Monday, August 30, 2010

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মার্জিন ঋণ সুবিধা বাড়াল এসইসি

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটের বিপরীতে মার্জিন ঋণ সুবিধা বাড়িয়েছে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এখন থেকে কোনো মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বাজার মূল্য এর প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভি) তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি না হলে ওই ফান্ডের বিপরীতে মার্জিন ঋণ নেয়া যাবে। 

গতকাল অনুষ্ঠিত এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির সভায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মার্জিন ঋণের নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, এর আগে প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভির) তুলনায় বাজার মূল্য ১৫ শতাংশের বেশি হলে মার্জিন ঋণ নেয়া যেত না। অর্থাৎ কোন মিউচ্যুয়াল ফান্ডের এনএভি ১০ টাকা হলে ঐ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বাজার দর ১১ টাকা ৫০ পয়সা হলেই সেটি ঋণ সুবিধার বাইরে চলে যেত। এখন দর ১৫ টাকার বেশি না হলে ঐ মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেনের ক্ষেত্রে ঋণ নেয়া যাবে। এ নিয়মের ফলে এখন অধিকাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডই ঋণ সুবিধার আওতায় চলে আসবে। ফলে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুল দাম বেশ খানিকটা বাড়বে। ফলে তারা লভবান হবেন। 

তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা এ সিদ্ধান্তের ফলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ার আশংকা করছেন। তাদের মতে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর বাজার দর ইউনিট প্রতি সম্পদ মূল্যের কাছাকাছি হওয়া উচিত। সে হিসাবে অধিকাংশ মিচ্যুয়াল ফান্ডই এখন যৌক্তিক দরে লেনদেন হচ্ছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের ফলে এখন অধিকাংশ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বেড়ে যাবে। 


জানা যায়, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর অতিমূল্যায়িত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর এসইসি পুঁজিবাজারের সব ধরনের মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ঋণ সুবিধা বাতিল করে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটের বাজার দর সাধারণত ইউনিট প্রতি সম্পদ মূল্যের কাছাকাছি থাকার কথা থাকলেও দেশে লেনদেন হওয়া মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ইউনিট প্রতি সম্পদ মূল্যের চাইতে অনেক বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে। এ যুক্তিতে এসব ফান্ডের ঋণ সুবিধা বাতিল করে এসইসি। এসইসির ঋণ সুবিধা বাতিলের ফলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দরে ব্যাপক ধস নামে। অধিকাংশ ফান্ডের দর সংশোধন হওয়ায় ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর সীমিত আকারে ঋণ সুবিধার অনুমোদন করে এসইসি। সে সময় এসইসি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট প্রতি সম্পদ মূল্যের চাইতে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ শতাংশ বাজার দর থাকলে সেসব ফান্ড ঋণ সুবিধা পাবে বলে জানানো হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৭ মার্চ ঋণ সুবিধা সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত করা হয়। তবে এসইসির এই নিয়মের কারণে পুঁজিবাজারে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ঋণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হয় এবং ঋণ প্রদানকারী প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানই এ খাতে ঋণ প্রদান বন্ধ রাখে।


তবে ভিন্ন মত পোষণ করেন এসইসির সদস্য ইয়াসিন আলী। তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বাজার একেবারে স্থিমিত হয়ে আছে। ফলে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আইপিওতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ একেবারেই কমে গেছে। আইপিওতে যোখানে আগে ২০ থেকে ৩০ গুন আবেদন জমা পড়ত সেখানে এখন মাত্র ২ বা ৩ গুন আবেদন জমা পড়ছে। প্রাইভেট পে¬সমেন্টে কেওই মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিতে আগ্রহি হচ্ছে না। ফলে এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো বিপাকে পড়েছে। এ ভাবে চলতে থাকলে বাজারে নতুন মিউচ্যুয়াল ফান্ড আসা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তখন বাজার বড় ধরণের সংকটে পড়বে। বাজারে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী না এলে বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে না।



এমএম মাসুদ

No comments:

Post a Comment