবাজারে যেভাবে কোম্পানির ইপিএস বাড়ে-কমে

শেয়ারবাজারে যেভাবে কোম্পানির ইপিএস বাড়ে-কমে

Share-point-সূচক-অর্থনীতি-economic-দরপতন-dse-ডিএসই-শেয়ারবাজার

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য। ইপিএস বৃদ্ধি বা হ্রাসে ওই কোম্পানির শেয়ারের দামেরও হেরফের হয়। সাধারণভাবে ইপিএস বাড়লে তাতে শেয়ারের দাম বাড়ে। আর ইপিএস কমলে শেয়ারের দামও কমে যায়। এটি সাধারণ প্রবণতা। তবে সব সময় যে শেয়ারবাজারে শেয়ারের দামের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রবণতা দেখা যায়, তা নয়।

কেন ইপিএসের কারণে শেয়ারবাজারে কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রভাবিত হয়? কারণ, কোম্পানির ব্যবসার মুনাফার চিত্রই ফুটে ওঠে ইপিএসে। কোনো কোম্পানি নির্ধারিত সময়ে সব ধরনের খরচ বাদ দেওয়ার পর যে মুনাফা করে, সেই মুনাফাকে ওই কোম্পানির মোট শেয়ারসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে ইপিএস বের করা হয়। দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো প্রতি তিন মাস পরপর তাদের ইপিএসের তথ্য প্রকাশ করে। বছরকে চার ভাগে ভাগ করে প্রতি তিন মাসে এক প্রান্তিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শেয়ারবাজারের কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রতি প্রান্তিক শেষে ইপিএস তথা লাভ-লোকসানের হিসাব প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।

ধরা যাক, কোনো কোম্পানি তিন মাস ব্যবসা করে এক হাজার টাকা আয় করেছে। ওই কোম্পানির মোট শেয়ারসংখ্যা ১০০। সব ধরনের খরচ বাদ দেওয়ার পর কোম্পানিটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা। তাহলে তিন মাস বা এক প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়াবে ২ টাকা। যদি দেখা যায়, কোম্পানিটির ইপিএস আগের প্রান্তিকের চেয়ে বা আগের বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়, তাহলে সাধারণভাবে ধরে নেওয়া যায় কোম্পানিটির ব্যবসা আগের চেয়ে বেড়েছে। এ কারণে মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর যদি দেখা যায়, আগের প্রান্তিক বা আগের বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে ইপিএস কমে গেছে, তাহলে ধরে নেওয়া যায়, কোম্পানিটি ব্যবসায় খারাপ করেছে। ব্যবসা ভালো-মন্দের বিচারে তাই শেয়ারের দামও বাড়তে বা কমতে পারে।

