![]() |
| 600 Index fall in Dhaka stock exchange |
* লেনদেন শুরর ৫ মিনিটের মধ্যে সূচক ৬০০ পয়েন্ট কমেছে
* রোববার লেনদেন বন্ধ
* ছয় ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন একমাসের জন্য বন্ধ
* তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত বিচার দাবি
* এতোদিন যারা সরকার ভুল বুঝিয়েছে তাদের শাস্তি দাবি
* ভাল শেয়ার ধরে রাখার পরামর্শ দিলেন ডিএসই প্রেসিডেন্ট
* ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ
* আটক ২১
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ইতিহাসের নজিরবিহীন দরপতনের পর লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। দুপুর ১টায় নতুন নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন শুরু হওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে সূচক ৬০০ পয়েন্ট পড়ে গেলে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার পর দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন আগামী রোববার বন্ধ থাকবে বলে সিএসই সূত্রে জানা গেছে।
শেয়ার বাজারে ধারাবাহিক দরপতনের প্রতিবাদে গতকাল বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিনিয়োগকারীরা। এ সময় মতিঝিলের বিভিন্ন স্থানে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভে, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্দ বিনিয়োগকারীরা মতিঝিলে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ শুরু করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ২১ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।
* রোববার লেনদেন বন্ধ
* ছয় ব্রোকারেজ হাউসের লেনদেন একমাসের জন্য বন্ধ
* তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত বিচার দাবি
* এতোদিন যারা সরকার ভুল বুঝিয়েছে তাদের শাস্তি দাবি
* ভাল শেয়ার ধরে রাখার পরামর্শ দিলেন ডিএসই প্রেসিডেন্ট
* ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ
* আটক ২১
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল ইতিহাসের নজিরবিহীন দরপতনের পর লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়। দুপুর ১টায় নতুন নিয়ম অনুযায়ী লেনদেন শুরু হওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে সূচক ৬০০ পয়েন্ট পড়ে গেলে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার পর দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন আগামী রোববার বন্ধ থাকবে বলে সিএসই সূত্রে জানা গেছে।
শেয়ার বাজারে ধারাবাহিক দরপতনের প্রতিবাদে গতকাল বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিনিয়োগকারীরা। এ সময় মতিঝিলের বিভিন্ন স্থানে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভে, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্দ বিনিয়োগকারীরা মতিঝিলে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ শুরু করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ২১ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা গতকালও মতিঝিলে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে। এ সময় তারা বিপুল সংখ্যক গাড়ি ভাঙচুর করে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় কাগজ জড়ো করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা এসইসি, ডিএসই, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্নোগান দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এ সসময় পুলিশ টিয়ারসেল ছুঁড়ে পাল্টা জবাব দেয়। ইত্তেফাক মোড় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সড়ক অবরোধ, নাশকতার চেষ্টা, বিশৃঙ্খলার ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘটনাস্থল থেকে তিন দফায় অন্তত ২১ জন আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ অন্যা শহরেও এ ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা গাড়ি ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধসহ চেষ্টা চালায়। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকায় তারা বেশিদূর এগোতে পারেনি।
