Wednesday, October 20, 2010

সরকারি কোম্পানির শেয়ার : আর কত অপেক্ষা


আমলাতন্ত্রই কি বড় বাধা?

চলতি বছরের তের জানুয়ারি সিদ্ধান্তনেয়া হয়েছিল এ বছরেই জুন মাসের মধ্যে সরকারি ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থমন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে এই ২৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে এপ্রিল, মে ও জুন মাসের মধ্যে ২৬টি সরকারি কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এই কোম্পানির মধ্যে ছিল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ’লিক্যুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস লিমিটেড’, পদ্মা ওয়েল কোম্পানি, বাখারাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস টিএন্ডডি সিস্টেম লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড, রুপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, বিদ্যুৎ বিভাগের ডিপিডিসি, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অফ বাংলাদেশ, রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রগতি ইন্ড্রাষ্ট্রিজ লিমিটেড, চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড, জিইএম কোম্পানি লিমিটেড ও বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেড, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৩টি চিনিকল। বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ফাইসন্স (এভেন্টিস) বাংলাদেশ লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি, হোয়েকষ্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, ইন্ড্রাষ্ট্রিয়াল প্রমোশন ডেভেলপমেন্ট, মিরপুর সিরামিক্স, রেকিট অ্যান্ড বেনকাইজার ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড।
 
শিল্প মন্ত্রণালয়ের উসমানিয়া গ্যাস সিট ফ্যাক্টরি লিমিটেড, এটলাস, ন্যাশনাল টিউবস ও ইস্টার্ন কেবলস। কর্ণফুলী পেপার মিলস, বাংলাদেশ ইন্স্যুলেটর এন্ড সেনেটারি ওয়্যার ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টারি লিমিটেড। সেতু বিভাগের আওতায় বঙ্গবন্ধু সেতু। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণায়ের আওতায় বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (শেরাটন হোটেল), হোটেল ইন্টারন্যাশনাল (সোনারগাঁও হোটেল)। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতায় টেলিটক বাংলাদেশ, বিটিসিএল, বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড, টেলিফোন শিল্প সংস্থা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় এসেনসিয়েল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
বলা হয়েছিল এই সব কোম্পানির ৫১ ভাগ শেয়ার সরকারি হাতে রেখে বাকি ৪৯ ভাগ শেয়ার পর্যায়ক্রমে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা হবে। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে যাবার পরও একটি কোম্পানির শেয়ারও বাজারে ছাড়া সম্ভব হয়নি। এমনকি এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তো সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে তাদের পক্ষে নির্দিষ্ট সময়ে তো নয়ই, এ বছরের মধ্যে শেয়ার ছাড়ার সম্ভব হবে না। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় বলেছে, জটিলতার কারণে শেয়ার ছাড়া যাবে না। অন্যদিকে শিল্প মন্ত্রণালয় বলেছে, এতে করে শ্রমিক অসনন্তোষ হতে পারে।
 
জানা গেছে, সরকারি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে-আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। অর্থাৎ ওই সব কোম্পানিতে যারা উচ্চ পর্যায়ে বসে রয়েছেন তারাই সরকারি লাভজনক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজার আসতে বাধা দিচ্ছেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের কিছু সংখ্যক শেয়ার বাজারে অনেক দিন ধরেই রয়েছে। কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও এ সব কোম্পানির বাদবাকি শেয়ারগুলো বাজারে ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ড্রাটিজের (বিসিআইসি) আওতায় একটি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে চট্রগ্রামে অবস্থিত ’উসমানিয়া গ্যাস সিট ফ্যাক্টরি লিমিটেড’। সরকারের হাতে থাকায় সবচেয়ে ভালো যে সব কোম্পানি রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি। বাজারে এই কোম্পানির শেয়ার রয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫০টি। এই শেয়ারগুলোর মধ্যে ৫১ শতাংশ বা ২ লাখ ৯০ হাজার ৬৩টি শেয়ারই রয়েছে বিসিআইসি'র হাতে। বাকি কিছু অংশ শেয়ার ধরে রয়েছে আইসিবিসহ প্রাতিষ্ঠানিক কয়েকটি বিনিয়োগকারি প্রতিষ্ঠান। জনগণের হাতে কোম্পানিটির শেয়ার রয়েছে মাত্র ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬৬টি। এ পরিস্থিতিতে ২০০৫ সালে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, সরকারি মালিকানাধীন ৫১ ভাগ শেয়ার থেকে ২৫ ভাগ শেয়ার পরবর্তী এক বছরের মধ্যে বাজারে ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি, কারণ সরকারি এই সিদ্ধান্তের সাথে সাথে উসমানিয়া গ্যাসের একটি পক্ষ হাইকোর্টে মামলা ঠুকে দেয়। ব্যাস, সেই থেকে কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি নেই। আর এই সুযোগে বেসরকারি মালিকানাধীন ফ্লোট গ্যাস কোম্পানিগুলো এখন গ্যাস সিটের বাজার একটু একটু করে দখল করে নিচ্ছে। বাজার হারাচ্ছে উসমানিয়া গ্যাস, তাদেরও আয় কমে যাচ্ছে, অর্থের অভাবে কারখানাটির উন্নয়ন কাজও হচ্ছে ব্যাহত।
 