একটি পণ্য পরিবহনকারী জাহাজ কোম্পানির কথা ধরা যাক। ধরে নিই, কোম্পানিটির নাম এবিসি শিপিং। এ কোম্পানির আয়ের প্রধান উৎস জাহাজভাড়া। যদি ওই কোম্পানির জাহাজের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায় বা ভাড়া বেড়ে যায়, তাহলে ওই কোম্পানির আয় বেড়ে যেতে পারে। আবার ওই কোম্পানির বহরে যদি নতুন কোনো জাহাজ যুক্ত হয়, তাহলেও আয় বাড়বে। আবার জাহাজ ব্যবসার বাইরে কোম্পানিটি যদি অন্য কোনো খাতে বিনিয়োগ করে ভালো মুনাফা করে, তাতেও আয় বাড়তে পারে। এ বিনিয়োগের মধ্যে হতে পারে কোম্পানিটি ব্যাংকে বড় অঙ্কের কোনো স্থায়ী আমানত রেখেছে। অথবা শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে ভালো মুনাফা করে। আবার কোনো একটি প্রান্তিকে যদি জাহাজ কোম্পানিটি কোনো সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়, তাতেও হঠাৎ ওই কোম্পানির আয় অনেক বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া যদি হঠাৎ কোনো এক প্রান্তিকে কোম্পানিটি বড় ধরনের কোনো করছাড় পায়, তাতেও আয় বাড়তে পারে। জাহাজ কোম্পানিটি যদি আন্তর্জাতিক পরিসরে পণ্য পরিবহন করে এবং হঠাৎ যদি ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান কমে যায়, তাতেও বাড়তি মুনাফা যুক্ত হতে পারে কোম্পানিটির। এ ছাড়া হঠাৎ কোনো প্রান্তিকে বড় অঙ্কের বকেয়া পাওনা আদায় হলে তাতে বাড়তে পারে আয়। উল্লিখিত কারণগুলো ছাড়া কোম্পানিটির আয় বৃদ্ধির ছোটখাটো আরও কিছু কারণ থাকতে পারে। আয় বাড়লেই যে সব সময় মুনাফা বাড়বে, তেমনি না–ও হতে পারে। ধরা যাক, ওপরের সব কটি কারণে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে কোম্পানিটির পরিচালন খরচ বা ব্যবসার খরচ অনেক বেড়ে গেছে, তাতে আয় বাড়লেও তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে মুনাফা না–ও বাড়তে পারে। তবে যদি কোম্পানির খরচ না বেড়ে হঠাৎ আয় বেড়ে যায়, তাতে কোম্পানিটির মুনাফা বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক।

বিশ্লেষকেরা বলে থাকেন, কোম্পানির নিয়মিত বা মূল ব্যবসার বাইরে অন্য কোনো খাত থেকে যদি হঠাৎ আয় বেড়ে যায়, সেটি সব সময় স্থায়ী হয় না। এ কারণে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ইপিএস দেখে কোনো শেয়ারে বিনিয়োগের আগে কেন ইপিএস হঠাৎ বেড়ে গেল, তা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন বিশ্লেষকেরা।

ইপিএস নিয়ে যত কারসাজি

আমাদের শেয়ারবাজারে অনেক কোম্পানির ক্ষেত্রেই ইপিএস নিয়ে কারসাজির ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। শেয়ারের দাম বাড়াতে বা কমাতে কোম্পানির মালিকেরা এ কারসাজির আশ্রয় নেন। কেউ হঠাৎ খরচ কমিয়ে ইপিএস বাড়ান। আবার কেউ ইপিএস বাড়াতে মূল ব্যবসার বাইরে অন্য খাতে অর্থ লগ্নি করেন। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে বেশ কিছু কোম্পানি মূল ব্যবসা রেখে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের বিনিয়োগ করে সেখানকার মুনাফা দিয়ে ইপিএস বাড়িয়েছেন। কোম্পানির মালিকেরা অনেক সময় বেনামে তাঁদের কোম্পানির শেয়ার কিনে থাকেন। সেই শেয়ার বেশি দামে বিক্রি করতেই ইপিএস বাড়িয়ে দেখাতে নানা কারসাজির আশ্রয় নেন। একইভাবে কম দামে শেয়ার কিনতে ইপিএস কমিয়ে দেখান। এভাবেই ইপিএসকে শেয়ারের দাম বাড়ানো-কমানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন অনেক উদ্যোক্তা। তবে ভালো কোম্পানি ও ভালো উদ্যোক্তারা এ ধরনের কারসাজির আশ্রয় নেন না। এ কারণে কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে ওই কোম্পানির উদ্যোক্তারা কেমন, তা জানাটাও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

Tuesday, June 30, 2020

পুঁজিবাজারে লাভজনক বিনিয়োগের জন্য যে ৬টি কৌশল আপনাকে জানতেই হবে

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে অর্থ উপার্জন করা লাভজনক ব্যবসা হলেও অনেকে এটাকে একটু ভিন্ন চোখে দেখেন। আসলে এই বাজারে কীভাবে বিনিয়োগ করতে হবে, কেমন শেয়ার কিনতে হবে, কখন তা বিক্রি করতে হবে; তা সঠিকভাবে না জানার কারণে এমন ধারণার জন্ম হয়েছে। তবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সঠিক সময়ে বিনিয়োগ করতে পারলে সেখান থেকে ভালো মুনাফা আনা সম্ভব। 

