এর আগে ডিএসইতে রেকর্ড লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৮শ ১ কোটি টাকা। গত ১৬ জুন ডিএসইতে লেনদেন হয় ২ হাজার ৪শ ৮৬ কোটি টাকা। মঙ্গলবারের লেনদেন চিত্রে দেখা গেছে, অন্যন্য খাতের তুলনায় ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে মঙ্গলবার ২৫টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছে।
সোমবার রাতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুঁজিবাজারে বর্তমানে অন্তর্ভুক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত শেয়ার বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এ ছাড়া যে ২৬টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এখনো বাজারে ছাড়া হয়নি তাদেরকেও একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়তে বলা হয়। এমন খবরে বাজারে প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে প্রতিদিনই নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। ফলে তারল্য প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। যে কারণে লেনদেন ও মূল্যসূচক বাড়ছে। গত এক বছরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা দ্বিগুণের চেয়েও বেশি হওয়ায় ডিএসইতে লেনদেনের পরিমান বেড়েই চলেছে। তবে চাহিদার তুলনায় শেয়ারের প্রচন্ড সঙ্কটের কারণে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধি পেয়ে অতি মূল্যায়িত হচ্ছে এবং এটা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো বেশি ঝুঁকির সৃষ্টি করছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে ২৪৩টি কোম্পানির ১১ কোটি ৭২ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য ছিল ২ হাজার ৮৩৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৫০২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা বেশি। ডিএসই সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৭৬ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ৭ হাজার ৮১৭ দশমিক ২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ডিএসই-২০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৯ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৮৭৫ দশমিক ৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত ২৪৩টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩২টির, কমেছে ১০৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮টির। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, বাজারে প্রতিদিন নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে প্রতিদিন শত শত নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে। ফলে বাজারে তারল্য প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে শেয়ারের সরবরাহ কম। কিন্তু টাকা বেশি, ফলে শেয়ারের দাম বাড়বেই। তিনি আরও বলেন, শেয়ারবাজারে লাভ হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এ বাজারের দিকে ঝুঁকছেন।
মঙ্গলবার ডিএসইতে যেসব কোম্পানির শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হলো- তিতাস গ্যাস, প্রাইম ফাইন্যান্স, ইউসিবিএল, পাওয়ার গ্রীড, পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স এন্ড সার্ভিসেস লি., বেক্সিমকো লি., বেক্সটেক্স, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লি., এবি ব্যাংক ও শাইনপুকুর সিরামিকস। যসব কোম্পানির শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সেগুলো হলো- ইমাম বাটন, উত্তরা ব্যাংক, মিথুন নিটিং, দেশ গার্মেন্টস, বঙ্গজ, বে-লিজিং, আইপিডিসি, সায়হাম টেক্সটাইল, উসমানিয়া গ্যাস ও ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং। আর যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে সেগুলো হলো- এক্সিম ব্যাংক, মেট্রো স্পিনিং, ঢাকা ডাইয়িং, মিরাক্যাল ইন্ডাষ্ট্রিজ, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, ৩য় আইসিবি, বিডি ওয়েল্ডিং, বিজিআইসি ও ২য় আইসিবি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারের বর্তমান আকার অনুযায়ী ডিএসইতে লেনদেন সর্বোচ্চ ৮০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকা হতে পারে। বিনিয়োগকারীর সাথে পাল্লা দিয়ে শেয়ারের সরবরাহ না বাড়ানো হলে খুব শিগগির পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাজার বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, শুরুতে ডিএসই-সিএসইসহ সংশ্লিষ্টরা বাজারে আসার জন্য বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধ করেছে। এতে বাজারে নতুন নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু তাদের চাহিদা অনুযায়ী শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানো যায়নি। তা বাড়াতে সরকারও তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি। এসব কারণেই বাজারের ঊর্ধ্বগতি সম্ভাবনা না হয়ে সংকটে পরিণত হয়েছে।
নানামুখী আশঙ্কার মধ্যেও লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধিকে পুঁজিবাজারের শক্তি-সামর্থের প্রমাণ মনে করলেও স্বাভাবিক সংশোধন ছাড়াই সূচকের ধারাবাহিক উর্ধমুখী অবস্থানকে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সঙ্গে লেনদেনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
