কিছুতেই থামছে না পুঁজিবাজারে দরপতন। দিনের পর দিন ক্রমেই আরো নিম্নমুখী হচ্ছে বাজার। ফলে আরো ভারী হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আহাজারি। যার জের ধরে প্রতিনিয়তই রাস্তায় নেমে আসছেন বিক্ষুদ্ধ বিনিয়োগকারীরা। গতকাল সপ্তাহের প্রথমদিনে ও এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি। দিনের শুরু থেকে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর কমার পাশাপাশি সূচকের পতন ঘটতে থাকলে সাড়ে ১২ টার দিকে রাস্তায় নেমে আসেন ভুক্তোভোগিরা। এসময় তারা ডিএসইর সামনের রাস্তা অবরোধ করে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করে দফায় দফায় বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ চলতে থাকে।
গতকাল বিক্ষোভে থাকা বিনিয়োগকারীর মুল ক্ষোভ ছিলো অর্থমন্ত্রীর উপর। ফলে বিক্ষোভে থাকা বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রীর পদত্য্গা দাবী করে। বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের নেতাদের নেতৃত্বে বিক্ষেভে অংশ নেয়া বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রীকে শেয়ার বাজারের অর্থ লোটপাটের সর্দার বলে আখ্যায়িত করেন। এদিকে কোন ধরনের দুঘটনা এটাতে ডিএসইর সামনে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অন্যদিকে রাস্তা অবরোধের ফলে মতিঝিল এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
আলো আঁধারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছেনা দেশের পুঁজিবাজার। আর এর সাথে সাথে ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হতে হচ্ছেনা লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর। প্রায় দুই বছর ধরে তাদের এমন দৈন্যদশা চলছে। এই সময় ধরে ধৈয্য ধরতে ধরতে তাদের অবস্থা এখন নাভিশ্বাসে। বাজার ভালো এমন প্রত্যাশায় সম্মনয় করেও তারা পার পাইনি। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ কররে তারা জানান এই প্ররয়ের মুলে রয়েছে বাজার খেলোয়াড়রা। দৌরাত্মের দৌড়ে তারাই এগিয়ে রয়েছে। মুলত তাদের কারসাজিতেই বাজারের বর্তমান গতিবিধি পরিবর্তন হয়ে বিনিয়োগকারীরা। তারা বলেন বাজারের সার্বিক চিত্রই বলে দেয় এ বাজার নিয়ে একটি চক্র খেলছে। ভুক্তোভোগিদের মন্তব্য হচ্ছে টানা কয়েকদিন বাজার নিম্নমুখী হওয়া এবং উর্ধ্বমুখী হওয়া কোনটাই স্বাভাবিক বাজারের লক্ষণ নয়। গতকাল যেমনটি হয়েছে এটা বাজারের কোন স্বাভাবিক লক্ষ নয়। এই ব্যাপারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, যারা বাজারের কলকাটি নাড়ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তারা এইসব বাজার খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ঠিকই জানেন। কিন্তু উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই তাদের সনাক্ত করার চেষ্টা করেন না।
ভুক্তোভোগিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তাদের আস্থাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে। লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। আর একারনে নতুন বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। যারা বর্তমানে পুঁজিবাজারে নিয়মিত শেয়ার লেনদেন করছেন তারা কোনো কোম্পানির শেয়ারের প্রতি এখন আর আগের মতো আস্থা ধরে রাখতে পারছেন না। আবার হুজুগে-গুজুবে কান না দিয়েও পারছেন না। বাজার খেলোয়াড়রা বাজার পরিস্থিতিকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন যাতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার সম্পর্কে সুস্থ চিন্তাভাবনা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধাগ্রস্ত হন। এদিকে বিষযটি নিয়ে ডিএসইর সাকেব প্রেসিডেন্ট মো. শাকিল রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন বাজারের অস্থিরতা চলছে। এই অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য নীতিনিধারক থেকে বিনিয়োগকারী সবার সম্মেলিত প্রচেষ্টা দরকার। একই প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বলেন,শেয়ারের দর উঠানামা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কোন কারনে বাজারে ছন্দ পতন ঘটলে বিনিযোগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ফলে তারা নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনে। গতকালের বাজার প্রসঙ্গে মন্তব্য চাইলে তিনি বলেন, সংসদে পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর নেতিবাচক মন্তব্যর কারণেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা বেড়েছে।
No comments:
Post a Comment