এদিকে পুঁজিবাজারে বৃহস্পতিবার লেনদেনে অস্বাভাবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬টি ব্রোকারেজ হাউজের কার্যক্রম ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এগ্রেসিভ সেল করার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ব্রোকারেজ হাউসগুলো হলো: আইআইবিএফসি সিকিউরিটিজ, পিএফআই সিকিউরিটিজ, এনসিসি ব্যাংক লি. সিকিউরিটিজ, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ, এলাইন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লি. সিকিউরিটিজ। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারাও ওই ৩০ দিন সাসপেন্ড থাকবেন।
ডিএসই ও সিএসইতে আগামী রোববার শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। মার্কেট স্থিতিশীল করা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কিভাবে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর পরবর্তীতে কবে লেনদেন শুরু হবে তা রোববার জানিয়ে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এসইসির সংবাদ সম্মেলনে এসইসির সদস্য মো. ইয়াসিন আলী এসব কথা বলেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন- শেয়ারবাজারে অত্যান্ত ভাল আছে, এই বলে একটি মহল এতদিন সরকারকে অন্ধকারে রেখেছেন। ফলে সরকার আসল অবস্থা বুঝতে পারেনি। তিনি বলেন, মহলটি সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর জন্য এ কাজ করেছে কিনা তা তিয়ে দেখা উচিত।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীরা ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেছেন, শেয়ারবাজারে এই বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িতদের খুজে করে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
তত্তাবধায় সরকারের সাবেক অথউপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের মতে, শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। এরসঙ্গে কোন মহল জড়িত আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খানের মতে, শেয়ারবাজারে কারসাজির হয়েছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। একইঅভিমত ব্যাক্ত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক জন অধ্যাপক ড. বাকী খলীলী।
বাজারের অস্বাভাবিক আচরন নিয়ে এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএসই রাজধানীর একটি হোটেলে জরুরী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ডিএসইর ওই সংবাদ সম্মেলন একটি বেসরকারি টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে। সংবাদ সম্মেলনে বাজার নিয়ে ইতিবাচক কোন তথ্য না থাকায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে যায়। ফলে ৫ মিনিটেই এত বড় ধ্বস নেমে আসে বলে অভিযোগ তোলেন বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা। সয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তারা।
সার্কিট ব্রেকার অকার্যকর হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভী সাংবাদিকদের জানান, প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর সূচক গনণা (রিফ্রেশ) করা হয়। এসময়ের মধ্যে সার্কিট ব্রেকার অতিক্রম করে ফেলে। তাই এরকম হয়েছে। তবে বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
ডিএসইর জরুরী সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই নেতৃবৃন্দ পুঁজিবাজারে আর্থিক বিবরনীতে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিিহ্নত করে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি শাকিল রিজভী। বৃহস্পতিবার হোটেলে শেরাটন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এছাড়া সম্প্রতি পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক দরপতনে পেছনে কোন কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শাকিল রিজভী বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য যে ৪৮টি কোম্পানি রোড শো করেছে তাদের আর্থিক বিবরনী পূনরায় পর্যালোচনা করতে হবে। এতে কোন কোম্পানির আর্থিক বিবরনীতে ভুল পাওয়া গেলে সে কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জনগন দেখতে চায়। তিনি বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কারনে কোম্পানির শেয়ারের দর অতি মূল্যায়িত হয়েছে। এতে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা ঘটেছে। বুকবিল্ডিং সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে কোম্পানি, বিনিয়োগকারীসহ সকলে যাতে সঠিক মূল্য পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, রোড শো করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কয়েকটির আর্থিক ভিত্তি দূর্বল হলেও সেসব কোম্পানির শেয়ারের দর অনেক বেশি নির্ধারন করা হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপককে দায়িত্ব নিতে হবে। ডিএসই কোনভাবেই অতি মূল্যায়িত শেয়ার তালিকাভুক্ত হতে দেবে না বলে শাকিল রিজভী জানান। পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক তারল্য সঙ্কট নিরসনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজার থেকে গত কয়েক বছরে সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেয়া লভ্যাংশের টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে।