লাগাম টানতে পারছে না এসইসি: অধিকাংশ শেয়ারের দর অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বড় ধস থেকে বিনিয়োগকারীদের রক্ষার লক্ষ্যে পুঁজিবাজারের লাগাম টেনে ধরতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কিন্তু গত ১০ মাসে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েও বাজারের উর্ধগতি রোধে তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। পুঁজির প্রবাহ কমিয়ে শেয়ারবাজারের পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানতে কয়েক দফায় মার্জিন ঋণ সুবিধা সঙ্কোচন করেছে এসইসি। বাজার মূল্য ও কোম্পানির আয়ের (পিই) অনুপাত ৪০-এর বেশি হলে শেয়ারের বিপরীতে ঋণ সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউসের ঋণ প্রদানের ক্ষমতাও কমানো হয়েছে। কিন্তু কোন পদক্ষেপই বাজারে প্রত্যাশিত মাত্রায় মূল্য সংশোধন হয়নি।
সর্বশেষ বাজারের রাশ টানতে শেয়ারের বাজার মূল্য ও প্রকৃত সম্পদমূল্যের (এনএভি) ভিত্তিতে মার্জিন ঋণ নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েও সফল হয়নি এসইসির প্রচেষ্টা। বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কের কারণে কিছুদিন বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করলেও লেনদেন ও সূচক বৃদ্ধির ধারায় তেমন ছেদ পড়েনি। শেষ পর্যন্ত দুই বিনিয়োগকারীর রিটের প্রেক্ষিতে মার্জিন ঋণ ও সমন্বয় সুবিধা নিয়ে এসইসির দু'টি নির্দেশনার কার্যকারিতা স্থগিত করে দিয়েছে হাইকোর্ট। সুপ্রীমকোর্টে আপীল করেও ওই আদেশ বদলাতে পারেনি এসইসি। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে আপাতত বড় কোন অস্ত্রই প্রয়োগ করতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই সুযোগে আবারও পাগলা ঘোড়ার গতিতে ছুটছে শেয়ারবাজার।
রেকর্ডময় শেয়ারবাজার: ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পর ২০০৭ সালের ১৮ জানুয়ারি ১০০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেনের মাইলফলক স্পর্শ করেছিল দেশের প্রথম শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। অবশ্য এর ২ বছর ১০ মাস পর ২০০৯ সালের ১১ অক্টোবর লেনদেনের অঙ্ক হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছিল। পরের ৭ মাসের মাথায় চলতি বছরের ১২ মে ২০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় ডিএসইর লেনদেন। সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর ২ হাজার ৪৮৯ কোটি ২২ লাখ টাকার লেনদেনের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল নতুন রেকর্ড। মাত্র চারদিনের মধ্যেই সেই রেকর্ড ভঙ্গ করে ঢাকার শেয়ারবাজারে একদিনে ২ হাজার ৮৩৬ কোটি মূল্যের শেয়ার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ড লেনদেনের মধ্য দিয়ে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) রেকর্ড পনিমাণ লেনদেনের মাধ্যমে দুই শেয়ারবাজার মিলে লেনদেনে মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
অন্যদিকে শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো ১৫ কোটি অতিক্রম করেছে ডিএসই। বৃহস্পতিবার ৭ সেপ্টেম্বর এই শেয়ারবাজারে মোট ১৫ কোটি ৩০ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০টি শেয়ার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ড লেনদেন হয়েছে,যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে গত মঙ্গলবার ৫ সেপ্টেম্বর ১৪ কোটি ৫২ লাখ ২৭ হাজার ৬০৮টি শেয়ার, ইউনিট ও বন্ড লেনদেনের মাধ্যমে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল। লেনদেন সংখ্যার (হাওলা) দিক থেকেও বৃহস্পতিবার নতুন রেকর্ড দেখেছে ডিএসই। এদিন মোট ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৭৯৩ বার লেনদেন হয়েছে।
এর আগের রেকর্ড ছিল গত রোববারের ২ লাখ ৯৯ হাজার ২২২ বার লেনদেন। অন্যদিকে আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে বৃহস্পতিবার ৭ সেপ্টেম্বর ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৩৯৬ কোটি ২৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। দুই শেয়ারবাজারেই বৃহস্পতিবার ৭ সেপ্টেম্বর অধিকাংশ শেয়ারের দর কমলেও আরেক দফা বেড়েছে বাজার সূচক। মূলত: ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের ব্যাপক দরবৃদ্ধিই সূচকের ক্ষেত্রে আগের ১২ কার্যদিবসের উর্ধমুখী যাত্রা ধরে রেখেছে। একদিনে ডিএসই সাধারণ সূচক ৬৭ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ৭৪৮০.৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই সার্বিক সূচক ৫৩ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬২২৪.১৪ পয়েন্টে উঠেছে।
ঝুঁকি বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের: চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভাল শেয়ার বাড়াতে না পারায় পুঁজিবাজারে অধিকাংশ কোম্পানির বাজার মূল্য ও আয়ের (পিই) অনুপাত ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে ডিএসইর তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির গড় পিই অনুপাত ছিল ২৪.৫৫। সর্বশেষ গত সপ্তাহে এই অনুপাত ২৬.৩৯-এ দাঁড়ায়। চলতি সপ্তাহে অধিকাংশ শেয়ারের দর যে হারে বেড়েছে তাতে পিই অনুপাত ইতোমধ্যেই ২৭ ছাড়িয়ে গেছে বলে ধরে নেয়া যায়। আন্তর্জাতিকভাবে শেয়ারবাজারের পিই অনুপাত ১৫-এর নিচে থাকলে তাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়া হয়। এর উপরে উঠলেই শেয়াবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিশ্লেœষকরা মনে করেন।
