শেয়ারবাজার, পুঁজিবাজার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিএসই, বিএসইসি, সিএসই, মার্চেন ব্যাংক, বিএমবিএ, বন্ড, শেয়ার, সিকিউরিটিজ, ব্রোকারেজ হাউজ, বিনিয়োগকারী,
ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাভুক্তি প্রত্যাহারের জন্য পরামর্শ চেয়ে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন-এর কাছে চিঠি লিখেছে বেক্সিমকো সিনথেটিকস। এই বিষয়ে কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অবগতির জন্য পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- 'বেক্সিমকো সিনথেটিকস লিমিটেড-এর সম্মানিত শেয়ারহোল্ডারদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ড্রন টেক্সাচারাইজিং ইয়ার্ন (ডিটিওআই) নামে এক ধরনের পলিয়েস্টার সুতা উৎপাদন ও বিক্রির জন্য কোম্পানিটি ১৯৯০ সালের ১৮ জুলাই ‘যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর’-এ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। ১৯৯৩ সালের ৪ নভেম্বর ও ৬ নভেম্বর যথাক্রমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কোম্পানির কার্যক্রম ছিল একক পণ্য অর্থাৎ ডিটিওয়াই ঘিরে। তবে তখন যেহেতু ডিটিওয়াই-এর ব্যাপক চাহিদা ছিল, সেহেতু কোম্পানিটিও ভালো মুনাফা অর্জন করে এবং ১৯৯৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১৮ বছর ধরে বিরতিহীনভাবে নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করে। তবে ২০১৩ সালের পর থেকে কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। তখন থেকে কোম্পানি খুবই কঠিন সময় পার করতে থাকে। ডিটিওয়াই আমদানির ওপর সরকার শুল্ক হ্রাস করায় বারবার কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে থাকে।
শুল্ক হ্রাসের কারণে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত সস্তা ডিটিওয়াই বাজার দখল করে। ফলে বাংলাদেশে এই ধরনের সুতা উৎপাদন করে মুনাফা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়ে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত ৭ বছর ধরে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও কোম্পানি লক্ষ্যমাফিক উৎপাদন বা মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয় কোম্পানিটির। এ কারণে গত কয়েক বছর ধরে কোম্পানির শেয়ার অভিহিত মূল্যের চেয়েও কম দরে কেনাবেচা হয়ে আসছে।
অবশেষে, কোম্পানি উৎপাদন কার্যক্রম ও কারখানা বন্ধে বাধ্য হয়। আইনানুযায়ী সকল দেনা পরিশোধের পর সকল শ্রমিক এবং বেশিরভাগ কর্মকর্তা ও স্টাফকে ছাঁটাই করে।
এমতাবস্থায়, অত্যন্ত কষ্টকর হলেও অন্য কোনো বিকল্প না থাকায়, পরিচালনা পর্ষদ মনে করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এ কোম্পানির তালিকাভুক্তি প্রত্যাহার করে নেয়া উচিৎ। যেহেতু স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে কোনো কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাতিলের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিধিবিধান নেই, তাই এই বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন-এর কাছে চিঠি লিখেছে কোম্পানি।'
No comments:
Post a Comment