একটি ইউনিট ফান্ড এবং দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অনুমোদন
সূচক বিষয়ে ডিএসই ও সিএসইকে আন্তর্জাতিক নীতিমালা প্রণয়নের নিদের্শ
ভৌত অবকাঠামো এবং জ্বালানী-বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে আসার পথ সুগম হচ্ছে। এই খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণ প্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার বিক্রিতে বিদ্যমান কিছু শর্ত শিথিল করা হবে। আর এই লক্ষ্যে সংশোধন করা হবে বিদ্যমান আইপিও বিধিমালা। গতকাল মঙ্গলবার শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিধিমালায় কি কি পরিবর্তন আনা হবে তা গতকালের বৈঠকে চূড়ান্ত হয়নি। বুকবিল্ডিং বিধিমালা সংশোধনে গঠিত একটি কমিটিকে এই বিষয়ে সুপারিশ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এসইসির চেয়ারম্যান মো. জিয়াউল হক খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে পুঁজিবাজারে নিয়মানুযায়ী কোন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে হলে সেই কোম্পানিকে পাঁচ বছর উৎপাদনে থাকার পাশাপাশি তিন বছর লাভজনক থাকতে হবে। কিন্তু জ্বালানি ও অবকাঠামোখাতের বেশিরভাগ কোম্পানির পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এসইসি’র এ আইন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অবকাঠামো ও জ্বালানিখাতের জন্য প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। তাই এসব বিষয় বিবেচনায় এনে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি ও বাংলাদেশ এনার্জি কোম্পানিজ এসোসিয়েশন পৃথকভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য এসইসির বর্তমান আইন শিথিলের আবেদন জানায়। তাদের এ আবেদনের বিষয়ে কমিশনের মঙ্গলবারের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্টদের আবেদন ও এসইসির আইন যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনের পরবর্তি বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে। এসব কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এছাড়া বৈঠকে একটি ইউনিট ফান্ড এবং দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ফান্ডগুলো হচ্ছে- যমুনা ব্যাংক ইউনিট ফান্ড, এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং এনসিসি ব্যাংক ফার্স্ট এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। ফান্ড তিনটির আকার আড়াইশ কোটি টাকা। তিনটি ফান্ডেরই ইউনিটের অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা। এছাড়াও বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অতিরিক্ত সূচক চালুর জন্য নীতিমালা জমা দেয়ার সময় ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভুঁইয়া এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
যমুনা ব্যাংক ইউনিট ফান্ডের আকার ৫০ কোটি টাকা। এর উদ্যোক্তা বেসরকারি যমুনা ব্যাংক লিমিটেড। ফান্ডটিতে উদ্যোক্তার অংশ থাকবে ১০ শতাংশ বা পাঁচ কোটি টাকা। বাকী ৪৫ কোটি টাকার ইউনিট ব্যাক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। ফান্ডটি পরিচালনা করবে আলিফ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।
এমবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উদ্যোক্তা মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড। এর আকার ১০০ কোটি টাকা। এতে উদ্যোক্তা মার্কেন্টাইল ব্যাংক যোগান দেবে ১০ কোটি টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হবে ৪০ কোটি টাকার ইউনিট। বাকী ৫০ কোটি টাকা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। ফান্ডটির ব্যবস্থাপক এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।
এনসিসি ব্যাংক ফার্স্ট এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আকার ১০০ কোটি টাকা। এতে উদ্যোক্তা এনসিসি ব্যাংকের অংশ হবে ১০ কোটি টাকা। প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হবে ৪০ কোটি টাকা মহৃল্যের ইউনিট। ২৫ কোটি টাকার ইউনিট সংরক্ষিত থাকবে অনিবাসী বাংলাদেশীদের জন্য। আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ জনগণের কাছে বিক্রি করা হবে ২০ কোটি টাকার ইউনিট। বাকী পাঁচ কোটি টাকার ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হবে বিভিন্ন মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে। এই ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে ভিআইপি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।
আনেয়ারুল কবীর ভুইয়া বলেছেন, ডিএসই ও সিএসইতে অতিরিক্ত সূচক চালুর জন্য সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জগুলোর আন্তর্জাতিক ফোরাম আইওএসসি’র নীতিমালার ভিত্তিতে একটি নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ডিএসইকে। এর জন্য ডিএসইকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নীতিমালা জমা দিতে পারেনি। এই সময়সীমা ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে কমিশন। এই নীতিমালার ভিত্তিতে পরবর্তীতে সূচক সংশোধন করা হবে।
তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাজারের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলনের জন্য অতিরিক্ত সূচক খুবই দরকার। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাজার অনেক উর্ধমুখী হয়ে ওঠার কারণেও সূচক সংশোধন খুব জরুরি। উল্লেখ্য, ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নির্ধারণে প্রচলিত জটিলতা দূর করতে ইউনিফর্ম ইনডেক্স গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ দিয়েছে এসইসি।
No comments:
Post a Comment