সোমবার, ১৮ জুন ২০১২: তৈরী পোশাক শিল্পে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায়
আশুলিয়া অঞ্চলের প্রায় ৩৫০টি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ
ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দিনে প্রায় ৪০ লাখ ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে
বলে জানিয়েছেন তৈরী পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আশুলিয়া অঞ্চলের সব কারখানা
বন্ধ থাকায় একদিনে প্রায় ৪০ লাখ ডলার বা ৩২০০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়। এখন
পরিস্থিতির কোন অগ্রগতি নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র,
বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করেছে। কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
তাহলে কি বন্ধই থাকবে- এর জবাবে তিনি বলেন, কেউ চাই না নিজেদের ব্যবসা বন্ধ
রাখতে। আমাদের উদ্দেশ্যও বন্ধ করে রাখা নয়। তিনি বলেন, আমরা শুধুমাত্র
অসহায়ত্ব, নিরাপত্তাহীনতা ও ঝুঁকির কারণে বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি। সফিউল
ইসলাম বলেন, শিল্পের সুস্থধারা, আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত
এবং যারা এই শিল্পকে অস্থির করার জন্য দায়ী তাদের আইনের আওতায় এনে
দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোন আশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা এই
কারখানা খুলবো না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে প্রয়োজনে সারা বাংলাদেশের
পোশাক শিল্প বন্ধ করে দিতে আমরা বাধ্য হবো। তিনি বলেন, প্রয়োজনবোধে সংসদে
নতুন আইন প্রণয়ন করে অর্থনীতি ধ্বংসকারীদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে
হবে, যাতে আর কেউ শিল্পকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।
বিজিএমইএ নেতা
আবদুস সালাম মুর্শিদী জানান, গত কয়েক দিনে ৭২ জন ক্রেতা কোন রকম অর্ডার না
দিয়ে ফিরে গেছেন। এমন কি অনেক ক্রেতা বিমানবন্দর থেকে পরিস্থিতি দেখে ফিরে
গেছেন। প্রায় প্রতিদিন রপ্তানি আদেশ বাতিল হচ্ছে। ক্রেতাদের প্রশ্নের কোন
উত্তর দিতে পারছি না। প্রতিদিনেই উৎকণ্ঠায় থাকি। এই অবস্থা চলতে থাকলে এই
শিল্পকে কোন ভাবেই টিকিয়ে রাখা যাবে না। বিজিএমইএ নেতারা জানান, যে মুহূর্তে আমরা নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানে লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং সমপ্রতি ভারত ও চীনে বাণিজ্য মিশনসহ নানাবিধ প্রচারমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি। ঠিক সেই সময়টিতেই আশুলিয়ায় সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি- কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত ক্রমাগত ঘটে চলা এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড শুধু পোশাক শিল্পের জন্যই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এক বিরাট হুমকি।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আখতার মানবজমিনকে বলেন, আমাদের দাবি কারখানার স্ব-স্ব মালিকরা ও সরকার আলোচনার মাধ্যমে কারখানাগুলো খোলার ব্যবস্থা করবেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে যেটা হয়েছে, সেটা শ্রমিকদের বেতন অনুযায়ী দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার উপরে যাওয়ায় আন্দোলন করেছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের বক্তব্য: সমপ্রতি আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে ঘটে যাওয়া শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে ৪-৫ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। গতকাল তাদের অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের বক্তব্য: গার্মেন্টস কারখানায় এধরনের ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির সঙ্গে দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারী জড়িত বলে ধারণা করছে সংগঠনটি। গতকাল পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। এতে বলা হয় জাতীয় স্বার্থে শ্রমিকদের এ চক্রান্তের ফাঁদে পা না দেয়ার আহ্বান জানায় এ সংগঠনটি।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গার্মেন্টস শিল্পে এরূপ শ্রম অসন্তোষের কারণে পোশাক সরবরাহকারী দেশে ও ক্রেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই সরকার, বিজিএমইএ ফেডারেশন এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত শ্রম অসন্তোষ নিরসনের অনুরোধ করা হচ্ছে। সংগঠনটি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অসন্তোষের কারণ উদঘাটনের আহ্বান জানান।
No comments:
Post a Comment