Saturday, September 25, 2010

রাস্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়ার তাগিদ

রষ্ট্রায়ত্ত ২৬ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার যথাসম্ভব দ্রুত পুঁজিবাজারে আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইবে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গত বৃহস্পতিবার(২৩-০৯-১০) কমিটির সভাপতি এএইচএম মোস্তফা কামাল জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন। বৈঠকে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৬ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অবিলম্বে পুঁজিবাজারে ছাড়ার তাগিদ দেয়া হয়।

বাজার বিশ্লেষকরাও এর সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৬ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অবিলম্বে পুঁজিবাজারে ছাড়ার কার্যকর ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে বাজারে অতিমূল্যায়িত শেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করা যাবে না। ঢাকা স্টকের কর্মকর্তারা দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন ট্যুরের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বাজারে আসার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। কিন্তু বাজারে শেয়ার বাড়ানোর কোন পদক্ষেপ নেই। পাশাপাশি ডিএসইর অনলাইনকে আধুনিক করা হচ্ছে না। তাই ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে গ্রাহকের শেয়ার লেনদেনের কাজে বেশ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ব্যাপারে তারা ডিএসইর সঙ্গে কথা বললে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন বলে শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অভিযোগ।


ওইদিন বৈঠক শেষে মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন জুন মাসের (চলতি বছর) মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্তর ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে; কিন্তু তা হয়নি। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত শেয়ার সরবরাহের অভাবে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়েছে। এর চেয়ে পুঁজিবাজারে শেয়ার সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানো ভালো। সংসদীয় কমিটি বর্তমান বাজার পরিস্থিতিকে ‘সন্তোষজনক’ উল্লেখ করেছে বলেও জানান কমিটির সভাপতি। 


তিনি জানান, জনগণকে পুঁজিবাজার সম্পর্কে দ্রুত জানাতে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) একটি আলাদা শাখা সৃষ্টি করা উচিত বলেও পরামর্শ দিয়েছে স্থায়ী কমিটি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোশারফ হোসেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, লিস্টেড কোম্পানি অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান সালমান এফ. রহমান, এসইসি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


গত সপ্তাহের শেয়ারবাজার - ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৮৯ শতাংশ


গত সপ্তাহের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা স্টকের লেনদেন টাকায় ৮৯ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে। সিকিউরিটিজ লেনদেন  দৈনিক বৃদ্ধির হার ১০৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। হাওলা বেড়েছে ৮৮ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং শেয়ার প্রতি গড় আয় (পিই) দশমিক ০৮ শতাংশ। বর্তমানে পিইর হার ২৫ দশমিক ৯৩ তে অবস্থান করছে। টাকায় দৈনিক লেনদেন ১২০৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে গত সপ্তাহে ১৮৩১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২৭৫টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৫টির এবং কমেছে ১০৮টি কোম্পানির। শতাধিক কোম্পানি দরপতনে থাকলেও মূল্যসূচক তিনটিই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। সাধারণ সূচক ১০৬ দশমিক ৬১ পয়েন্ট, ২০ সূচক ১৩৮ দশমিক ১৭ পয়েন্ট এবং সব শেয়ার ৯৪ দশমিক ১২ পয়েন্ট বেড়েছে।

ডিএসইতে বাজার তারল্যের পরিমাণ এক সপ্তাহে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ বা ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বেড়েছে। সমাপনী মূল্যের ভিত্তিতে গত সপ্তাহে দর বৃদ্ধির তালিকায় ছিল সিএমসি কামাল, দুলামিয়া কটন, সায়হাম টেক্সটাইল, দেশ গার্মেন্ট, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, এইচআর টেক্সটাইল, ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স, প্রাইম টেক্সটাইল ও ফার্মা এইড। আর লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো- প্রাইম ফিন্যান্স, বেক্সিমকো, আফতাব অটোমোবাইল, স্কয়ার ফার্মা, লঙ্কা-বাংলা ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, বিএসআরএম স্টিল ও মেঘনা সিমেন্ট। বাজার লেনদেনের ২৯ দশমিক ৫৮ শতাংশই ছিল এ ১০ কোম্পানির দখলে। মোট ৭ কোটি ৪২ লাখ ১৬ হাজার ১৩৬টি স্টক ২ হাজার ৭০৮ কোটি ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বাজারমূল্যে হাতবদল হয়েছে।


খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেষ কার্যদিবস সিরামিক খাতে অধিকাংশ ইস্যুর দাম বেড়েছে। এ খাতে আগের দিনের মতো একই রকম শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ খাতের ৫টি ইস্যুর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩টির, কমেছে ২টির। এ খাতে তালিকায় থাকা সর্বোচ্চ দামে শেয়ার লেনদেন হয়েছে মুন্নু সিরামিক কোম্পানির। অন্যদিকে স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক কোম্পানির শেয়ারের দাম  লেনদেন হয়েছে সর্বোচ্চ কমে। 


সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে জ্বালানি খাতের অবস্থা ছিল মন্দা। এ খাতে মোট ১১টি কোম্পানির মধ্যে সপ্তাহে শেষে দাম বেড়েছে মাত্র ৪টি কোম্পানির, কমেছে ৭টির। জ্বালানি খাতে সর্বোচ্চ বেশি দরে শেয়ার লেনদেন হয়েছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির। আর সর্বোচ্চ কম দরে শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্ট কোম্পানির। 


ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। শেষ কার্যদিবস গত বৃহস্পতিবার খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে ৬টির কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে, ১১টি কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে, ৪টি কোম্পানির শেয়ারের কোন লেনদেন হয়নি, ২টি কোম্পানির শেয়ারের দর অপরিবর্তিত থাকে। এর আগের কার্যদিবসে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছিল, ৪টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছিল, তবে গেল সপ্তাহজুড়েই লেনদেন বেড়েছে। তালিকার শীর্ষ খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের বাংলাদেশ প্ল্যানটেশন কোম্পানি লিমিটেড। শেষ কার্যদিবসে এ কোম্পানির শেয়ারের দর অপরিবর্তিত থাকে। তবে এ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে ১৪০ টাকা।


এমএম মাসুদ

No comments:

Post a Comment