কেন এই মামলা-এ প্রশ্নের জবাবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, মামলা যারাই করুক না কেন, এর পিছনে কিন্তু রয়েছে সরকারি গুটি কয়েক আমলা এবং উসমানিয়া গ্যাসের একটি প্রভাবশালীমহল। কারণ-এই কোম্পানিটির পরিচালক বা চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগে তারা ব্যক্তিগতকাজে সারা বছর ধরে কোম্পানির বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারসহ নানাবিধ সুযোগ পাচ্ছেন। এই চক্র ভাঙ্গতে না পারলে উসমানিয়া গ্যাস বলেন বা অন্যকোনো সরকারি কোম্পানি শেয়ার বলেন তাদের কারণে তা বাজারে ছাড়া রীতিমত দুঃসাধ্য একটি কাজ। কারণ তাদের দমন করতে না পারলে মামলা বা শ্রমিক অসন্তষের মত ঘটনা ঘটিয়ে শেয়ার ছাড়ার বিষয়টি পুরোটাই ভেস্তে দিতে পারে। এ জন্য সরকারের তদন্ত করে দেখা উচিত কোম্পানির শেয়ার না ছাড়ার পিছনে কোনো কোনো আমলা বেশি সরব এবং তারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে বাৎসরিক কি ধরণের সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন তা খতিয়ে দেখা। আর এটি করতেই পারলেই এ সকল কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়ার ব্যাপারে কোনো বাধাই থাকবে না বলে সূত্রের অভিমত।
আমলাতন্ত্রে সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা গুটিকয় লোক যে বাজার উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে তার আরো প্রমাণ পাওয়া ২০০৫ সালের দিকে চোখ ফেরালে। ২০০৫ সালের ৩১ আগস্ট তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অর্থমন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহবান করা হয়েছিল। সভাটির উদ্দেশ্য ছিল-বাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ার কিভাবে বাড়ানো যায়। সেই সময় ৬২টি সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে বলা হয়েছিল তারা যেন এক বছরের মধ্যে তাদের কোম্পানির অবশিষ্ট কিছু অংশ শেয়ার বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু তার পর অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র কয়েকটি সরকারি কোম্পানি ছাড়া কোনো কোম্পানির শেয়ার আজ পর্যন্ত বাজারে আসেনি। আর বহুজাতিক কোম্পানিতে সরকারি শেয়ার ছাড়ার বিষয়টি অনেকটা অনুচ্চারিতই থেকে গেছে।
 
