এসইসির আপিল না করার সিদ্ধান্ত রাইট ও বোনাস ঘোষণা করতে পারবে এইমস মিউচ্যুয়াল ফান্ড
এইমস ফাস্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বোনাস ও রাইট শেয়ারের আবেদন করার অনুমতি দিয়েছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। একইসঙ্গে এইমস মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রাইট ও বোনাস শেয়ারের বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসইসি। বুধবার কমিশনের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এসইসির এ সিদ্ধান্তের ফলে এইমস মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রাইট ও বোনাস শেয়ার ঘোষণা করতে আর কোন বাধা থাকল না।
উল্লেখ্য গত ৫ অক্টোবর এইমস ফাস্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বোনাস ও রাইট শেয়ার ঘোষণার আবেদন নাকচ করে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের আলোকে এইমস ট্রাস্টি বোর্ডের বোনাস ও রাইট শেয়ারের প্রস্তাব পাঠানোর ১০ দিনের মধ্যে এসইসির তা অনুমোদনের নির্দেশ দেয় আদালত। বিচারপতি মামনুন রহমান এবং বিচারপতি সৈয়দা আফসার জাহানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন।
চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এইমস ফাস্টের ট্রাস্টি কমিটি ২০০৭-০৮ এবং ২০০৮-০৯ অর্থবছরের জন্য ৭০ শতাংশ বোনাস এবং ১৩০ শতাংশ রাইট শেয়ার ইস্যুর ঘোষণা দেয়। নিয়ম অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য এসইসির কাছে আবেদন জানায় এইমস ফাস্ট। পরের দিন এসইসি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এইমসের লেনদেন স্থগিত করে দেয়। ৭ মার্চ এসইসি এইমসের আবেদন নাকচ করে লেনদেন পূনরায় শুরুর নির্দেশ দেয়। এসইসির এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একজন বিনিয়োগকারী রিট দায়ের করলে হাইকোর্ট ২৮ মার্চ এইমসের রাইট ও বোনাস ইস্যুর আবেদন বাতিল করে এসইসির সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে মিউচ্যুয়াল ফান্ডটির নতুন করে লভ্যাংশ ঘোষণার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ২৯ মার্চ মিউচ্যুয়াল ফান্ডটি নিয়ে নতুন করে কারসাজির আশঙ্কায় অনিদৃষ্টকালের জন্য লেনদেন স্থগিত করে দেয় এসইসি।
বিধি অনুযায়ী তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের লেনদেন সর্বোচ্চ ২৮ দিন বন্ধ রাখার সুযোগ থাকলেও এসইসি এ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন একাধারে ৯৪ দিন বন্ধ রাখে। ৩০ জুন এসইসির এক আদেশে এ ফান্ডের লেনদেন পূনরায় চালু হয়।
উল্লেখ্য ২০০৮ সালে এইমস ফাস্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করলে সে বছরের ২২ জুন এসইসি এ ফান্ডের বোনাস ঘোষণার আবেদন নাকচ করে দেয়। একইসঙ্গে মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০০১ এর ধারা সংশোধন করে মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বোনাস বা রাইট শেয়ার ইস্যু নিষিদ্ধ করে। তবে মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রাইট বা বোনাস দেয়ার নজির পৃথিবীর কোথাও না থাকলেও ২০০৭ সালে এইমস মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ারের অনুমোদন দিয়েছিল। এইমসের বোনাস শেয়ারের আবেদন এসইসি কতৃক নাকচ হওয়ার পর তিনজন বিনিয়োগকারী হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে ২০০৮ সালের ২৬ জুন এসইসির সংশোধনীর কার্যকারিতা স্থগিত করে আদালত। একইসঙ্গে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সব মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ২০০৯ সালের ৮ নভেম্বর এ মামলার রায় দেয় আদালত। রায় অনুযায়ী ২০০৮ সালের ২২ জুনের আগে বাজারে থাকা মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো এসইসির অনুমোদনক্রমে বোনাস বা রাইট শেয়ার ইস্যু করতে পারবে।
২০০৯ সালে মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিষয়ে হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অন্য মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো তাদের ইউনিট হোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এক্ষেত্রে এইমস ফাস্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডই শুধুমাত্র তার ইউনিট হোল্ডারদের জন্য বোনাস এবং রাইট শেয়ারের ঘোষণা দেয়।
No comments:
Post a Comment