পুঁজিবাজারে এক কোটি টাকার ওপরে লেনদেনকারী বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের পাচটি তথ্য চেয়েছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। অর্থাৎ শেয়ারবাজারে কোনো বিনিয়োগকারী দিনে এক কোটি টাকা বা এর বেশি লেনদেন করলে সেই তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্রোকারেজ হাউজগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে এ তথ্য চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। প্রতিদিনের লেনদেন শেষে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে গ্রাহকের লেনদেন সংক্রান্ত পাঁচটি তথ্য দিতে হবে।
তথ্যগুলো হলো-শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয়ের নির্দেশ, বিও আইএসআইএন হোল্ডিং রিপোর্ট, বিগত এক সপ্তাহের লেনদেনের খতিয়ান, গ্রাহকদের শেষ মাসের ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী ও গ্রাহক প্রতি সর্বশেষ সপ্তাহের লেনদেনের সংক্ষিপ্ত তথ্য। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। গতকাল এ ব্যাপারে এসইসি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চিটাগাং স্টক একচেঞ্জ (সিএসই) চিঠি দিয়েছে। পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতেই সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গতকাল সোমবার এ আদেশ জারি করেছে, যা গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে।
ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিভাগীয় শহরের বাইরে ব্রোকারেজ হাউসের আর কোনো শাখা খোলার অনুমোদন দেবে না এসইসি। শেয়ারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য না আসা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। এ ছাড়া যেসব কোম্পানি পর পর দুই বছর বা তার বেশি সময় ‘জেড’ শ্রেণীতে রয়েছে, সেই সব কোম্পানিকে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল লেনদেনব্যবস্থা থেকে তালিকাচ্যুত করা হবে। এসব কোম্পানিকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে পাঠানো হবে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি নামের বিকল্প বাজারে।
এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এসইসি এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুঁজিবাজারে যেসব কোম্পানি নিয়মিত লভ্যাংশ দেয় না, সেই সব কোম্পানিকে শাস্তিস্বরূপ দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির কাতারে, অর্থাৎ ‘জেড’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আর যেসব কোম্পানি নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করে না, নিয়মনীতি পালনের তোয়াক্কা করে না এবং উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ, সেসব কোম্পানিকে পাঠানো হয় ওটিসি বাজারে।
কাগুজে শেয়ারকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে (ডিম্যাট) রূপান্তর না করায় গত রোববার এসইসি ২৫টি কোম্পানিকে ওটিসি বাজারে পাঠায়। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওটিসি বাজার চালু হওয়ার পর এ নিয়ে মোট ৭৫টি কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠানো হয়েছে। এবার নিয়মিত লভ্যাংশ না দেওয়ার শাস্তি হিসেবে নতুন করে আরও ১২টি কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এ তালিকায় রূপালী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ও ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সের মতো কোম্পানি রয়েছে। তালিকার অন্য কোম্পানিগুলো হলো আজিজ পাইপ, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, চিটাগাং ভেজিটেবল, মেঘনা পেট, তাল্লু স্পিনিং, মুন্নু ফেব্রিকস, সাফকো স্পিনিং ও পদ্মা সিমেন্ট। সম্মিলিতভাবে এসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ এক হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিয়মিত লভ্যাংশ না দিলেও এ তালিকায় বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় কোম্পানি রয়েছে। ফলে সব কোম্পানিকে এক কাতারে ফেলে ঢালাওভাবে তালিকাচ্যুত করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। তা ছাড়া বাজারে তীব্র শেয়ার সংকটের সময় একসঙ্গে এতগুলো কোম্পানিকে মূল লেনদেন ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়া কতটুকু যৌক্তিক, সেটাও ভেবে দেখা দরকার।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরের বাইরে ব্রোকারেজ হাউসের শাখা খোলার অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ঢালাওভাবে সব কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠানো হলে বাজারে শেয়ারের সংকট আরও বাড়বে।
এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন করলে তথ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, মানি লন্ডারিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সার্কুলারের সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটা দেখা দরকার। তবে যা-ই হোক, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাজারের জন্য শুভ ফল আনবে না। লেনদেন চলাকালে এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
একজন বিনিয়োগকারী বলেন, এসইসির নতুন এ নির্দেশনার কারণে বিনিয়োগকারীরা লেনদেন কমিয়ে দেবেন। এতে বাজারে শেয়ারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হবে, যা শেয়ারের দাম বাড়াতে আরও বেশি ভূমিকা রাখবে। তিনি মনে করেন, শেয়ারের সরবরাহ না বাড়িয়ে, এভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা খুব একটা কাজে আসবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন করেছে এমন গ্রাহক সম্পর্কে বেশির ভাগ ব্রোকারেজ হাউসই গতকাল তথ্য দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এসইসি গ্রাহকের ক্রয়-বিক্রয় আদেশ; বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে কী শেয়ার ছিল, তার তথ্য; গত এক সপ্তাহের আর্থিক খতিয়ান; পোর্টফোলিও বা পত্রকোষের বিবরণীসহ গ্রাহকের এক সপ্তাহের লেনদেনের সংক্ষিপ্তসার দিতে বলেছে। কিন্তু লেনদেনের পর প্রতিটি গ্রাহকের এসব তথ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সময়ে এসইসিতে জমা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
