মূল্য সংশোধনের পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার
সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বুধবার পুঁজিবাজারের নজিরবিহীন দরপতনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- নির্বাহী পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামান, পরিচালক মাহবুবুল আলম ও সহকারী পরিচালক তানিয়া শারমিন। কমিটিকে আগামী ১০ জানুয়ারীর মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জানা যায়, এসইসি কতৃক গঠিত তদন্ত কমিটি বুধবার পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ নির্ণয়ের পাশাপাশি দরপতন চলাকালীন সময়ে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর লেনদেন কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) দুটি নির্দেশনা জারিকে কেন্দ্র করে বুধবার পুঁজিবাজারে নজিরবিহীন দরপতনের ঘটনার পরদিনই ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার। সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বাজার মূলধন ও সব সূচক। তবে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকায় আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে কিছুটা কমেছে।
গতকাল দিনশেষে ডিএসইতে ২৪২টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২২০টির এবং কমেছে ২২টির। সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১২৮ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বেড়ে ৮ হাজার ৫৮০ দশমিক ২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬২২ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এটি আগের দিনের চেয়ে ৩৪৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা কম। এদিন ডিএসইতে বীমা, মিউচুয়াল ফান্ড, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সেবা ও আবাসন এবং খাদ্য ও অনুষাঙ্গিক খাতের শেয়ারে ছিল বেশ চাঙ্গাভাব। তবে ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ার গতি বৃদ্ধি অন্য খাতের তুলনায় কিছুটা ছিল ধীর।
জানা যায়, চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে গতকাল লেনদেন শুরু হয়। বেলা একটার দিকে সাধারণ মূল্যসূচক ১৭২ দশমিক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে আট হাজার ৬২৩ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এর পর থেকে সূচক কিছুটা কমে যায়। বিকেল তিনটায় লেনেদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ সূচক ১২৮ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বেড়ে আট হাজার ৫৮০ দশমিক ১৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
টানা তিন দিন পুঁজিবাজারে বড় ধরনের মূল্য সংশোধনের পর আবার বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠাকে স্বাভাবিক হিসেবেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তবে তাদের মতে এখনো বাজার যথেষ্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বাজার আবার বড় ধরনের মূল্য সংশোধন হতে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে তারা বিনিয়োগকারীদের অতিমূল্যায়িত শেয়ার কোনোভাবেই না কেনার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওসমান ইমাম বলেন, বাজারে এখনও ৮০ শতাংশের বেশি শেয়ার অতিমূল্যায়িত। ফলে বাজার যথেষ্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, আরও দু’এক দিন বাজার ভালো গেলেও সামনের সপ্তাহে ভালো নাও থাকতে পারে। এটা বিনিয়োগকারীদের মাথায় রাখা উচিত। তাই এই মুহূর্তে নতুন বিনিয়োগকারীদের কোনোভাবেই বাজারে প্রবেশ করা উচিত হবে না। একই সঙ্গে পুরনো বিনিয়োগকারীদেরও সচেতন হয়ে লেনদেন করতে হবে।
লেনদেনের ভিত্তিতে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলোÑশাইনপুকুর সিরামিকস, মালেক স্পিনিং, এবি ব্যাংক লি., ঢাকা ডাইয়িং, তিতাস গ্যাস, উত্তরা ব্যাংক লি., ন্যাশনাল ব্যাংক লি., বেক্সিমকো লি., লঙ্কা-বাংলা ফাইন্যান্স, ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। দর বেড়ে যাওয়া প্রধান ১০টি কো¤পানি হলোÑ ১ম জনতা মিউচুয়াল ফান্ড, ঢাকা ডাইয়িং, সিনোবাংলা, দেশ গার্মেন্টস, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, ১ম প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড, সাভার রিফ্রেক্টরিজ, অ্যাম্বি ফার্মা, আইএফআইএল ইসলামি ১ম মিউচুয়াল ফান্ড ও পিএইচপি ১ম মিউচুয়াল ফান্ড। অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি হলোÑ স্টাইলক্র্যাফট, ব্র্যাক ব্যাংক লি., ইস্টার্ন ব্যাংক লি., ব্যাংক এশিয়া লি., বাটা সু কোম্পানি লি., প্রাইম ব্যাংক লি., ইসলামী ব্যাংক লি., কোহিনুর কেমিক্যালস, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লি. ও চিটাগাং ভেজিটেবল।
No comments:
Post a Comment