Monday, September 23, 2019

ডিএসই সূচক ৫০০০ পয়েন্টের উপরে

স্টাফ রিপোর্টার : সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঢাকায় স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৫০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। শতাংশ হিসেবে এই সূচক ১ দশমিক ৬১ শতাংশ।

চট্টগ্রামে প্রধান সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৭২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮২ শতাংশ।একইসঙ্গে লেনদেনও বেড়েছে দুই বাজারে। বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটানোর উদ্যোগের খবরে বাজারে বড় এই উত্থান হয়েছে মলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

রোববার পুঁজিবাজার চাঙ্গা করতে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ’ সুবিধা দেয়ার কথা ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

৯ টি শর্তে ব্যাংক গুলোকে এই সাময়িক তারল্য সুবিধা  দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এই টাকা পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব পোর্টফোলিওতে সরাসরি বিনিয়োগ করা যাবে অথবা তাদের সাবসিডিয়ারী কোম্পানিতে ঋণ দেয়া যাবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডার পরিচালক রকিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,“বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে পুঁজিবাজার আজকে ভাল করেছে। তবে এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। আরো উদ্যোগ নিতে হবে।”

“দেশের পুঁজিবাজারে দুটি সংকট ছিল একটা আস্থার সংকট আরেকটি তারল্য সংকট। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ যেমন তারল্য কমাতে পারে পাশাপাশি মানুষের আস্থা বাড়াতে ইতিবাচক ভুমিকা পালন করেবে।”
২০১০ সালে বড় ধসের পর ২০১৭ সাল থেকে পুঁজিবাজারে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে; ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু তার পরের বছর আবার কমতে শুরু করে সূচক।

২০১৯ সালে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে সবাই প্রত্যাশা করলেও তেমনটি হয়নি। দিন যতো যাচ্ছিল বাজারের অবস্থা ততোই খারাপ হচ্ছিল। সূচক কমতে কমতে ডিএসইএক্স ৫০০০ পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছিল। লেনদেন নেমে এসেছিল ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার ঘরে।

এ অবস্থায় পুঁজিবাজার নিয়ে বাজারের অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কমাল ।

এর পর সরকারের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনার খবর আসে গ্রামীণ ফোনের (জিপি)। এই খবরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে পুঁজিবাজার।

আর সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ দেওয়ায় চাঙ্গাভাবে ফিরতে শুরু করেছে বাজার।

রকিবুর রহমান বলেন,“বাংলাদশ ব্যাংককে আরো উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি ব্যাংকগুলো যেন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি আইসিবি যে বন্ড ছেড়েছিল যে টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার কথা ছিল। তারমধ্যে ৬০০ কোটি টাকার বন্ড এখনো অবিক্রিত রয়ে গেছে। সেটা বিক্রির উদ্যোগ নিতে হেব। ”
বাজার পরিস্থিতি

সোমবার ঢাকায় ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। রোববার এই বাজারে ৩০৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

সোমবার সিএসইতে ২৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। রোববার লেনদেনের অংক ছিল ১৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩৫৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৮২টির, কমেছে ৫৩ টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির দর।

ডিএসইএক্স বা প্রধান সূচক ৭৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার দশমিক ২৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৭ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ১৫৮ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ২৩ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৮৯ পয়েন্টে।

লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২৫৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৯টির, কমেছে ৩৬টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির দর।

No comments:

Post a Comment