মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে পুঁজিবাজার লেনদেন
ইনডেক্স সার্কিট ব্রেকার ও মার্জিন ঋণ সীমা থাকছে না
দু সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি
বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আসা এমআই সিমেন্ট ও মোবিল যমুনার কার্যক্রম স্থগিত
কারসাজি করে কত টাকা সরানো হয়েছে খতিয়ে দেখবে
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইনডেক্স সার্কিট ব্রেকার ও মার্জিন ঋণ সীমা প্রত্যাহারসহ বেশকিছু জরুরী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে পুঁজিবাজারে তারল্য সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নমনীয় নীতি গ্রহণ করবে। পুঁজিবাজার লেনদেনে ইনডেক্স সার্কিট ব্রেকার প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে বিনিয়োগকারীদের ঋণের উপর কোন ধরণের মার্জিন থাকছে না। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। তার আগ পর্যন্ত দুটি কোম্পানি এমআই সিমেন্ট ও মোবিল যমুনার পুঁজিবাজারে আসার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার থেকে আবারো শুরু হবে শেয়ারবাজার লেনদেন।
এছাড়া পুঁজিবাজারে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা এবং বাজার কারসাজির মাধ্যমে কত টাকা তুলে নেয়া হয়েছে, কারা এ কারসাজির সঙ্গে জড়িত ছিল এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে আগামী দু’ সপ্তাহের মধ্যে একটি তদন্ত কমিশন ঘটন করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োকারী, ব্যাংক ও মার্চেন্ট ব্যাংক পুঁজিবাজার থেকে যে মূলধন করেছে সেটি আবারো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। পুজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকুইরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে শক্তিশালী করতে এর জনবল দ্বিগুণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কিছুটা সমন্বয়ের অভাব ছিল। পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য এটিও একটি বিষয়। এসইসির উপদেষ্টা কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিধি থাকেন। তাদের মধ্যে আলাপ হয়। সেটি যাতে আরো ঘন ঘন হয় সে উদ্যোগ নেয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক করতে এসইসির সমন্বয় কমিটি এবং উপদেষ্টা কমিটি আরো শক্তিশালী করা হবে।
গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারি, এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার, এসইসি সদস্য ইয়াসিন আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা ও জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যুগ্মসচিব অমলেন্দু মুখার্জি প্রমুখ। এর আগে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকে পুঁজিবাজার লেনদেন চালু করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেগুলো বাস্তবায়নে অন্তত একদিন সময় দরকার। তাই মঙ্গলবার থেকে লেনদেন শুরু হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারের যে অবস্থা তাতে বলা যায় এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবে সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং লেনদেন শুরুর মধ্য দিয়ে আবারো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ৫ মিনিটে সূচক ৬০০ পয়েন্ট হারালেও গড় পিই (প্রাইস আর্নিং) রেশিও ২৩ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এ পরিমান পিই রেশিও সহনীয় মনে করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশে এরচেয়ে বেশি পিই রেশিও হয়েছে। আমাদের পুঁজিবাজার ছোট বলে এটিকে বড় ঘটনা মনে হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের এমন উন্মত্ত আচরণ করা উচিত হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার থেকে টাকা চলে গেছে বলে যে কথা বলা হচ্ছে সেটি একেবারেই বাজে কথা; এর কোন ভিত্তি নেই। তবে কিছু টাকা গেছে। কারা এসব টাকা নিয়েছে সেটি খতিয়ে দেখার জন্য কাজ করবে তদন্ত কমিটি।
মুহিত বলেন, শেয়ার বাজারে যে ধরণের ঘটনা ঘটেছে এর দায় আমি এবং এসইসি নিলেও পুরো বিষয়টি থেকে সংশ্লিষ্ট কেউ দায় এড়াতে পারেন না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারীদেরও বিশেষ ভূমিকা ছিল। তবে যে দায়ী হোক তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সেটি খতিয়ে দেখা হবে। আমাদের জন্য এসব বিষয় অনুসন্ধান করে বের করা এখন আর কঠিন কিছু নয়; যেহেতু সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি বাংলাদেশ লি.) পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে তাই এর মাধ্যমে সবই জানা যাবে।
গতকাল বিকেলের সংবাদ সম্মেলনের আগে সকালে অর্থমন্ত্রী সরকারের নীতি নির্ধারক ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মন্ত্রী সকালের সে বৈঠকের সূত্র ধরে জানান যে তার কাছে সংশ্লিষ্টরা পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দু ধরণের প্রস্তাব দিয়েছেন। এরমধ্যে কিছু প্রস্তাব রয়েছে যেগুলো তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন করা আর কিছু মধ্যমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তারল্য সঙ্কটের কথা বলা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারল্য স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যতোটা নমনীয় নীতি গ্রহণ করা উচিত সেটি করবে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ ব্যাংকিং খাত পুঁজিবাজার থেকে যে মুনাফা তুলে নিয়েছে সেটি পুঁজিবাজারেই বিনিয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল। এ পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৩টি কোম্পানি এ পদ্ধতির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার উদ্যোগ নেয়। এরমধ্যে আরএকে সিরামিকস নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। তবে অন্য দুটি কোম্পানি এমআই সিমেন্ট ও মোবিল যমুনা নিয়ে কথা উঠেছে। এ দুটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত এদের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ইনডেক্স সার্কেট ব্রেকার নিয়েও কথা উঠেছে। এট্রি আর প্রয়োজন নেই, তাই এটি আর থাকছে না। তবে শেয়ারের উপর যে সার্কিট ব্রেকার রয়েছে সেটি থাকবে, তবে আরো আধুনিক করার জন্য সেটিরও সংস্কার করা হবে দুয়েকদিনের মধ্যে। তিনি বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো থেকে বিনিয়োগকারীদের যে মার্জিন ঋণ সীমা বেঁধে দেয়া হতো এসইসি থেকে সেটি আর থাকছে না। এর বদলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ঠিক করবে তারা কী পরিমান ঋণ দেবে বিনিয়োগকারীদের।
মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশে বাই ব্যাক পলিসি আছে। এর ফলে একটি কোম্পানি যে দামে শেয়ার বিক্রি করে সে দামে আবর কেনার বাধ্যবাধকতা থাকে। ভারত, শ্রীলংখায় এটি আগে থকে চালু আছে। আমাদের কোম্পানি আইনে এটি নেই। বাই ব্যাক পলিসি চালু করার জন্য খুব শিগগিরই কোম্পানি আইন সংশোধন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজার থেকে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ব্যাংক ও মার্চেন্ট ব্যাংক লাভ করেছে সেটি আবার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আর্থিক নীতির প্রয়োজনে কিছুটা কঠোর হয়েছিল। তবে শেয়ার বাজারের জন্য তারা যতোটা সম্ভব নমনীয় হবে। এছাড়া আমাদের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা কম। তাদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ডিএসই, এসইসিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এসইসিরি ঘনঘন সিদ্ধান্ত বন্ধ হবে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে এসইসি চেয়ারম্যান বলেন, গতবছর সারাবিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ সূচক বেড়েছে ঢাকার পুঁজিবাজারে। এটিকে স্থিতিশীল রাখার জন্যই ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে বাজার সংশোধনের কারণে এখন আর এটি প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি।
সকালে পদ্মায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, সংস্থাপন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খালেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান, বর্তমান সভাপতি শাকিল রিজভী, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি একে আজাদ, সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি ফখরুদ্দীন আলী আহমেদ, মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মুর্তজা আহমেদ প্রমূখ।
ইনডেক্স সার্কিট ব্রেকার ও মার্জিন ঋণ সীমা থাকছে না
দু সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কমিটি
বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আসা এমআই সিমেন্ট ও মোবিল যমুনার কার্যক্রম স্থগিত
কারসাজি করে কত টাকা সরানো হয়েছে খতিয়ে দেখবে
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইনডেক্স সার্কিট ব্রেকার ও মার্জিন ঋণ সীমা প্রত্যাহারসহ বেশকিছু জরুরী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে পুঁজিবাজারে তারল্য সহায়তা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নমনীয় নীতি গ্রহণ করবে। পুঁজিবাজার লেনদেনে ইনডেক্স সার্কিট ব্রেকার প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে বিনিয়োগকারীদের ঋণের উপর কোন ধরণের মার্জিন থাকছে না। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। তার আগ পর্যন্ত দুটি কোম্পানি এমআই সিমেন্ট ও মোবিল যমুনার পুঁজিবাজারে আসার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার থেকে আবারো শুরু হবে শেয়ারবাজার লেনদেন।
এছাড়া পুঁজিবাজারে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা এবং বাজার কারসাজির মাধ্যমে কত টাকা তুলে নেয়া হয়েছে, কারা এ কারসাজির সঙ্গে জড়িত ছিল এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে আগামী দু’ সপ্তাহের মধ্যে একটি তদন্ত কমিশন ঘটন করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োকারী, ব্যাংক ও মার্চেন্ট ব্যাংক পুঁজিবাজার থেকে যে মূলধন করেছে সেটি আবারো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। পুজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকুইরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে শক্তিশালী করতে এর জনবল দ্বিগুণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কিছুটা সমন্বয়ের অভাব ছিল। পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জন্য এটিও একটি বিষয়। এসইসির উপদেষ্টা কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিধি থাকেন। তাদের মধ্যে আলাপ হয়। সেটি যাতে আরো ঘন ঘন হয় সে উদ্যোগ নেয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক করতে এসইসির সমন্বয় কমিটি এবং উপদেষ্টা কমিটি আরো শক্তিশালী করা হবে।
গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ তারেক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব শফিকুল ইসলাম পাটোয়ারি, এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার, এসইসি সদস্য ইয়াসিন আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা ও জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যুগ্মসচিব অমলেন্দু মুখার্জি প্রমুখ। এর আগে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকে পুঁজিবাজার লেনদেন চালু করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু আমরা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেগুলো বাস্তবায়নে অন্তত একদিন সময় দরকার। তাই মঙ্গলবার থেকে লেনদেন শুরু হবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারের যে অবস্থা তাতে বলা যায় এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবে সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং লেনদেন শুরুর মধ্য দিয়ে আবারো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ৫ মিনিটে সূচক ৬০০ পয়েন্ট হারালেও গড় পিই (প্রাইস আর্নিং) রেশিও ২৩ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এ পরিমান পিই রেশিও সহনীয় মনে করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশে এরচেয়ে বেশি পিই রেশিও হয়েছে। আমাদের পুঁজিবাজার ছোট বলে এটিকে বড় ঘটনা মনে হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের এমন উন্মত্ত আচরণ করা উচিত হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার থেকে টাকা চলে গেছে বলে যে কথা বলা হচ্ছে সেটি একেবারেই বাজে কথা; এর কোন ভিত্তি নেই। তবে কিছু টাকা গেছে। কারা এসব টাকা নিয়েছে সেটি খতিয়ে দেখার জন্য কাজ করবে তদন্ত কমিটি।
মুহিত বলেন, শেয়ার বাজারে যে ধরণের ঘটনা ঘটেছে এর দায় আমি এবং এসইসি নিলেও পুরো বিষয়টি থেকে সংশ্লিষ্ট কেউ দায় এড়াতে পারেন না। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারীদেরও বিশেষ ভূমিকা ছিল। তবে যে দায়ী হোক তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সেটি খতিয়ে দেখা হবে। আমাদের জন্য এসব বিষয় অনুসন্ধান করে বের করা এখন আর কঠিন কিছু নয়; যেহেতু সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি বাংলাদেশ লি.) পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে তাই এর মাধ্যমে সবই জানা যাবে।
গতকাল বিকেলের সংবাদ সম্মেলনের আগে সকালে অর্থমন্ত্রী সরকারের নীতি নির্ধারক ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মন্ত্রী সকালের সে বৈঠকের সূত্র ধরে জানান যে তার কাছে সংশ্লিষ্টরা পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দু ধরণের প্রস্তাব দিয়েছেন। এরমধ্যে কিছু প্রস্তাব রয়েছে যেগুলো তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন করা আর কিছু মধ্যমেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তারল্য সঙ্কটের কথা বলা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারল্য স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যতোটা নমনীয় নীতি গ্রহণ করা উচিত সেটি করবে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ ব্যাংকিং খাত পুঁজিবাজার থেকে যে মুনাফা তুলে নিয়েছে সেটি পুঁজিবাজারেই বিনিয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল। এ পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৩টি কোম্পানি এ পদ্ধতির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার উদ্যোগ নেয়। এরমধ্যে আরএকে সিরামিকস নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। তবে অন্য দুটি কোম্পানি এমআই সিমেন্ট ও মোবিল যমুনা নিয়ে কথা উঠেছে। এ দুটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত এদের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ইনডেক্স সার্কেট ব্রেকার নিয়েও কথা উঠেছে। এট্রি আর প্রয়োজন নেই, তাই এটি আর থাকছে না। তবে শেয়ারের উপর যে সার্কিট ব্রেকার রয়েছে সেটি থাকবে, তবে আরো আধুনিক করার জন্য সেটিরও সংস্কার করা হবে দুয়েকদিনের মধ্যে। তিনি বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো থেকে বিনিয়োগকারীদের যে মার্জিন ঋণ সীমা বেঁধে দেয়া হতো এসইসি থেকে সেটি আর থাকছে না। এর বদলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ঠিক করবে তারা কী পরিমান ঋণ দেবে বিনিয়োগকারীদের।
মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশে বাই ব্যাক পলিসি আছে। এর ফলে একটি কোম্পানি যে দামে শেয়ার বিক্রি করে সে দামে আবর কেনার বাধ্যবাধকতা থাকে। ভারত, শ্রীলংখায় এটি আগে থকে চালু আছে। আমাদের কোম্পানি আইনে এটি নেই। বাই ব্যাক পলিসি চালু করার জন্য খুব শিগগিরই কোম্পানি আইন সংশোধন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজার থেকে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ব্যাংক ও মার্চেন্ট ব্যাংক লাভ করেছে সেটি আবার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আর্থিক নীতির প্রয়োজনে কিছুটা কঠোর হয়েছিল। তবে শেয়ার বাজারের জন্য তারা যতোটা সম্ভব নমনীয় হবে। এছাড়া আমাদের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতা কম। তাদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ডিএসই, এসইসিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এসইসিরি ঘনঘন সিদ্ধান্ত বন্ধ হবে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে এসইসি চেয়ারম্যান বলেন, গতবছর সারাবিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ সূচক বেড়েছে ঢাকার পুঁজিবাজারে। এটিকে স্থিতিশীল রাখার জন্যই ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে বাজার সংশোধনের কারণে এখন আর এটি প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি।
সকালে পদ্মায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান, সংস্থাপন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খালেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান, বর্তমান সভাপতি শাকিল রিজভী, বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি একে আজাদ, সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি ফখরুদ্দীন আলী আহমেদ, মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ মুর্তজা আহমেদ প্রমূখ।
No comments:
Post a Comment