শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্টস লিমিটেড (ওয়েস্টিন হোটেল) ও এপোলো হসপিটালের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন বাতিল করে দিয়েছে। শেয়ারবাজারে আসতে হলে কোম্পানি দুটিকে অন্তত ৪০ কোটি টাকা আইপিওর জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। এসইসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ইউনিক হোটেলের পরিশোধিত মূলধন ২৩০ কোটি টাকা। ৩০ কোটি টাকা আইপিওতে ছাড়ার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসতে হলে কোম্পানিটিকে অন্তত ৪০ কোটি টাকার শেয়ার আইপিওতে ছাড়তে হবে। এজন্য এসইসি তাদের প্রসপেক্টাস পুনঃমূল্যায়ন করতে ফিরিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে এপোলো হসপিটালের পরিশোধিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা। কোম্পানিটি আইপিওর জন্য ২২ কোটি টাকা প্রস্তাব দিয়েছিল। এ কোম্পানিটিকেও আইপিওতে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখতে হবে। এজন্য কোম্পানির প্রসপেক্টাস ফিরিয়ে দিয়েছে এসইসি। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপক লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স লিমিটেড।
এর আগে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের চূড়ান্ত দর নির্ধারণের জন্য ইউনিক হোটেল প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য এসইসিতে কোম্পানির বিবরণী (প্রসপেক্টাস) জমা দেয়া হয়েছে। কমিশনের অনুমোদনের পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দর প্রস্তাবের (বিডিং) ভিত্তিতে শেয়ারের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
ওয়েস্টিন আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে মোট ৩ কোটি শেয়ার ছাড়বে। কোম্পানির মোট শেয়ারের প্রায় ১২ শতাংশ। কোম্পানির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ২৩০ কোটি টাকা। শেয়ার সংখ্যা ২৩ কোটি। আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শেয়ার সংখ্যা ২৬ কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন ২৬০ কোটি টাকায় দাঁড়াবে।
জানা গেছে, বর্তমানে ওয়েস্টিনের শেয়ার সংখ্যা ২৩ কোটি। শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। আইপিও পরবর্তীতে শেয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ কোটি টাকা। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিয়ম অনুসারে, মোট শেয়ারের ২০ ভাগ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নির্দেশক মূল্যের ওপর ভিত্তি করে শেয়ারের দর পস্তাব করবে। তারা নির্দেশক মূল্যের ২০ শতাংশ কম-বেশি পর্যন্ত দর প্রস্তাব করতে পারবে। যে মূল্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত কোটার শেয়ার বিক্রি শেষ হবে, সেটিই হবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবিত দর।
বেসরকারি খাতের তৃতীয় হোটেল হিসেবে বাজারে আসতে ইউনিক হোটেল শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে এপোলো হসপিটাল শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে এটি হবে দ্বিতীয় কোনো হাসপাতাল। বর্তমানে শমরিতা হাসপাতাল শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, হোটেল ইউনিকের ইস্যু ব্যবস্থাপক ব্র্যাক ইপিএল লিমিটেড। রাজধানীর গুলশানে অবস্থি’ত পাঁচ তারকা মানের ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলটি ইউনিক গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। হোটেলটিতে ১৪১টি কক্ষ, ছয়টি রেস্টুরেন্ট, তিনটি সম্মেলন কক্ষ, ফিটনেস সেন্টার, বিজনেস সেন্টার ও সুইমিংপুলসহ সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
জানা গেছে, শেয়ার বাজার থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যবসা সম্প্র্রসারণে ব্যয় করা হবে। ইতোমধ্যে ইউনিক হোটেল এন্ড রিসোর্ট লিমিটেড রাজধানীতে আরও দুটি এবং চট্টগ্রামে একটি পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাংলাদেশ হোটেলস (হোটেল পূর্বাণী) এবং বাংলাদেশ সার্ভিসেস (হোটেল শেরাটন) নামে দুটি হোটেল তালিকাভুক্ত রয়েছে। এদের মধ্যে বিডি হোটেলস ১৯৭৮ সালে এবং বিডি সার্ভিসেস ১৯৮৪ সালে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
এমএম মাসুদ
No comments:
Post a Comment