তবে কিছু আইনী বাধার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান পূনরায় বিনিয়োগ করতে পারছে না বলে শাকিল বলেন। শেয়ারের দর বৃদ্ধি হ্রাসে সরকারের কিছু করনীয় নেই বলে তিনি জানান। তবে শেয়ার বাজারের আইন ঠিকমতো পালন করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়টি সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে। মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টসহ কয়েকটি কোম্পানির আইপিওর কারণে পুঁজিবাজারের অন্তত ২৫০ কোটি টাকা আটকে আছে বলে তিনি বলেন।
শাকিল রিজভী বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, যারা ভালো শেয়ার কিনেছেন তারা যেন লভ্যাংশ পেতে শেয়ার ধরে রাখেন। আর যারা শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন তারা কিন্তু লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ফাইনাল হয়ে গেছেন। একটি মহল কিন্তু শেয়ার কেনার জন্য ওঁত পেতে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের যেহেতু প্রবৃদ্ধি ভালো, তাই আমাদের মার্কেট খারাপ হতে পারে না। অচিরেই তা ঘুরে দাঁড়াবে। ডিএসই তথ্য প্রবাহে বাধা দিচ্ছে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ডিএসই বরং তথ্য প্রবাহ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। মিডিয়াকে ভুল তথ্য না দেয়ার আহবান জানিয়ে শাকিল রিজভী বলেন, যদি ভুল তথ্য দিয়ে বাজারকে প্রভাবিত করা হয় তাহলে এসইসিকে বলব তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ডিএসইতে লেনদেনের ছয় মিনিটেই সাধারণ সূচক ৬০০ পয়েন্ট পড়ে যায়। ফলে সার্কিট ব্রেকারের ২২৫ পয়েন্টের সীমা অতিক্রম করলে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময়ে মোট ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দাম কমে ১৭২টির, বাড়ে আটটির এবং অপরিবর্তিত থাকে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। লেনদেন হয় মোট ৬৮ কোটি টাকার।
সিএসইতে লেনদেন শুরুর ১১ মিনিটে সূচক ৭৯৫ পয়েন্ট কমে এবং সার্কিট ব্রেকার অতিক্রম করায় লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। লেনদেন বন্ধ হওয়ার পরে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীরা বেরিয়ে আসে। তারা সিএসইর সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এদিকে দরপতনের প্রতিবাদে বলা কুমিল্লায়ও বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। শহরের কান্দিরপাড়ের পূবালী চত্বরে বিনিয়োগকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ও অটোরিকশা ভাঙচুর করেন। এ সময় তারা রাস্তায় টায়ারে আগুন দেন এবং পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। বিক্ষোভের ফলে কান্দিরপারের পূবালী চত্বর থেকে কুমিল্লা জেলা স্কুল পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কটি প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শেয়ারমার্কেটে টানা দরপতনের জন্য বাজারে আস্থার সংকটকে দায়ি করেছেন এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, এ অবস্থায় ব্রোকারেজ হাউসে যদি কোনো গুজব রটে যায়, তাহলে তা বাজারকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গুজব বা বিভ্রান্তি যাতে বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজার আলাদা বিষয় হলেও তারল্য নিয়ন্ত্রণে এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়হীনতা বাজারে ভুল বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, কেন বাজার ৯ হাজার সূচকে উঠল, আবার কেন অস্বাভাবিক পতন হলো তা ভেবে দেখতে হবে। বাজার যেখানে চলে গিয়েছিল, তাতে মূল্য সংশোধন ছিল অনিবার্য। বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত না করে চাহিদা বাড়ানো ঠিক হয়নি।