আন্তর্জাতিক খ্যাতসম্পন্ন ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুওরস-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোন শেয়ারের পিই অনুপাত ১৫ পর্যন্ত স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। পিই অনুপাত ১৫-এর উপরে উঠলে ওই শেয়ারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে পিই যত বাড়বে ঝুঁকিও ততো বাড়বে। আবার পিই অনুপাত ১৫-এর কম হলে ওই শেয়ারটিকে অবমূল্যায়িত হিসেবে ধরা যায়। সেই হিসেবে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারেরই পিই অনুপাত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে গত দু'সপ্তাহ ধরে বাজার সূচকের ধারাবাহিক উর্ধগতি অধিকাংশ শেয়ারের দর ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।
বিনিয়োগকারী এবং অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাল শেয়ারের যোগান না বাড়ার কারণেই শেয়ারের দর ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেœষকরা। দরবৃদ্ধির এই হার কোম্পানির আয় বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হওয়ায় বাড়ছে শেয়ারের পিই অনুপাত, যা বাজারকে ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোকেই সবচেয়ে বড় সমাধান বলে মনে করছেন বিশ্লেœষকরা।
বিনিয়োগে বিকল্প না পেয়ে সবাই ছুটছে শেয়ারবাজারে প্রতিদিনই নতুন নতুন বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে আসছেন। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অফ বাংলাদেশ (সিডিবিএল)'র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৭ থেকে বেড়ে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩০ লাখ দাঁড়িয়েছে।
নানা কারণে গত দু'বছরে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাপকহারে বেড়েছে। বিশেষ করে কালো টাকা সাদা করার শর্তহীন সুযোগ গ্রহণ করে গত অর্থবছরে অনেকেই বিপুল পরিমাণ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। কারণ অন্য খাতের চেয়ে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগে ঝামেলা কম, মুনাফার সুযোগ বেশি। পাশাপাশি বিদ্যুত ও জ্বালানি সঙ্কটের কারণে শিল্প খাতে বিনিয়োগ প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় শিল্প উদ্যোক্তাদের অনেকেই শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন। একই কারণে ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হয়েছে। ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ পুঁজিবাজারের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে পেনশনভোগী বিপুল সংখ্যক মানুষ সঞ্চয়পত্রের পরিবর্তে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ করতে আসছেন। এসব কারণেই ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে শেয়ারবাজারের লেনদেন।
পুঁজিবাজারে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রবাহ অব্যাহত থাকলেও এই টাকাকে উৎপাদনশীল খাতে স্থানান্তর প্রক্রিয়া গতিশীল করতে ব্যর্থ হলে এক সময় তা জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ গ্যাস-বিদ্যুতসহ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ না থাকায় বড় উদ্যোক্তারাই এখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। উৎপাদনশীল খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ শেয়ারবাজারে চলে আসায় জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিল্প খাতের পরিবর্তে উদ্যোক্তাদের অনেকেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হয়ে পড়ছেন।
অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ স্বাভাবিক সংশোধন ছাড়াই শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক উর্ধমুখী অবস্থানকে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সঙ্গে লেনদেনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বিনিয়োগকারীদের বুঝে-শুনে লেনদেন করার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেন, শেয়ারবাজারে সূচক বৃদ্ধি যেমন স্বাভাবিক, তেমনি যে কোন সময় তা সংশোধন হওয়াও স্বাভাবিক। ফলে বাজারের উর্ধমুখী অবস্থা দেখে প্রলুব্ধ হয়ে অতিরিক্ত দামে শেয়ার কেনা উচিত নয়। লোভ বা হুজুগের বশবর্তী হয়ে বিনিয়োগ না করে কোম্পানির সার্বিক অবস্থা এবং দর ওঠা-নামার সাম্প্রতিক গতি-প্রকৃতি দেখে শেয়ার লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বর্তমানে এলায়েন্স ক্যাপিটাল এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়ালি-উল-মারুফ মতিন বলেন, স্বাভাবিক সংশোধন ছাড়াই শেয়ারবাজারের উর্ধমুখী প্রবণতার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যত নিয়ে এক রকম শঙ্কা তৈরি করছে। বাজারে উল্লেœখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারের দর অতি মূল্যায়িত। শেয়ারের মূল্য ও আয়ের (পিই) অনুপাত অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে এসইসি ঋণ সঙ্কোচনসহ নানা পদক্ষেপ নিলেও তার কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তার ওপর মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি উচ্চ আদালতে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় কমিশন এখন অনেকটাই নিষক্রিয় হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় তিনি শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
No comments:
Post a Comment