ব্রোকার হাউজ লাপাত্তা? তাতে কি? নিজের বিও অ্যাকাউন্ট নিজেই নিরাপদ রাখতে পারেন, কোনো অর্থ ছাড়াই

স্টাফ রিপোর্টার: জুন মাসের শুরুতেই দেশের পুঁজিবাজারে ঘটে গেছে বড় একটি দূর্ঘটনা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ লিমিটেডের মালিকরা সব অফিস বন্ধ করে দিয়ে আত্মগোপন করেছেন। এতে ব্রোকারহাউজের ২১ হাজার গ্রাহকের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকরা গোপনে তাদের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে কি-না, তাদের টাকা আছে কি-না, ওই শেয়ার ও টাকা ফেরত পাবেন কি-না তা নিয়ে তাদের মনে সন্দেহের জাল দানা বেধেছে। 

শুধু ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের গ্রাহক নয়, ওই ঘটনায় অন্যান্য ব্রোকারহাউজের গ্রাহকদের মনেও দেখা দিয়েছে কিছুটা দ্বিধা ও সন্দেহ। অথচ চাইলে একজন বিনিয়োকারী নিজেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে পারেন। সব সময় আপডেট থাকতে পারেন তার বিও অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ারের অবস্থা সম্পর্কে। 

ব্রোকারহাউজের মূলধন ১০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব

বিএসইসি ও ডিএসইতে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের চিঠি 

স্টাফ রিপোর্টার: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে প্রত্যেক ব্রোকারহাউজের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১০০ কোটি করার প্রসস্তাব দিয়েছে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। আর তার জন্য সর্বোচ্চ এক বছর সময় বেঁধে দেয়ারও দাবি করেছে সংগঠনটি। রোববার (২৮শে জুন) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লিখিতভাবে এই দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে ব্যর্থ ব্রোকারহাউজের ট্রেক স্থগিত করার দাবি করেছে।

Saturday, August 21, 2010

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে প্রথমিক পর্যায়ে যা করণীয়

ছবিঃ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবন।


বাংলাদেশের মানুষ এখন শেয়ার ব্যবসার দিকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকে পড়ছে, পুঁজি বাজারে অর্থ সর্বরাহ করে লাভের আশায় বাংলাদেশের যুব সমাজ এখন প্রতিযোগীতায় নেমে পড়েছে। কিন্তু যথাযত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অভাবে পুঁজি বাজারে আসা ওসব বিনিয়োগকারী প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। এভাবে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য বিনিয়োগকারী। শেয়ার বাজারে ক্ষতি এড়াতে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়। একটু সচেতন হলেই পুঁজি বাজারে অনেক লাভ করা যায়।


আবেগী হওয়া যাবে না

দেশের পুঁজিবাজার ক্রমেই চাঙা হচ্ছে। তবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে হলে আগে এ খাত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে। আপনি ব্যবসায়ী, চাকরীজীবী অথবা যে কোন পেশার হতে পারেন। মোদ্দাকথা আপনার কাছে বেশ কিছু টাকা আছে। অনেকের কাছ থেকে শুনেছেন পুঁজিবাজার বা শেয়ারবাজারের কথা। ফলে আগ্রহী হয়ে ওঠেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে। ধারণা করতে পারেন রাতারাতি টাকা কামানোর এই বুঝি সহজ উপায়। শেয়ার কিনলেই লাভ। সেই হিসেবে একটি ব্রোকার হাউসে বেনিফিশারি হিসাব (বিও) খুললেন। শুরু করলেন বিনিয়োগ। না জেনে, না বুঝেই বিনিয়োগ শুরু করলেন। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই বুঝতে পারলেন বিনিয়োগ ঠিকমতো হয়নি। তখন আর কিছুই করার নাই। কষ্টের জমানো টাকা প্রায় শেষ। শেয়ারবাজারের দরপতন দেখে কেনা শেয়ারগুলো আবার তড়িঘড়ি করে বিক্রি করে দিয়ে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে ফিরে আসেন শেয়ারবাজার থেকে।