এসইসির এই সাবেক চেয়ারম্যান আরও বলেন, এরই মধ্যে সূচক ২০ শতাংশের মতো সংশোধন হয়েছে। ঝুঁকিও অনেকটা কমে গেছে। তারপরও বাজার স্বাভাবিক আচরণ করছে না। সংকট চলমান। এ ক্ষেত্রে তারল্য-সংকট বড় কারণ হলেও প্রধান কারণ আস্থার সংকট। তারল্য-সংকট কাটানোর পাশাপাশি সবার আগে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিটি এখন বিনিয়োগকারীকে ঠকানোর যন্ত্র হয়ে গেছে। এ পদ্ধতিতে একই খাতের শেয়ারের বাজারমূল্য দেখে নির্দেশক দাম ঠিক করা হয়। এতে করে যেসব কোম্পানি বাজারে আসতে চায়, তারা সংঘবদ্ধভাবে তালিকাভুক্ত ওই খাতের কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ায়। যাতে তার কোম্পানির শেয়ার বেশি দামে বিক্রি করতে পারে।
শাকিল রিজভী নিরিক্ষা প্রতিবেদনের গলদ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বলেন, এখন বাজারে এমন অনেক কোম্পানি আসছে তাদের নিরিক্ষা প্রতিবেদন সঠিক নয়। শেয়ারের বেশি দাম নেওয়ার জন্য অনেক কোম্পানি তার আর্থিক প্রতিবেদনে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। এটি করতে গিয়ে কোম্পানিগুলো আগের বছরের চেয়ে আয় বাড়িয়ে দেখাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তার বিপরীতে খরচ কমাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে আয় বাড়লে খরচও বাড়বে। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই বলে মন্তব্য করেন শাকিল রিজভী।
এদিকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বলছেন, তারা এতো কিছু বোঝেন না। অনেকটা হুজুগে পড়ে পুঁজি লগ্নি করেছেন। এখন সর্বস্ব হারিয়ে তাদের রাস্তায় বসার দশা হয়েছে। অথচ সরকার এ ব্যাপারে এতোদিন বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেনি। এমনকি কারসাজির মাধ্যমে আকস্মিক এ ধ্বস ঠেকাতে আগাম কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারের এ উদাসীনতার কারণে নি:স্ব হয়ে পড়া লাখ লাখ বিনিয়োগকারী হরতালসহ বড় ধরণের আন্দোলনে নামবে বলে হুমকি দেন তারা।
চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ অন্যা শহরেও এ ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা গাড়ি ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধসহ চেষ্টা চালায়। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকায় তারা বেশিদূর এগোতে পারেনি।
এদিকে পুঁজিবাজারে বৃহস্পতিবার লেনদেনে অস্বাভাবিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬টি ব্রোকারেজ হাউজের কার্যক্রম ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এগ্রেসিভ সেল করার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ব্রোকারেজ হাউসগুলো হলো: আইআইবিএফসি সিকিউরিটিজ, পিএফআই সিকিউরিটিজ, এনসিসি ব্যাংক লি. সিকিউরিটিজ, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ, এলাইন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লি. সিকিউরিটিজ। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারাও ওই ৩০ দিন সাসপেন্ড থাকবেন।
ডিএসই ও সিএসইতে আগামী রোববার শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। মার্কেট স্থিতিশীল করা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ কিভাবে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর পরবর্তীতে কবে লেনদেন শুরু হবে তা রোববার জানিয়ে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এসইসির সংবাদ সম্মেলনে এসইসির সদস্য মো. ইয়াসিন আলী এসব কথা বলেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন- শেয়ারবাজারে অত্যান্ত ভাল আছে, এই বলে একটি মহল এতদিন সরকারকে অন্ধকারে রেখেছেন। ফলে সরকার আসল অবস্থা বুঝতে পারেনি। তিনি বলেন, মহলটি সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর জন্য এ কাজ করেছে কিনা তা তিয়ে দেখা উচিত।
এদিকে বিনিয়োগকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীরা ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেছেন, শেয়ারবাজারে এই বিপর্যয়ের সঙ্গে জড়িতদের খুজে করে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
তত্তাবধায় সরকারের সাবেক অথউপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের মতে, শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। এরসঙ্গে কোন মহল জড়িত আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খানের মতে, শেয়ারবাজারে কারসাজির হয়েছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। একইঅভিমত ব্যাক্ত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক জন অধ্যাপক ড. বাকী খলীলী।
