Saturday, March 20, 2021

দুই খাতে ভর করে এগোচ্ছে শেয়ারবাজার - Outlook Bangla

দুই খাতে ভর করে এগোচ্ছে শেয়ারবাজার - Outlook Bangla: দুই খাতে ভর করে এগোচ্ছে শেয়ারবাজার


বিদায়ী সপ্তাহে মিশ্র প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সূচক, লেনদেন ও শেয়ারদর পতন ঘটে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে প্রভাব বিস্তারকারী গ্রুপের শেয়ার বিক্রির চাপে প্রধান সূচকের পতন হয়েছে ১৩৪ পয়েন্ট। অপরদিকে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি হওয়াকেও দায়ী করছেন অনেকেই।

দুই চাপে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অজানা শঙ্কার এমন চাপে ব্যাংক ও পাট খাত ছাড়া সবগুলোর পতন হয়েছে। এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক লেনদেন চিত্র বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন তথ্য।

গত ১৮ মার্চ শেষ হওয়া সপ্তাহে আগের চেয়ে ডিএইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৪ দশমিক ১৬ পয়েন্ট হারিয়েছে। ডিএস৩০ সূচক হারিয়েছে ৮০ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট ও শরিয়াহ্ সূচক ডিএসইএস হারায় ১৮ পয়েন্ট। এ সময়ে লেনদেন কমে আগের চেয়ে ২৬ দশমিক ৯২ শতাংশ।

শুধু লেনদেনের পরিমাণই কমেনি, কমেছে শেয়ার ও ইউনিট দর। গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৭২টি কোম্পানি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বৃদ্ধি পায় ৭২টির, যা মোট অংশগ্রহণকৃতের মাত্র ২০ শতাংশ। দর কমে যায় ২১০টির বা ৫৭ শতাংশের, অপরিবর্তিত ছিল ৮৬টির ও লেনদেন হয়নি চারটির।

লেনদেন কম হওয়ায় ও শেয়ারদর পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন হারিয়েছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। 

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে নতুন করে করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধির খবর এসেছে চারদিক থেকে। এতে অর্থনীতিবিদদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই শেয়ার বিক্রিতে মনোযোগী হচ্ছেন। এ চাপে শেয়ারদর কমেছে, কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান সূচকের অবনতি হওয়ার পরিমাণটি কাটিয়ে উঠতে আরও বেশি সময় নেবে। অর্থাৎ যে স্বল্প সময়ে সূচক ও শেয়ারদরের যে পতন হয়েছে, তা পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে তার চেয়েও বেশি সময় নেবে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে পতনের মধ্যেও পাট খাতের বিনিয়োগকারীরা সর্বোচ্চ ৯ দশমিক দুই শতাংশ গেইন করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে ব্যাংক খাতের মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশ। বাকি সব খাতেরই পতন হয়েছে। পতনের তালিকায় সর্বোচ্চ সাত দশমিক সাত শতাংশে ছিল সেবা খাত। এর পরই সিমেন্ট খাত ছয় দশমিক ছয় শতাংশ, এনবিএফআই পাঁচ দশমিক আট শতাংশ ও সাধারণ বিমা খাত পাঁচ দশমিক এক শতাংশ।

মোট লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের শেয়ার। এর পরই ছিল বিবিধ খাত, ওষুধ, টেলিকম, ব্যাংক, প্রকৌশল ও এনবিএফআই খাত।

একক কোম্পানি হিসেবে ডিএসইতে শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০টিতে উঠে আসে আজিজ পাইপস। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বোচ্চ ২০ দশমিক ৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এরপরই তালিকায় থাকা রহিমা ফুডের ১৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ, দেশ গার্মেন্টসের ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, অরামিট লিমিটেডের ১৩ শতাংশ, সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজের ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ, লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের প্রায় ১০ শতাংশ, স্টাইল ক্র্যাফটের আট দশমিক ৩৪ শতাংশ, সিলকো ফার্মার আট শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকের সাত দশমিক ২৮ শতাংশ ও আনলিমা ইয়ার্নের সাত দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ারদর বৃদ্ধি পায়। 

অপরদিকে শেয়ারদর হারানোর শীর্ষে স্থান পায় লুব-রেফ (বাংলাদেশ), ন্যাশনাল ফিড মিল, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, নর্দান ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, আইডিএলসি ফিন্যান্স ও ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বিডি। এছাড়া গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় এবারও লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে নেয় বেক্সিমকো লিমিটেড। 

No comments:

Post a Comment