এটা শুধু হাতে গোনা দু’একজন ব্যক্তি নন। এরকম শত শত নতুন শেয়ারহোল্ডার আছে যারা না জেনে, না বুঝে বিনিয়োগ করে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। নিজের জমানো টাকা লাভের আশায় বিনিয়োগ করে শেষ করে ফেলছেন। আবার অনেকেই বিনিয়োগ করে লাভবানও হচ্ছেন। তাই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ শুরুর আগে পুরো বিষয়টি বুঝে নিতে হবে ভাল করে। বর্তমানে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীর সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ। সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ লোক নিয়মিত শেয়ার লেনদেন করে থাকেন। আর প্রতিটি কার্য দিবসে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার বিনিয়োগকারী লেনদেনের কাজ করেন। প্রতিদিনের লেনদেনের পরিমাণও অনেক। এখান থেকে কেউ লাভ করছেন, কারও আবার বিনিয়োগ করা টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। কাদের জন্য এই শেয়ারবাজার তাও জানতে হবে।
কাদের বিনিয়োগ করা উচিত

শেয়ার ব্যবসা কি সবার জন্য? পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে চাইলে কেউ আপনাকে বাধা দিতে পারবে না। তবে এ ব্যবসায় আপনার ঢোকাটা ঠিক হবে কি না, তা আপনাকেই বুঝতে হবে। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজার আসলে সবার জন্য নয়। বর্তমানে দেখা যায়, ন্যূনতম জ্ঞান নেই এমন অনেক লোক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ব্যবসা সত্যিকার অর্থে নির্বাচিত কিছু লোকের জন্য। যাঁদের পুঁজিবাজার সম্পর্কে জ্ঞান আছে, যাঁরা ব্যবসায় ঝুঁকি নিতে পারেন, কেবল এমন পেশাদার শিক্ষিত লোকেরই উচিত এখানে বিনিয়োগ করা।


পেশা হিসেবে নিতে পারেন?

পুঁজিবাজারে সাধারণত দুই ধরনের বিনিয়োগকারী থাকেন। এক. ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিনিয়োগকারী। দুই. প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগকারী। আবার পুঁজিবাজারের ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের বেশির ভাগ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তাদের কেউ চাকরিজীবী, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ শিক্ষিত বেকার, কেউ বা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আবার অনেকেই আছেন যারা বিদেশ ফেরত। কেউ চাইলে এটাকে রীতিমতো পেশার ক্ষেত্র হিসেবেও নিতে পারেন। একটি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যানের মতে, অল্প কিছু দিন আগেও মানুষ ভাবতে পারত না, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে এটাকে পেশা হিসেবে নেওয়া যাবে। তবে বর্তমানে সে ধারণা পাল্টে গেছে। এখন অনেকেই পুঁজিবাজারকে পেশার জায়গা হিসেবেই নিচ্ছেন। বিশেষ করে অনেক শিক্ষিত বেকার ও বিদেশ ফেরত লোকজন পুঁজিবাজারকে পেশার ক্ষেত্র হিসেবে নিচ্ছেন।


কৌশলী হতে হবে বিনিয়োগে

অনেকেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকে লটারির মতো মনে করে থাকে। তবে শেয়ার ব্যবসা কোনো লটারির খেলা নয়। এখানে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে হলে তাকে কৌশলী হতে হবে। বাজারের ধারাকে বুঝতে হবে। বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক তথ্য যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। তা ঠিকভাবে না করতে পারলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি। অনেকে আবার বিভিন্ন গুজবে কান দিয়ে বিনিয়োগ করে নিজের ক্ষতি করে ফেলছেন।


