Tuesday, December 7, 2010

ডিএসইতে দু’দিনে মূলসূচক ৩৩২ পয়েন্ট কমেছে

শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত

শেয়ারবাজারে দ্বিতীয় দিনের মত দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত দুই কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৩২ পয়েন্টের বেশি সূচকের পতন হয়। এছাড়া এই দুইদিনে লেনদেনও কমেছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা ঊর্ধগতির পর এটি স্বাভাবিক দর সংশোধন।


মঙ্গলবার সকাল থেকেই ডিএসইতে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমতে থাকে। এক পর্যায়ে সূচক ২০৮ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। অবশ্য দিনশেষে কমে সূচক ১৮৫ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে অবস্থান করে। এদিন ২০৯টি কোম্পানির দর কমেছে। এছাড়া আগের দিনও (সোমবার) অধিকাংশ শেয়ারের দর কমার প্রেক্ষিতে সাধারণ সূচক ১৪৭ পয়েন্ট কমেছে। এ নিয়ে দু‘দিনে ডিএসই সাধারণ সূচক কমল ৩৩২ পয়েন্ট।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে টানা ঊর্ধগতির পর এটি স্বাভাবিক দর সংশোধন। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোরতা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ব্রোকারেজ হাউজের নিরাপত্তা জামানত বৃদ্ধি। এবং চেক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শেয়ার ক্রয়ের নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে বাজার কিছুটা সংশোধন হয়েছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।


এব্যপারে ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ যায়যায়দিনকে জানান- মুনাফা নেয়ার প্রভাবে প্রথম দিন দর সংশোধন হলেও মঙ্গলবারের দরপতন স্বাভাবিক মনে হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বেশী থাকলে ব্যবস্থাপনা পরিচালকে দায়ি করা হবে। এর ফলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।


বাজার বিশ্লেষনে দেখা যায়, মঙ্গলবার ডিএসতে মোট ২৪২টি কোম্পানির ৯ কোটি ৬ লাখ ২৮ হাজার ৭১৮টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে এদিন মোট ২ হাজার ৫০ কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টাকা লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৬৫৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা কম। অন্যদিকে ডিএসই সাধারণ মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৮৫ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে ৮৫৮৫ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ডিএসই ২০ মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ৯৮ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট কমে ৫১৯৭ দশমিক ৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত ২৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৫টির এবং কমেছে ২০৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৮ কোম্পানির শেয়ার।


লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কোম্পানি হলোÑ এবি ব্যাংক, তিতাস গ্যাস, সাউথইস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো, শাইনপুকুর সিরামিকস, ইউসিবিএল, ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক। দর বাড়ায় প্রধান ১০টি কো¤পানি হলোÑ ফার্মা এইডস, তৃতীয় আইসিবি, দ্বিতীয় আইসিবি, মালেক স্পিনিং, শাইনপুকুর সিরামিকস, ষষ্ঠ আইসিবি, চতুর্থ আইসিবি, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, ইস্টার্ন কেবলস ও প্রাইম প্রথম আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড। অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি হলোÑ বিডি অটোকারস, তাল্লু স্পিনিং, অ্যাম্বী ফার্মা, দেশ গার্মেন্টস, সোনালী আঁশ, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, স্ট্যান্ডার্ড ইন্সুরেন্স, প্রভাতী ইন্সুরেন্স, আজিজ পাইপস ও গ্লোবাল ইন্সুরেন্স।

No comments:

Post a Comment