Thursday, January 6, 2011

আবার বিক্ষোভ, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধ, আটক-৮

অস্থির শেয়ারবাজার, বড় ধরণের দরপতন অব্যাহত

টানা চতুর্থ দিনের মতো দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে দরপতনের প্রতিবাদে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে আবারও বিক্ষোভ মিছিল ও যানবাহন ভাংচুর করেছে বিনিয়োগকারীরা। গতকাল ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২১৩ পয়েন্ট পড়ে যায়। এতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিনিয়োগকারীরা। দিনের লেনদেন শেষে বিকেল ৩টার দিকে তারা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিােভ ও ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মতিঝিলের ব্যস্ততম এলাকা শাপলা চত্তর থেকে ইত্তেফাক মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে আশে পাশের এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
গত চারদিন ধরে টানা শেয়ারেরবাজারে দরপতনে কিছু দুস্কৃতিকারী গাড়ি ভাংচুর ও জনগণের চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করায় এ গ্রেপতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৩টায় লেনদেন শেষ হলে ব্যাপক দরপতনের প্রতিবাদে কয়েক শ’ সাধারণ বিনিয়োগকারী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তারা পুরনো ইত্তেফাক ভবন থেকে শাপলা চত্বর এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। বেশক’টি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সোয়া তিনটার দিকে পুলিশ বিােভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নির্বিচারে লাঠিপেটা শুরু করে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। দফায় দফায় মিছিল ও বিক্ষেভ করায় বিকেল সাড়ে ৪টায় পুলিশ ৮ জনকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হলেন, আলী আকবর, ফয়সল, মোবারাক, মামুন, মাহমুদ, বাদশাহ, শহীদুল হক ও মিলন। আটককৃতদের মধ্যে মাহমুদ নামে একজন বিনিয়োগকারী নিজেকে ঝিনাইদহ আসনের সাংসদ শফিকুল হকের পিএস বলে দাবি করেছেন।

মতিঝিল জোনের এডিসি মনিরুজ্জামান সংবাদকে বলেন, গাড়ি ভাঙচুর, জনগণের চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করায় এবং ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে অংশ নেওয়ায় তাদেরকে আটক করা হয়েছে। প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের কাজ করতে পারেন না। অবশ্য সাধারণ নাগরিকদের কোনো প্রকার নাযেহাল করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। গাড়ি ভাঙচুর ও জনগনের জানমাল রায় ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

প্রত্যদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল বিােভ শুরু হওয়ার পর পরই পুলিশ বিােভকারীদের লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় অনেক সাধারণ মানুষ পালাতে গিয়েও আহত হয়েছেন। এছাড়া ডিএসইর উল্টো পাশে মধুমিতা ভবনের প্রতিটি ফোরে ঢুকে পুলিশ লাটিচার্জ করেছে করেছে বলে তারা জানান।  বৃহস্পতিবার ১০ মিনিটের মধ্যেই বেশিরভাগ শেয়ারের দাম পড়তে শুরু করে। এদিন ২৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর বাড়ে মাত্র ১২টির। লেনদেন শেষে চারদিনে সূচক সূচক কমে ৫৬৯ পয়েন্ট কমে যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতনের কারণে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও ডিএসইর বিরুদ্ধে সেøাগান দেয়। এর আগে বুধবার ডিএসইতে বড় দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা বিােভ মিছিল করেছিল। লাঠিপেটার পাশাপাশি জলকামান নিয়েও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত ছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিলে সাড়ে ৪টার দিকে মতিঝিল এলাকায় যানচলাচলে স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বাজার পরিস্থিতি: পূঁজিবাজারে টানা চারদিন ধরে বড় ধরনের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবনতা দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও ১০ মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন ঘটায় সূচকের ব্যাপক পতন শুরু হয়। পরবর্তী ১০ মিনিটের মধ্যেই সূচক আগের দিনের চাইতে ৫৭ পয়েন্ট হ্রাস পায়। এরপর সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা গেলেও অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় তা হয়নি। টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করতে মরিয়া হয়ে উঠেন। ফলে দ্রুত সূচকের পতন ঘটতে থাকে। বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ডিএসইর সাধারণ সূচক ২১৩ পয়েন্ট হ্রাস পায়। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর কমেছে ২৩১টি কোম্পানির। বেড়েছে মাত্র ১২টির। অপরদিকে  অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টি কোম্পানির দর।

No comments:

Post a Comment