বিনিয়োগ করতে হবে ভিন্ন ভিন্ন খাতে

আপনি যদি শেয়ারে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে চান, তবে বিনিয়োগ করার সময় একটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। মূলধনের টাকাকে খাত অনুযায়ী ভাগ করে নিতে হবে। বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের ফলে কোনো একটি বিশেষ খাতের বিনিয়োগ যদি ক্ষতির মধ্যেও পড়ে যায় তা অন্য খাতের মাধ্যমে পুষিয়ে নিতে পারবেন। আর পুরো টাকা একটি খাতে বিনিয়োগ করে ফেললে সে সুযোগ আর থাকে না। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের সিকিউরিটিকে ১৭টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলো হলো ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, করপোরেট বন্ড, বিমা, প্রকৌশল খাত, খাদ্য ও সমজাতীয় পণ্য, জ্বালানি, ওষুধ, কাগজ ও মুদ্রণ, সেবা, পাট, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, তথ্যপ্রযুক্তি, সিরামিক, পর্যটন এবং বিবিধ। আপনি যদি শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে চান, তবে আপনাকে এসব খাত ধরে বিনিয়োগ করতে হবে।


বিভিন্ন শেয়ারের ক্যাটাগরি

শেয়ারবাজারে যেসব কোম্পানির শেয়ার আছে সেগুলোকে আবার এ, বি, এন এবং জেড ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ওই সব কোম্পানির শেয়ার, যারা নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করে এবং শেয়ার লভ্যাংশও দেয় ১০ শতাংশের ওপর। নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করলেও লভ্যাংশ দেয় ১০ শতাংশের কম তারা পড়ে বি ক্যাটারিতে। এন ক্যাটারিতে আছে এক বছরের কম সময় আগে নিবন্ধিত কোম্পানির শেয়ার। আর জেড ক্যাটারিতে রয়েছে যারা নিয়মিত লভ্যাংশ দেয় না এবং এজিএমও করে না। যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে সাবধানতা মেনে চলেন, তারা সাধারণত এ ক্যাটারির শেয়ার কিনে থাকেন।


বিনিয়োগের আগে ভাবুন

যারা ভাবছেন শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন, তারা বিনিয়োগকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কয়েকটি বিষয় বিশেষ খেয়াল রাখুন। তবে হ্যা ঝুঁকি যত বেশি, লাভবান হওয়ার সুযোগও তত বেশি। শেয়ার বেচার সময় শতকরা ১০ টাকা লাভ হলেই বিক্রি করে দেয়া উচিত। নিম্নে কিছু টিপস দেয়া হলো-
  • পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ একটি সুচিন্তিত, পরিকল্পিত ও বিশ্লেষণধর্মী বিনিয়োগ হতে হবে। 
  • এখানে লাভের যেমন সুযোগ আছে, তেমনি আছে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও। 
  • কোম্পানি/ফান্ডের অতীত, বর্তমান, আর্থিক ফলাফল এবং অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইত্যাদি নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করতে হবে। 
  • বিনিয়োগের আগে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন দিক, বিষয়, খুঁটিনাটি সম্পর্কে সঠিক, পর্যাপ্ত তথ্য ও জ্ঞানলাভ করতে হবে। বিনিয়োগের সময় প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষিত আয়-ব্যয়সহ আর্থিক অবস্থা সম্পর্কিত স্বীকৃত কিছু মানদ- বিশ্লেষণ করে দেখতে হয়। ফলাফল বিশ্লেষণ ছাড়া বিনিয়োগে ঝুঁকি বেশি।
বি.দ্র. : এ লেখাটি গত ১৫ আগস্ট দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে (শিল্প-বাণিজ্য পাতা)।