অগ্রাধিকার শেয়ার আইন চূড়ান্ত করল এসইসি। নতুন এ আইনে অগ্রাধিকার শেয়ারকে পুনঃগণপ্রস্তাবের (রিপিট পাবলিক অফারÑআরপিও) আওতায় আনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রূপান্তরযোগ্য অগ্রাধিকার শেয়ার অথবা বন্ড ছাড়তে হলে ইস্যু ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে ছাড়তে হবে। মঙ্গলবার এসইসির বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতকাল এসইসির মূখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ সাংবাদিকদের একথা জানান।
জানা গেছে, নতুন আইন অনুযায়ী, অন্তত ৪০ শতাংশ শেয়ার কোম্পানির বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের এবং ৪০ শতাংশ আইপিওর জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। ২০ শতাংশের বেশি প্রি-আইপিও বা প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিতরণ করা যাবে না। অগ্রাধিকার শেয়ারের জন্য আলাদা কোন নিয়ম না থাকায় শেয়ারহোল্ডারদের পাস কাটিয়ে প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিতরণ করতো কোম্পানিগুলো। গত ৩ জুলাই এসইসি অগ্রাধিকার শেয়ার আইনের জন্য পৃথক নীতিমালা না করে পাবলিক ইস্যু বিধিমালার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জনমত নিয়ে আইন চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে পৃথক নীতিমালা না করেই শেয়ারবাজারে বহুল আলোচিত অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যুর প্রক্রিয়াকে পাবলিক ইস্যু বিধিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় এসইসি। এই সংশোধনীর ফলে কোন কোম্পানি অগ্রাধিকার শেয়ার এবং রূপান্তরযোগ্য বন্ড ইস্যু করতে চাইলে তাকে আরপিওর প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
এ ধরনের সংশোধনের ফলে অগ্রাধিকার শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে এ ধরনের শেয়ার ইস্যুর যোগ্যতা, সাধারণ শেয়ারে রূপান্তরের সময়সীমা, রূপান্তরকালে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ ইত্যাদি নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা দূর হবে।
জানা গেছে, রাইট শেয়ার এবং আরপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ থাকলেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার শেয়ার ছাড়ার আগ্রহ বেড়ে গেছে। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোন নীতিমালা না থাকায় কোম্পানিগুলো ইচ্ছে মতো শর্তারোপ করে অগ্রাধিকার শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছিল। এ অবস্থায় পুরো প্রক্রিয়াটিকে আইনের আওতায় আনা হলো।
এমএম মাসুদ
No comments:
Post a Comment