এমএম মাসুদ
তথ্যগুলো হলো-শেয়ার ক্রয় বা বিক্রয়ের নির্দেশ, বিও আইএসআইএন হোল্ডিং রিপোর্ট, বিগত এক সপ্তাহের লেনদেনের খতিয়ান, গ্রাহকদের শেষ মাসের ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী ও গ্রাহক প্রতি সর্বশেষ সপ্তাহের লেনদেনের সংক্ষিপ্ত তথ্য। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। গতকাল এ ব্যাপারে এসইসি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চিটাগাং স্টক একচেঞ্জ (সিএসই) চিঠি দিয়েছে। পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিতেই সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গতকাল সোমবার এ আদেশ জারি করেছে, যা গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে।
ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিভাগীয় শহরের বাইরে ব্রোকারেজ হাউসের আর কোনো শাখা খোলার অনুমোদন দেবে না এসইসি। শেয়ারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য না আসা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। এ ছাড়া যেসব কোম্পানি পর পর দুই বছর বা তার বেশি সময় ‘জেড’ শ্রেণীতে রয়েছে, সেই সব কোম্পানিকে স্টক এক্সচেঞ্জের মূল লেনদেনব্যবস্থা থেকে তালিকাচ্যুত করা হবে। এসব কোম্পানিকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে পাঠানো হবে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি নামের বিকল্প বাজারে।
এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আনোয়ারুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এসইসি এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুঁজিবাজারে যেসব কোম্পানি নিয়মিত লভ্যাংশ দেয় না, সেই সব কোম্পানিকে শাস্তিস্বরূপ দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির কাতারে, অর্থাৎ ‘জেড’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আর যেসব কোম্পানি নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করে না, নিয়মনীতি পালনের তোয়াক্কা করে না এবং উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ, সেসব কোম্পানিকে পাঠানো হয় ওটিসি বাজারে।
কাগুজে শেয়ারকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে (ডিম্যাট) রূপান্তর না করায় গত রোববার এসইসি ২৫টি কোম্পানিকে ওটিসি বাজারে পাঠায়। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে ওটিসি বাজার চালু হওয়ার পর এ নিয়ে মোট ৭৫টি কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠানো হয়েছে। এবার নিয়মিত লভ্যাংশ না দেওয়ার শাস্তি হিসেবে নতুন করে আরও ১২টি কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এ তালিকায় রূপালী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ও ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সের মতো কোম্পানি রয়েছে। তালিকার অন্য কোম্পানিগুলো হলো আজিজ পাইপ, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, চিটাগাং ভেজিটেবল, মেঘনা পেট, তাল্লু স্পিনিং, মুন্নু ফেব্রিকস, সাফকো স্পিনিং ও পদ্মা সিমেন্ট। সম্মিলিতভাবে এসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ এক হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিয়মিত লভ্যাংশ না দিলেও এ তালিকায় বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় কোম্পানি রয়েছে। ফলে সব কোম্পানিকে এক কাতারে ফেলে ঢালাওভাবে তালিকাচ্যুত করলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। তা ছাড়া বাজারে তীব্র শেয়ার সংকটের সময় একসঙ্গে এতগুলো কোম্পানিকে মূল লেনদেন ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়া কতটুকু যৌক্তিক, সেটাও ভেবে দেখা দরকার।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ খান একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিভাগীয় শহরের বাইরে ব্রোকারেজ হাউসের শাখা খোলার অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ঢালাওভাবে সব কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠানো হলে বাজারে শেয়ারের সংকট আরও বাড়বে।
এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন করলে তথ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, মানি লন্ডারিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সার্কুলারের সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটা দেখা দরকার। তবে যা-ই হোক, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাজারের জন্য শুভ ফল আনবে না। লেনদেন চলাকালে এ ধরনের নির্দেশ দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
একজন বিনিয়োগকারী বলেন, এসইসির নতুন এ নির্দেশনার কারণে বিনিয়োগকারীরা লেনদেন কমিয়ে দেবেন। এতে বাজারে শেয়ারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হবে, যা শেয়ারের দাম বাড়াতে আরও বেশি ভূমিকা রাখবে। তিনি মনে করেন, শেয়ারের সরবরাহ না বাড়িয়ে, এভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা খুব একটা কাজে আসবে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন করেছে এমন গ্রাহক সম্পর্কে বেশির ভাগ ব্রোকারেজ হাউসই গতকাল তথ্য দিতে পারেনি। এ ব্যাপারে একটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এসইসি গ্রাহকের ক্রয়-বিক্রয় আদেশ; বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে কী শেয়ার ছিল, তার তথ্য; গত এক সপ্তাহের আর্থিক খতিয়ান; পোর্টফোলিও বা পত্রকোষের বিবরণীসহ গ্রাহকের এক সপ্তাহের লেনদেনের সংক্ষিপ্তসার দিতে বলেছে। কিন্তু লেনদেনের পর প্রতিটি গ্রাহকের এসব তথ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সময়ে এসইসিতে জমা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
এমএম মাসুদ
No comments:
Post a Comment