Friday, October 1, 2010

ডিএসই থেকে তালিকাচ্যুত হয়ে ওটিসি মার্কেটে যুক্ত হলো ২৫ কোম্পানি


নতুন করে ওভার দ্যা মার্কেটে (ওটিসি) আরও ২৫টি কোম্পানি যুক্ত হলো। এতে করে এ মার্কেটে কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫টি। সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)’র নির্দেশনা অমান্য করায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় ২৫টি কোম্পানিকে ওসিটি মার্কেটে পাঠানো হয়েছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অনলাইনে এই কোম্পানিগুলো আর লেনদেন করতে পাড়ছে না। তালিকাচ্যুত ২৫টি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর পুঁজিবাজারে শেয়ারের মূল্য হাজার কোটি টাকার ওপরে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বেঁধে দেয়া সময়ের (৩০ সেপ্টেম্বর) মধ্যে কাগজের শেয়ারকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তরে ব্যর্থ হওয়ায় কোম্পানিগুলোকে ওটিসি পাঠানোর জন্য স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দিয়েছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সেচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। তবে ইতোমধ্যেই সিডিবিএল’র মাধ্যমে ডিমেট প্রক্রিয়া শুরু করা কোম্পানিগুলো আবেদন করলে তাদের জন্য কয়েক দিন সময় দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে এসইসি জানিয়েছে।

এদিকে ২৫টি কোম্পানি ওটিসি মার্কেটে যাওয়ার ফলে প্রায় হাজার কোটি টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আটকে গেছে। অন্যদিকে ওটিসি মার্কেটে বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতা না থাকার কারণে গত এক বছরে সেখানে কোনো ধরনের লেনদেন হচ্ছে না বলেই চলে। ইতিপূর্বে ওটিসিতে পাঠানো ৫০টি কোম্পানিতে বিনিয়োগকৃত বিনিয়োগকারীদের কয়েক হাজার কোটি টাকা আটকে রয়েছে। ফলে একই পরিণতি বরন করতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার তালিকাচ্যুত করা আরও ২৫টি কোম্পানির হাজার কোটি টাকার শেয়ার। ওটিসি মার্কেটে লেনদেন না হওয়ার কারণে ওইসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই চলে।

এ ব্যাপারে এসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কমিশন বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সব কাগজের শেয়ারকে ডিমেট শেয়ারে রুপান্তরিত করতে নির্দেশ দেয়। তবে এসব কোম্পানি তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় এদেরকে মূল মার্কেট থেকে বের করে ওটিসিতে পাঠানোর পূব সিদ্ধান্ত কমিশন বহাল রেখেছে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানান, এসইসির সিদ্ধান্ত কোম্পানির স্বার্থ সংরক্ষিত হলেও বিনিয়োগকারীর স্বার্থ ক্ষুণœœ হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর ডিমেটে না আসার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। কারণ ডিমেট না করায় এ ২৫ কোম্পানি ওটিসিতে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা আটকে যাচ্ছে।

তালিকাচ্যুত ২৫ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- খাদ্য ও অনুষাঙ্গিক খাতের ৯টি, টেক্সটাইল খাতের ৪টি, ঔষধ ও রসায়ন খাতের ৩টি, বিবিধ খাতের ২টি, সেবা খাতের ২টি। এছাড়া ট্যানারি, প্রকৌশল, কাগজ, সিমেন্ট ও পাট খাতের ১টি করে কোম্পানি রয়েছে। তালিকাচ্যুত খাদ্য ও অনুষাঙ্গিক খাতের ৯টি কোম্পানি হচ্ছে- আলফা টোবাক্কো, বাংলাদেশ লিফ টোবাক্কো কোম্পানি (বিএলটিসি), ইউসুফ ফ্ল্যাওয়ার, বাংলাদেশ প্লান্টেশন, হিল প্ল্যান্টেশন, গালফ ফুড, জিলবাংলা সুগার, শ্যামপুর সুগার, মর্ডান ইন্ডাসট্রিজ। টেক্সটাইল খাতের ৪টি কোম্পানি হচ্ছে- মর্ডান ডাইং, আনলিমা ইয়ার্ন, অলটেক্স ইন্ডাসট্রিজ, কাসেম সিল্ক। রসায়ন খাতের- বাংলা প্রসেস, ওরিয়ন ইনফিউশন্স, থিরাপেটিকস। বিবিধ খাতের- হিমাদ্রি, দি ইঞ্জিনিয়ার্স। সেবা খাতের ২টি কোম্পানি হচ্ছে- বাংলাদেশ সার্ভিসেস ও বাংলাদেশ হোটেলস। ট্যানারি খাতের- সমতা লেদার। প্রকৌশল খাতের- রেনউইক জজ্ঞেশ্বর। কাগজ খাতের- আজাদী প্রিন্টার্স। সিমেন্ট খাতের- নিলয় সিমেন্ট। পাট খাতের- নর্দান জুট।

এ সম্পর্কে ডিএসইর সভাপতি শাকিল বিজভী বলেন,  তালিকাচ্যুত ২৫ কোম্পানিকে কাগজের শেয়ার থেকে ডিমেট করার জন্য এসইসি কোম্পানিগুলোকে বারবার সময় দেয়ার পরেও তারা ডিমেট করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ডিএসই এসব কোম্পানিকে এসইসির নির্দেশে তালিকাচ্যুত করেছে। বর্তমানে এসব কোম্পানির শেয়ার ওটিসি মার্কেটে লেনদেন হবে। তিনি বলেন, কোম্পানিগুলো ডিমেট করলে আবারও মূল মার্কেটে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে।

জানা যায়, গত ২৫ মে এসইসি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কাগজের শেয়ার কে ১ জুলাইয়ের মধ্যে ডিমেট শেয়ারে রূপান্তরের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশে উল্লেখ করা হয়, বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে কোনো কোম্পানি কাগজের শেয়ার থেকে ডিমেট শেয়ারে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হলে, তাদেরকে ১ জুলাই থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেয়া হবে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেয়ার পর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওইসব কোম্পানিকে মূল মার্কেটে লেনদেনের সুয়োগ দেয়া হবে। এরপরেও যদি তারা ডিমেট না করে তাহলে ১ অক্টোবর থেকে ‘জেড’ ক্যটাগরির ওইসব শেয়ারের লেনদেন মূল বাজারে বন্ধ করে দেয়া হবে।
এমএম মাসুদ

No comments:

Post a Comment