Saturday, August 21, 2010

চলতি বছর পুঁজিবাজারে আসছে না সরকারি শেয়ার

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোন কোম্পানির শেয়ার চলতি বছর পুঁজিবাজারে আসছে না। অন্যদিকে শেয়ার অফলোডের জন্য ঘোষিত ২৬ সরকারি কোম্পানির পরিবর্তে আইসিবি কাজ করছে ২২টি কোম্পানি নিয়ে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে অবশিষ্ট ৪টি কোম্পানির শেয়ার অফলোডের বিষয়টি স্থগিত রয়েছে বলে আইসিবি সূত্রে জানা গেছে। শ্রমিক অসন্তোষ, জ্বালানি নিরাপত্তা, কোম্পানি পুনর্গঠিত না হওয়া, জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা, অডিট ফার্ম নিয়োগে ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন অজুহাতে শেয়ার অফলোডের বিষয়টি ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ পুঁজিবাজারে শেয়ারের তীব্র সঙ্কটের কারণে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ শেয়ারের দর অতি মূল্যায়িত হয়ে গেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারের এ সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় শেয়ারের সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সরকারি কোম্পানির তালিকাভুক্তির পথ রুদ্ধ হয়ে আছে। 


আইসিবি সূত্রে জানা যায়, আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড সরকারি কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে আনার জন্য দায়িত্ব পেলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অনাগ্রহের কারণে ঘোষিত সময়ে শেয়ার অফলোড করা যাবে না। 


সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোডের জন্য প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে আইসিবি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি একাধিকবার চিঠি দিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কোম্পানি শেয়ার অফলোডের দিক-নির্দেশনা জানতে চেয়ে আইসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু শেয়ার অফলোডের বিষয়ে কোম্পানিগুলো এতোটাই মন্থর গতিতে এগুচ্ছে যে, চলতি বছরেতো নয়ই আগামী বছরেও এসব কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে আসবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কোম্পানিগুলোর শেয়ার অফলোডের প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে রয়েছে সে বিষয়ে আইসিবির পরিষ্কার ধারণা নেই। অথচ আইসিবির কাছেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার অফলোডের অগ্রগতি জানতে চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতিতে শেয়ার অফলোডের অগ্রগতি জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে আইসিবি।


জানা যায়, সরকারি কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে শেয়ার অফলোড করতে হলে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করতে হবে। এরপর অডিট ফার্ম নিয়োগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সম্পদসহ আর্থিক প্রতিবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর কোম্পানিকে শেয়ার অফলোডের জন্য ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগ করতে হবে। সবকিছু ঠিকমতো চললে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে ৪ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কিন্তু শেয়ার অফলোডের বিষয়ে গত দু’বছরে কোম্পানিগুলোর অগ্রগতি তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। অথচ ২০০৮ সাল থেকেই এসব কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ার ঘোষণা রয়েছে সরকারের। শেয়ার অফলোডে সরকারি ঘোষণার দু’বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠান পাবলিক লিমিটেডে রূপান্তরিত হওয়ার কাজটিও সম্পন্ন করতে পারেনি।


এদিকে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী যে ২৬টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার কথা থাকলেও বর্তমানে ২২টি সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোডের কার্যক্রম চলছে। কোম্পানিগুলো হলো- প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেড, ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্সুলেটর এন্ড স্যানিটারি ওয়্যার ফ্যাক্টরি লিমিটেড, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (শেরাটন হোটেল), হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (সেনারগাঁও হোটেল), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল), টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস), টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ ক্যাবলস শিল্প লিমিটেড, এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, লিক্যুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেড, গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড ও রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। 


এছাড়া গত মে মাসে সরকারি কোম্পানির শেয়ার অফলোড সংক্রান্ত কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আরও ৬টি কোম্পানি ডিসেম্বরের মধ্যে শেয়ার অফলোডের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু শেয়ার অফলোডের বিষয়ে এসব কোম্পানির আর কোন অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মে মাসের মধ্যে ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগের কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্যাবল শিল্প লিমিটেড এবং টেলিফোন শিল্প সংস্থার প্রতিনিধিরা। এরপর দু’মাসের বেশি সময় পার হলেও ইস্যু ম্যানেজার নিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। তবে লিক্যুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস কোম্পানি এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে আইসিবিকে নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের রিপিট আইপিও ছাড়ার কাজটি বছরের শেষ দিকে হতে পারে বলে আইসিবি জানিয়েছে।


আপাতত পুঁজিবাজারে শেয়ার অফলোডের প্রক্রিয়া থেকে যে ৪টি কোম্পানি বিরত রয়েছে সেগুলো হলো-ডিপিডিসি, জিইএম কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও বঙ্গবন্ধু সেতু। অথচ এ চারটি কোম্পানিই জানিয়েছিল যে, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেয়ার অফলোডের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ পরবর্তী বোর্ড সভায় শেয়ার অফলোডের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আইসিবিকে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব উপস্থাপন করার কথা ছিল।

বি.দ্র. : এ লেখাটি গত ২১ আগস্ট দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে (শিল্প-বাণিজ্য পাতা)।



এমএম মাসুদ

No comments:

Post a Comment