বাজারের অস্বাভাবিক আচরন নিয়ে এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএসই রাজধানীর একটি হোটেলে জরুরী সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। ডিএসইর ওই সংবাদ সম্মেলন একটি বেসরকারি টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে। সংবাদ সম্মেলনে বাজার নিয়ে ইতিবাচক কোন তথ্য না থাকায় বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে যায়। ফলে ৫ মিনিটেই এত বড় ধ্বস নেমে আসে বলে অভিযোগ তোলেন বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা। সয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তারা।
সার্কিট ব্রেকার অকার্যকর হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভী সাংবাদিকদের জানান, প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর সূচক গনণা (রিফ্রেশ) করা হয়। এসময়ের মধ্যে সার্কিট ব্রেকার অতিক্রম করে ফেলে। তাই এরকম হয়েছে। তবে বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
ডিএসইর জরুরী সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই নেতৃবৃন্দ পুঁজিবাজারে আর্থিক বিবরনীতে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিিহ্নত করে শাস্তির দাবী জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি শাকিল রিজভী। বৃহস্পতিবার হোটেলে শেরাটন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এছাড়া সম্প্রতি পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক দরপতনে পেছনে কোন কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শাকিল রিজভী বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য যে ৪৮টি কোম্পানি রোড শো করেছে তাদের আর্থিক বিবরনী পূনরায় পর্যালোচনা করতে হবে। এতে কোন কোম্পানির আর্থিক বিবরনীতে ভুল পাওয়া গেলে সে কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জনগন দেখতে চায়। তিনি বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কারনে কোম্পানির শেয়ারের দর অতি মূল্যায়িত হয়েছে। এতে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা ঘটেছে। বুকবিল্ডিং সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে কোম্পানি, বিনিয়োগকারীসহ সকলে যাতে সঠিক মূল্য পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, রোড শো করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কয়েকটির আর্থিক ভিত্তি দূর্বল হলেও সেসব কোম্পানির শেয়ারের দর অনেক বেশি নির্ধারন করা হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপককে দায়িত্ব নিতে হবে। ডিএসই কোনভাবেই অতি মূল্যায়িত শেয়ার তালিকাভুক্ত হতে দেবে না বলে শাকিল রিজভী জানান। পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক তারল্য সঙ্কট নিরসনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুঁজিবাজার থেকে গত কয়েক বছরে সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেয়া লভ্যাংশের টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে।
তবে কিছু আইনী বাধার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান পূনরায় বিনিয়োগ করতে পারছে না বলে শাকিল বলেন। শেয়ারের দর বৃদ্ধি হ্রাসে সরকারের কিছু করনীয় নেই বলে তিনি জানান। তবে শেয়ার বাজারের আইন ঠিকমতো পালন করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়টি সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে। মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টসহ কয়েকটি কোম্পানির আইপিওর কারণে পুঁজিবাজারের অন্তত ২৫০ কোটি টাকা আটকে আছে বলে তিনি বলেন।
শাকিল রিজভী বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, যারা ভালো শেয়ার কিনেছেন তারা যেন লভ্যাংশ পেতে শেয়ার ধরে রাখেন। আর যারা শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন তারা কিন্তু লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ফাইনাল হয়ে গেছেন। একটি মহল কিন্তু শেয়ার কেনার জন্য ওঁত পেতে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের যেহেতু প্রবৃদ্ধি ভালো, তাই আমাদের মার্কেট খারাপ হতে পারে না। অচিরেই তা ঘুরে দাঁড়াবে। ডিএসই তথ্য প্রবাহে বাধা দিচ্ছে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ডিএসই বরং তথ্য প্রবাহ উন্মুক্ত করে দিয়েছে। মিডিয়াকে ভুল তথ্য না দেয়ার আহবান জানিয়ে শাকিল রিজভী বলেন, যদি ভুল তথ্য দিয়ে বাজারকে প্রভাবিত করা হয় তাহলে এসইসিকে বলব তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ডিএসইতে লেনদেনের ছয় মিনিটেই সাধারণ সূচক ৬০০ পয়েন্ট পড়ে যায়। ফলে সার্কিট ব্রেকারের ২২৫ পয়েন্টের সীমা অতিক্রম করলে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময়ে মোট ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দাম কমে ১৭২টির, বাড়ে আটটির এবং অপরিবর্তিত থাকে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। লেনদেন হয় মোট ৬৮ কোটি টাকার।
