Friday, October 22, 2010

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিতে শর্ত শিথিল করল এসইসি


শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিতে শর্ত শিথিল করেছে এসইসি। এখন থেকে কোন কোম্পানি শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে ওই কোম্পানির ন্যূনতম মূলধন ৩০ কোটি টাকা হতে হবে। এর আগে এই সীমা ছিল ৪০ কোটি টাকা। এর ফলে শেয়ারবাজারে কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে মূলধনের সীমা আরও ১০ কোটি টাকা কমিয়ে আনা হলো। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোম্পানিটিকে কমপক্ষে ১২ কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছাড়তে হবে। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত শেয়ারের পরিমাণ কোম্পানির মোট শেয়ারের ১০ শতাংশের কম হতে পারবে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে শেয়ারবাজারে কম মূলধননের ছোট কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির পথ সুগম হল। বাজারে বিদ্যমান চাহিদার বিপরীতে দ্রুত শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে এসইসি বাজার পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকে মূলধন সীমা ২৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার তা বাড়িয়ে ৩০ কোটি টাকা করেছে। এসইসির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১১ মার্চ এক সার্কুলারের মাধ্যমে এসইসি আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করে। শর্ত অনুসারে, কোন কোম্পানির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন এবং প্রস্তাবিত আইপিও নিয়ে ন্যূনতম মূলধন ৪০ কোটি টাকা হলেই কেবল আইপিওর জন্য আবেদন করতে পারবে। আর ৭৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধনের (আইপিওসহ) ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ শেয়ারবাজারে বিক্রি করতে হবে। আইপিওর আকার ৭৫ কোটি টাকা থেকে ১৫০ কোটি টাকার মধ্যে হলে বাজারে ছাড়তে হবে ২৫ ভাগ শেয়ার।  আর ১৫০ কোটি টাকার বেশি মূলধনের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ শেয়ার ইস্যু করা যাবে। ১৫০ কোটি টাকার কম মূলধনের (আইপিওসহ) ক্ষেত্রে কোন প্রি-আইপিও প্লেসমেন্ট বরাদ্দ দেয়া যাবে না।

আইপিও ইস্যুকারি কোম্পানির ন্যূনতম মূলধন এবং আইপিওর সর্বনিম্ন সীমা বেধে দেয়ার পক্ষে এসইসির যুক্তি ছিল, ছোট আকারের কোম্পানি বাজারে এলে তা নিয়ে এক ধরনের কারসাজি শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই এসইসির এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে আসছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দেশে বড় মূলধন সম্পন্ন কোম্পানি খুবই কম। তাই এই শর্তের কারণে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোর বড় অংশই শেয়ারবাজারে আসতে পারবে না। অন্যদিকে আইপিওতে শেয়ার বিক্রির ন্যূনতম পরিমাণ বেঁধে দেয়ার বিষয়টিও উদ্যোক্তাদেরকে নিরুৎসাহিত করবে। কারণ একটি কোম্পানির তার ব্যবসায়িক চাহিদার নিরিখেই আইপিওর আকার নির্ধারণ করা হয়। এসইসির শর্তের ফলে যদি তাকে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত শেয়ার ইস্যু করে বড় অংকের মূলধন সংগ্রহ করতে হয়, তবে তা ওই কোম্পানির জন্য বিশাল দায়ে পরিণত হবে। কারণ শেয়ার সংখ্যা যত বেশি হবে নিট মুনাফাও তত ভাগ হবে। এতে শেয়ার প্রতি আয় কমে যাবে। কমে যাবে লভ্যাংশ ঘোষণার সক্ষমতা।

জানা গেছে, শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক উর্ধ্বগতিতে বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত নতুন শেয়ারের সরবরাহ জরুরি। কিন্তু সেই অনুপাতে বাজারে আইপিও আসছে না। আইপিও আসার ক্ষেত্রে কি কি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং করনীয় কি সেই বিষয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে সুপারিশ পাঠাতে বলেছিল এসইসি। আর ওই সুপারিশে ন্যূনতম মূলধনের আকার অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে ওঠে এসেছে। এসইসির পরামর্শক কমিটির বৈঠকে বিষয়টি আলোচনার পর মূলধন সীমা ৪০ কোটি টাকা থেকে ২৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনার সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর সরকার ৩০ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এমএম মাসুদ

No comments:

Post a Comment