সূচক বেড়েছে ৩০৪ পয়েন্টদাম বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোয় গ্রামীণফোনের লেনদেন বন্ধ
ইতিহাসের সর্বোচ্চ দরপতনের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঢাকার শেয়ারবাজার (ডিএসই)। ডিএসইতে গতকাল সারা দিনই চাঙাভাব অব্যাহত থাকে। একই সঙ্গে বাড়ে বেশির ভাগ শেয়ারের দামও। সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৫টি কোম্পানির মধ্যে ২১১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে মাত্র ৩১টির। ৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত থাকে। এদিন সাধারণ মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ৩০৪ দশমিক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭ হাজার ৯৫৯ দশমিক ২৭ পয়েন্টে উন্নীত হয়। তবে গতকালের চেয়ে সোমবার আর্থিক লেনদেন ছিল কিছুটা কম। অন্যদিকে এসইসি’র মার্জিন ঋণ অনুপাত বৃদ্ধি ও মেম্বারস মার্জিন জামানত বাতিল সিদ্ধান্ত দুই বাজারে চাঙ্গাভাব ফিরে এনেছে বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়, যা সারা দিনই অব্যাহত থাকে। ডিএসইতে লেনদেনের প্রথম ১০ মিনিটেই ডিএসইর সাধারণ সূচক ৪২৯ পয়েন্ট বাড়লেও পরবর্তিতে কিছুটা কমেছে। তবে দিন শেষে দেখা যায় সাধারণ সূচক গতকালের চেয়ে ৩০৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭৯৫৯ দশমিক ২৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, রোববার সাধারণ সূচক ৫৫১ পয়েন্ট কমে যায়, যা ডিএসইর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ডিএসইতে সোমবার অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন লেনদেন হওয়া মোট ২৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২১১টির, কমেছে ৩১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটির। ডিএসইতে এক হাজার ৪৫৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ২৭ কোটি টাকা কম।
জানা যায়, সোমবার ডিএসইতে সাধারণ মূল্য সূচক ৩০৪ পয়েন্ট বেড়ে যাওয়া ছিল এ যাবতকালে একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সূচক বাড়ার ঘটনা। এর আগে ২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর গ্রামীণফোন লেনদেন শুরুর দিনে ডিএসই‘র সাধারণ মূল্য সূচক বেড়েছিল ৭৬৪ পয়েন্ট। ওইদিন বাজারে বড় ধরনের মূল্য বাড়ার ঘটনা না ঘটলেও গ্রামীণফোনের মতো একটি বড় কোম্পানির লেনদেন চালু হওয়ার কারণে সূচক বেড়ে যায়। তখন গ্রামীণফোনের শেয়ারে দাম এক টাকা বাড়লে সাধারণ সূচক সাড়ে ৩ পয়েন্ট বেড়ে যেত। সম্প্রতি ডিএসই এটা সংশোধন করেছে। ফলে এখন গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম ১ টাকা বাড়লে সূচক বাড়ে শূন্য দশমিক ২৪ পয়েন্ট। ফলে সোমবারের সূচক বেড়েছে বাজারে বড় ধরণের ঊর্ধ্বমুখীর কারণে।
একদিনের ব্যবধানে বাজারের এই বিপরীতমুখী আচরণের বিষয়টি স্বাভাবিক মনে করছেন না বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, একদিনে সূচক ৩০০ থেকে ৫০০ পয়েন্ট কমে যাওয়া যেমন কাম্য নয়। তেমনি একদিনে এমন সূচক বেড়ে যাওয়াও কাম্য হতে পারে না। তাই বিনিয়োগকারীদের সাবধানে এবং বুঝে শুনে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহম্মেদ খান বলেন, মার্জিন ঋণ অনুপাত বাড়ানোর কারণে বাজারে অর্থের সরবরাহ বেড়ে গেছে। ফলে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া একদিনে ৫০০ পয়েন্ট বেড়ে যাওয়া কিংবা কমে যাওয়া আমাদের পুঁজিবাজারের রীতি হয়ে গেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার ডিএসইতে ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং প্রকৌশল খাতসহ প্রায় সব খাতের শেয়ারের বড় ধরনের দাম বেড়েছে। তবে এদিন মার্জিন লোন রেশিও বাড়িয়ে ১ঃ১ থেকে ১ঃ১.৫ করা হলেও বেশির ভাগ ব্রোকারেজ হাউজ তা অনুসরন করেনি। ফলে বিনিয়োগকারীরা ইচ্ছা থাকা সত্বেও নতুন করে কিছু শেয়ার কিনে অ্যাডজাস্ট করতে পারেনি। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
সোমবার ডিএসইতে দাম বাড়ার শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলোÑ গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো লি., ইউসিবিএল লি., তিতাস গ্যাস লি., বে-লিজিং, ন্যাশনাল ব্যাংক লি., এবি ব্যাংক লি., প্রাইম ব্যাংক লি., ম্যারিকো ও সাউথইষ্ট ব্যাংক। দর বৃদ্ধিতে প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো- গ্রামীণ ফোন, ম্যারিকো, অগ্রণী ইন্সুরেন্স, ফেডারেল ইন্সুরেন্স, ইউসিবিএল লি., এক্সিম ব্যাংক লি., ফু-ওয়াং সিরামিকস্, লিব্রা ইনফিউশনস্, এপেক্স স্পিনিং ও তাক্কাফুল ইন্সুরেন্স। অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি হলো- সোনালী আঁশ, সাভার রিফ্রেক্টরীজ, মুন্নু স্টাফলার, ফার্মা এইড, পদ্মা অয়েল, ৬ষ্ঠ আইসিবি, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, ১ম বিএসআরএস, ৮ম আইসবি ও প্রাইম ১ম আইসিবিএ। গতকালের ডিএসইর বাজারমূলধন তিন লাখ ৪০ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা।
দাম বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোয় গ্রামীণফোনের লেনদেন বন্ধ :
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের একমাত্র মোবাইলসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের শেয়ারের লেনদেন সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম সার্কিট ব্রেকার বা দাম বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোয় এ ঘটনা ঘটে। পুঁজিবাজারের নিয়মানুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছালে সেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়।
জানা যায়, রোববার সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেন স্পট মার্কেট থেকে সাধারণ মার্কেটে স্থানান্তর করে। গতকাল সকালে সাধারণ মার্কেটে লেনদেন শুরু হওয়ার কিছুণের মধ্যেই এটির শেয়ারের দাম বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায় (সার্কিট ব্রেকার) পৌঁছে যায়।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণফোনের প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বা ৩৭.২০ টাকা বাড়ে যা ২৩০ থেকে ২৪৯.৮০ টাকার মধ্যে লেনদেন হয়।
No comments:
Post a Comment