সিএসইতে লেনদেন শুরুর ১১ মিনিটে সূচক ৭৯৫ পয়েন্ট কমে এবং সার্কিট ব্রেকার অতিক্রম করায় লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। লেনদেন বন্ধ হওয়ার পরে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীরা বেরিয়ে আসে। তারা সিএসইর সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এদিকে দরপতনের প্রতিবাদে বলা কুমিল্লায়ও বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। শহরের কান্দিরপাড়ের পূবালী চত্বরে বিনিয়োগকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি ও অটোরিকশা ভাঙচুর করেন। এ সময় তারা রাস্তায় টায়ারে আগুন দেন এবং পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। বিক্ষোভের ফলে কান্দিরপারের পূবালী চত্বর থেকে কুমিল্লা জেলা স্কুল পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কটি প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শেয়ারমার্কেটে টানা দরপতনের জন্য বাজারে আস্থার সংকটকে দায়ি করেছেন এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি বলেন, এ অবস্থায় ব্রোকারেজ হাউসে যদি কোনো গুজব রটে যায়, তাহলে তা বাজারকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গুজব বা বিভ্রান্তি যাতে বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজার আলাদা বিষয় হলেও তারল্য নিয়ন্ত্রণে এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়হীনতা বাজারে ভুল বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান।
ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, কেন বাজার ৯ হাজার সূচকে উঠল, আবার কেন অস্বাভাবিক পতন হলো তা ভেবে দেখতে হবে। বাজার যেখানে চলে গিয়েছিল, তাতে মূল্য সংশোধন ছিল অনিবার্য। বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত না করে চাহিদা বাড়ানো ঠিক হয়নি।
এসইসির এই সাবেক চেয়ারম্যান আরও বলেন, এরই মধ্যে সূচক ২০ শতাংশের মতো সংশোধন হয়েছে। ঝুঁকিও অনেকটা কমে গেছে। তারপরও বাজার স্বাভাবিক আচরণ করছে না। সংকট চলমান। এ ক্ষেত্রে তারল্য-সংকট বড় কারণ হলেও প্রধান কারণ আস্থার সংকট। তারল্য-সংকট কাটানোর পাশাপাশি সবার আগে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, বুকবিল্ডিং পদ্ধতিটি এখন বিনিয়োগকারীকে ঠকানোর যন্ত্র হয়ে গেছে। এ পদ্ধতিতে একই খাতের শেয়ারের বাজারমূল্য দেখে নির্দেশক দাম ঠিক করা হয়। এতে করে যেসব কোম্পানি বাজারে আসতে চায়, তারা সংঘবদ্ধভাবে তালিকাভুক্ত ওই খাতের কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ায়। যাতে তার কোম্পানির শেয়ার বেশি দামে বিক্রি করতে পারে।
শাকিল রিজভী নিরিক্ষা প্রতিবেদনের গলদ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বলেন, এখন বাজারে এমন অনেক কোম্পানি আসছে তাদের নিরিক্ষা প্রতিবেদন সঠিক নয়। শেয়ারের বেশি দাম নেওয়ার জন্য অনেক কোম্পানি তার আর্থিক প্রতিবেদনে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। এটি করতে গিয়ে কোম্পানিগুলো আগের বছরের চেয়ে আয় বাড়িয়ে দেখাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তার বিপরীতে খরচ কমাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে আয় বাড়লে খরচও বাড়বে। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই বলে মন্তব্য করেন শাকিল রিজভী।
এদিকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বলছেন, তারা এতো কিছু বোঝেন না। অনেকটা হুজুগে পড়ে পুঁজি লগ্নি করেছেন। এখন সর্বস্ব হারিয়ে তাদের রাস্তায় বসার দশা হয়েছে। অথচ সরকার এ ব্যাপারে এতোদিন বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেনি। এমনকি কারসাজির মাধ্যমে আকস্মিক এ ধ্বস ঠেকাতে আগাম কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সরকারের এ উদাসীনতার কারণে নি:স্ব হয়ে পড়া লাখ লাখ বিনিয়োগকারী হরতালসহ বড় ধরণের আন্দোলনে নামবে বলে হুমকি দেন তারা।

No comments:
Post a Comment