আগে উল্লেখ করা হয়েছে- পুঁজিবাজারে ভালো সিকিউরিটিজের সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্দেশ্য ২০০৫ সালের ৩১ আগস্ট প্রথম একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিল- বাংলাদেশে পরিচালিত বহুজাতিক কোম্পানি অ্যাভেন্টিস (পূবর্তন নাম ফাইসন্স) বাংলাদেশ লিমিটেড, অর্গানন বাংলাদেশ লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানি, হোয়েকস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, রেকিট অ্যান্ড বেনকাইজার বাংলাদেশ লিমিটেড এবং লিভার ব্রাদার্স (বর্তমানে ইউনিলিভার) কোম্পানিতে রক্ষিত সরকারি শেয়ারের কিছু অংশ পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা হবে। এজন্য একটি সময়সীমাও বেঁধে দেয়া হয়। বলা হয়, ২০০৬ সালের ১৬ এপ্রিলের মধ্যে কর্মপরিকল্পনার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে শেয়ারগুলো বাজারে নিয়ে আসা হবে। সভায় উল্লেখ করা হয়েছিল- অ্যাভেন্টিস কোম্পানিতে মোট শেয়ার সংখ্যা এ ক্যাটাগরিতে রয়েছে এক হাজারটি, এবং বি ক্যাটাগরিতে রয়েছে- ৯ লাখটি। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের শেয়ারের অংশ-এ ৪৯০টি (৪৯%) এবং বি- ৪লাখ ৬০ হাজার ৮০০টি (৫১.২%)। একইভাবে অর্গানন কোম্পানিতে মোট শেয়ার সংখ্যা ৯৭ হাজার ৯১৮টি। এর মধ্যে সরকারি শেয়ার রয়েছে- ১২ হাজার ৬৫৫টি (১২.৯২%)। ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানিতে মোট শেয়ার সংখ্যা- ৬ কোটি টি। এর মধ্যে সরকারি শেয়ার রয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮২৪টি (যা মোট শেয়ারের শুন্য দশমিক ৬৪৪ শতাংশ), হোয়েকস্ট বাংলাদেশে রয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৮টি শেয়ার। এর মধ্যে সরকারি অংশের শেয়ার রয়েছে- ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৪টি (৪৮%), রেকিট অ্যান্ড বেনকাইজারের রয়েছে ৪৭ লাখ ২৫ হাজারটি শেয়ার। এর মধ্যে সরকারি শেয়ার হচ্ছে ১লাখ ৭৯ হাজার ৩৯টি (মোট শেয়ারের ৩.৭৯%) এবং আলোচিত আরেকটি বহুজাতিক কোম্পানির মোট শেয়ার রয়েছে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ১২৪টি। এর মধ্যে সরকারি শেয়ার ৭লাখ ৬৬ হাজার ৬০১টি শেয়ার (৩৯.২৫%)।
২০০৫ অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর এসব শেয়ারের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাথে আলোচনা করে উল্লেখিত কোম্পানিসহ যে সকল প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার রয়েছে সে সকল কোম্পানির শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিক্রি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বলা হয়, ২০০৬ সালের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে যাবার পরও সরকারি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর যায়নি। এর পর ২০০৭ সালের ৭মে আবারো একটি আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অর্থমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ব্যাংকিং)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ নিয়ে আলোচিত হয়।

আলোচিত বহুজাতিক কোম্পানির অধিকাংশ শেয়ারের মালিক বিদেশী সংস্থা। ফলে উল্লেখিত কোম্পানির বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছাড়া এ সমস্ত কোম্পানির শেয়ার অফলোড করা যাবে না। ব্যাস সেই পর্যন্ত শেষ। এরপরও দফায় দফায় এ ব্যাপারে বৈঠক করা হয়েছে । গত তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর সেই সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ বিষয়টি নিয়ে অন্ততপক্ষে দু'বার নিজে বৈঠক করেছেন। একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার স্পেশাল অ্যাসিটেন্ট মাহবুব জামিল এ কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পাানিগুলোর সাথে আলোচনা করবেন। কিন্তু বিষয়টি আর বেশি দূর এগুইনি। কারণ তিনি তখন একটি বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী পদ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তার পক্ষে সেই সকল বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিষয়ে আলোচনা করা বেশ কষ্টসাধ্য একটি কাজ ছিল। তার ভূমিকাও ছিল সময় পার করানোর মত।
 
এরপর বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অনেকে তখন সরকারকে বলেছিল, শেয়ার বাজারে নয়, বরং তাদের কাছেই সরকারি শেয়ারগুলো বিক্রি করে দেয়া উচিত। কিন্তু সরকার তাতে রাজি হয়নি। এর পর চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে একই ধরণের একটি বৈঠকে এই বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে তেমন জোরালো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি। বলা হয়েছে- এ জাতীয় প্রতিটি বহুজাতিক কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে সরকারের যে সমস- প্রতিনিধি রয়েছে তারা সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করবে। ব্যস এই পর্যন্ত, আসলে পরিচালনা পর্ষদে এই সকল সরকারি প্রতিনিধি ভূমিকা ঠিকই পালন করছে, আর তা হলো সেই সকল বহুজাতিক কোম্পানির পক্ষের ভূমিকা, সরকার বা জনগণের পক্ষে কোনো ভূমিকা নয়। আর এখানেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বেশ ভালো অংকের উপঢৌকনের বিষয়টি এসেই যাচ্ছে। যা এখন বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মুখে মুখে। পুঁজিবাজারের স্বার্থে এসব বাধা দ্রুত দূর করার এখুনি সময়। 

সৈয়দ অনিকেত জামান

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক, 16 অক্টোবর, শনিবার।

No comments:

Post a Comment