বেসরকারি খাতে দেশের প্রথম ওপেন-এন্ড (অমেয়াদি) মিউচ্যুয়াল ফান্ড প্রাইম ফাইন্যান্সিয়াল ফার্স্ট ইউনিট ফান্ডের যাত্রা শুরুসিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খন্দকার বলেছেন, পুঁজিবাজারে নিয়ম অমান্যকারীদের সঙ্গে আপোস করবে না এসইসি। এক্ষেত্রে কমিশন অনেক কঠোর এবং এই কঠোরতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, পুঁিজবাজারে উথান পতন থাকবেই। এটা স্বাভাবিক বিষয়। এ নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। গতকাল রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে প্রাইম ফাইন্যান্স ফাস্ট ইউনিট ফান্ডের উদ্ধোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ফাইন্যান্স ফাস্ট ইউনিট ফান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন আল কাসেম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতার হোসেন, এইমস মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়্যার সাঈদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রাইম ফাইন্যান্স এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন আল কাশেম।
এসইসি’র চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমাদের পুঁজিবাজার প্রধানত ইক্যুইটি নির্ভর। এই নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, বিদেশে এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো অনেক ধরনের কাজ করে। কিন্তু আমাদের দেশে এসেট ম্যাসেজমেন্ট কোম্পানিগুলো একটি দুইটি কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তাই এদের কাজের পরিধি আরও বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, প্রাইম ফাইন্যান্স ফাস্ট ইউনিট ফান্ড ভালো করবে বলে আমার বিশ্বাস। এই ফান্ডের সফলতার ওপর ভবিষ্যৎতে আরও অনেকগুলো ইউনিট ফান্ড বাজারে আসা না আসা নির্ভর করছে।
প্রাইম ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান আমিনুল হক বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে ওপেন-এন্ড ফান্ড। কিন্তু বেসরকারী খাত থেকে ওপেন-এন্ড ফান্ড ছাড়ার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রাইম ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতির চেয়ে পুঁজিবাজার উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে এ ফান্ডের উদ্যোক্তা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রাইম ফাইন্যান্স ফাস্ট ইউনিট ফান্ড হলো দেশে প্রথমবারের বেসরকারী খাতের প্রথম ইউনিট ফান্ড। এই ফান্ডের আকার হচ্ছে ২০ কোটি টাকা। প্রতিটি ইউনিট ফান্ডের অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা। ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হলো প্রাইম ফাইন্যান্স এসেট ম্যানেজমেন্ট।
প্রসঙ্গত, ফান্ডটি দেশে বা বিদেশের কোন স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয়। ইউনিট মালিকেরা সরাসরি প্রাইম ফাইন্যান্স এসেট ম্যানেজমেন্ট এবং ১৬টি অনুমোদিত এজেন্ট থেকে ইউনিট লেনদেন করতে পারবেন। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, প্রভিডেন্ট ফান্ড, প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক এবং অন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ড এই ইউনিট ক্রয় করতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা ১ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার টাকার মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ১ শত ইউনিট ক্রয় করেন। আগামী ৪৫ দিন ২০ কোটি টাকার ফান্ড সংগ্রহ করা পর্যন্ত ফান্ডটির ইউনিট বিক্রয় চলবে। পরবর্তীতে ফান্ডটি নিয়মিত লেনদেনের জন্য খুলে দেয়া হবে। একজন ব্যক্তি প্রতিটি ১০০ টাকা দরে সর্বনিম্ন ৫০টি ইউনিট (৫০০০ টাকা) এবং একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিটি ১০০ টাকা দরে সর্বনিম্ন ১০০০টি ইউনিট (এক লাখ টাকা) ক্রয় করতে পারবেন। ক্রয়ের ব্যাপারে কোনো ঊর্ধ্বসীমা নাই।
এমএম মাসুদ
No comments:
Post a Comment