সাম্প্রতিককালে শেয়ারবাজার পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ-ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পতনের কারণগুলো চিহ্নিত করে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছে।
শেয়ারবাজারে ধস নামার পরে এ সাধারণ-ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তারা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মভীরু। একটি ধর্মীয় মূল্যবোধ তারা ঐতিহ্যগতভাবে সংরক্ষণ করে থাকে। শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক ঘটনার পর অনেক বিদগ্ধ ব্যক্তি বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে নানা রকম মন গড়া তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন। একজন নাম করা অর্থনীতিবিদ তো দেশের শেয়ারবাজারকে ক্যাসিনোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। ক্যাসিনো মানে জুয়াখানা। স্বাভাবিকভাবেই এসব ধর্মভীরু পরিবার থেকে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের সন্তানেরা কি তবে শেয়ারব্যবসার নামে জুয়া খেলছে। এর উত্তর কিন্তু ওনারা দিচ্ছে না। হয় তারা বলুক, প্রকৃত শেয়ারবাজার কখনও জুয়াখানা হতে পারে না। অন্যথায় বলুক, এ কথা যদি সত্য হয় তবে এ জুয়ার আড্ডা বন্ধ করে দেয়া হোক। আসলে তারা জানেন, প্রকৃত শেয়ারবাজার কখনও ক্যাসিনো হতে পারে না, এটা সত্যিকারের একটা বিনিয়োগ মাধ্যম। এখানে বিনিয়োগের জন্য পড়াশুনা করে জ্ঞান অর্জন করা লাগে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিনিয়োগ পদ্ধতি শেখানোর জন্য অনেক বিষয় পড়ানো হয়। বিভিন্ন কারণে আমাদের দেশের শেয়ারবাজার জুয়ার চরিত্র পেয়েছে। এর পেছনে যেমন শেয়ার ম্যানিপুলেটর রয়েছে তেমনি সরকারের অবদানও নেহায়েত কম নয়। শিল্প স্থাপন বা পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয় না। প্রাথমিকভাবে দিলেও পরবর্তীতে আইপিও বিক্রি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ঋণের টাকা উঠিয়ে নেয়ার বিধান রয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু তা ক্যাসিনোর মতো নয়। কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই করে এবং নানা রূপ বাছবিচার করে এখানে বিনিয়োগ করতে হয়। ঝুঁকি নিরূপণও তা এড়ানোর বিভিন্ন কৌশল বিদ্যমান রয়েছে এখানে। দেশের শেয়ারবাজার আজকের জায়গায় নিয়ে আসার জন্য কথিত জ্ঞানী অনেক অর্থনীতিবিদের অবদানও কম নয়। তারা বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে ও টেলিভিশন টকশোতে অনবরত নছিহত করে গেছেন যে, আপনারা ভালো শেয়ার খরিদ করুন। এমনকি বাজার যখন অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে গেছে, তখনও তারা কথিত ভালো শেয়ার কেনার কথা বলে এসব অতিমূল্যায়িত শেয়ার কেনার জন্য অকাতরে উপদেশ দিয়ে গেছেন। শেয়ারবাজার ম্যানিপুলেটররা এর সুযোগ নিয়েছে। তারা সাধারণ-ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্বিকভাবে প্ররোচিত করে ওইসব শেয়ার গছিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাও কম নয়। শেয়ারবাজারের অস্বাভাবিক উত্থানের পর সরকার প্রথমে বাহবা নিয়েছে। বলেছে, শেয়ারবাজার স্বাভাবিকভাবে চলছে, এখানে ভয়ের কোন কারণ নেই, তাছাড়া ১৯৯৬ সালের মতো কোন ঘটনা ঘটার সম্ভবনা নেই। এমনকি এ বলেও বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্থ করা হয়েছে যে, ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর এ বাজার ধ্বংস করার ক্ষমতা কারও নেই। অর্থমন্ত্রী নিজেও তার বিভিন্ন ভূলের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।
গত ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লাভ করে শেয়ারবাজার থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও তাতে আপত্তি করেনি। এমনকি এ সময় তারা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রেখেছে। কারণ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাজারে অবদান ৬০%-এর বেশি। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ভেবেছে এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি শেয়ার বিক্রি করে লাভ করে তাতেও কোন ক্ষতি নেই। কারণ, ওদের লাভের অংশবিশেষ ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে তারা ফেরত পাবেন। এমনকি বেশি লাভ করলে ওইসব শেয়ারের ক্যাপিটাল গেইনের মাধ্যমে তারা আরও লাভ করতে পারবে। সরকার এখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রকার প্রতারণা করেছে। একদিকে সরকার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিয়মিতভাবে আশ্বস্ত করেছে, অন্যদিকে ওইসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে নতুন করে বিনিয়োগ করতে মানা করছে। এমনকি শেয়ারবাজার থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর ডিভিডেন্ড দিতেও তারা নিষেধ করেছে। তাহলে এখন এসব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যাবে কোথায়?
শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক মূল্য পতনের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যথেষ্ট আস্থা হারিয়েছে। সে সঙ্গে বাজারে তারল্য সঙ্কট বিরাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ও তারল্য সঙ্কট দূর করতে সরকারের নির্দেশে আইসিবি এবং সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি বড় আকারের তহবিল গঠন করে ভালো শেয়ার খরিদের মাধ্যমে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি একটি স্বাভাবিক উদ্যোগ। অথচ অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি এর সমালোচনা করে বলছেন, সরকার এখানে কেন অর্থ ঢালছেন।
অনিবার্য এমনকি স্বাভাবিক ক্র্যাশের পরও বিভিন্ন দেশের সরকার শেয়ারবাজার পরিস্থিতি উত্তরণে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে থাকে। আর আমাদের শেয়ারবাজার ধসের জন্য সরকারও যেখানে অনেকাংশে দায়ী, সেখানে শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি উত্তরণে বিভিন্নভাবে সাপোর্ট দেয়া সরকারের নৈতিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। ধরা যাক, ধসের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জায়গায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেরিয়ে আসতে পারল না। তাহলে কি হতো? এসব প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যেত। আর জনসাধারণের আমানত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিও ধ্বংস হয়ে যেত। বলা যায়, লাখ লাখ সাধারণ-ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বলি দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচানো হয়েছে। সে সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিও বেঁচে গেছে।
মনে রাখা দরকার, সরকার এখানে কোনরূপ অনুদান দিচ্ছে না। ঋণ দিচ্ছে মাত্র। শেয়ারবাজারে এখনও যেমন কিছু অতিমূল্যায়িত শেয়ার বিদ্যমান রয়েছে তেমনি ধসের কারণে অনেক ভালো শেয়ারেরও অস্বাভাবিক মূল্য পতন ঘটেছে। এসব শেয়ারে বিনিয়োগ যথেষ্ট লাভজনক হবে। বিশেষ করে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম স্মরণকালের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এখানে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকৃত পুঁজি দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান। তবে সরকারকেও স্পষ্ট করে বলতে হবে যে, এ বছরে অন্তত সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ার অফলোড করা হবে না। এখানে উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবে ভারত সরকার সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে চলেছে (ইউনিয়ন বাজেট ২০১১-১২ দ্রষ্টব্য)। অথচ আমাদের দেশে কিছুসংখ্যক অর্থনীতিবিদের চাপে সরকার এসব কোম্পানিগুলো থেকে সরকারি পুঁজি প্রত্যাহার করতে চাইছে।
তহবিল গঠনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মনে রাখতে হবে, টাকাটা সরকার দিচ্ছে ঋণ হিসেবে। ব্যাংক হারে হলেও এর সুদ গুণতে হবে। সরকার মানে গৌরী সেন নয়। যথেচ্ছা ব্যবহারের মাধ্যমে যাতে এ টাকা নয়-ছয় না হয় তার জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ অর্থ বিনিয়োগের সময় দুই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্টদের পরামর্শ ও সহযোগিতা গ্রহণ একান্ত জরুরি। অন্যথায় বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে। আর এ বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর্থিকভাবে তো বটেই, শেয়ারবাজার পরিস্থিতি উত্তরণের সার্বিক লক্ষ্য অর্জনও সম্ভব হবে না। তাতে শেয়ারবাজারের আস্থার সঙ্কট আরও বৃদ্ধি পাবে।
শেয়ারবাজারে ধস নামার পরে এ সাধারণ-ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তারা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মভীরু। একটি ধর্মীয় মূল্যবোধ তারা ঐতিহ্যগতভাবে সংরক্ষণ করে থাকে। শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক ঘটনার পর অনেক বিদগ্ধ ব্যক্তি বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে নানা রকম মন গড়া তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন। একজন নাম করা অর্থনীতিবিদ তো দেশের শেয়ারবাজারকে ক্যাসিনোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। ক্যাসিনো মানে জুয়াখানা। স্বাভাবিকভাবেই এসব ধর্মভীরু পরিবার থেকে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের সন্তানেরা কি তবে শেয়ারব্যবসার নামে জুয়া খেলছে। এর উত্তর কিন্তু ওনারা দিচ্ছে না। হয় তারা বলুক, প্রকৃত শেয়ারবাজার কখনও জুয়াখানা হতে পারে না। অন্যথায় বলুক, এ কথা যদি সত্য হয় তবে এ জুয়ার আড্ডা বন্ধ করে দেয়া হোক। আসলে তারা জানেন, প্রকৃত শেয়ারবাজার কখনও ক্যাসিনো হতে পারে না, এটা সত্যিকারের একটা বিনিয়োগ মাধ্যম। এখানে বিনিয়োগের জন্য পড়াশুনা করে জ্ঞান অর্জন করা লাগে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিনিয়োগ পদ্ধতি শেখানোর জন্য অনেক বিষয় পড়ানো হয়। বিভিন্ন কারণে আমাদের দেশের শেয়ারবাজার জুয়ার চরিত্র পেয়েছে। এর পেছনে যেমন শেয়ার ম্যানিপুলেটর রয়েছে তেমনি সরকারের অবদানও নেহায়েত কম নয়। শিল্প স্থাপন বা পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে ঋণ দেয় না। প্রাথমিকভাবে দিলেও পরবর্তীতে আইপিও বিক্রি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ঋণের টাকা উঠিয়ে নেয়ার বিধান রয়েছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নিঃসন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু তা ক্যাসিনোর মতো নয়। কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই করে এবং নানা রূপ বাছবিচার করে এখানে বিনিয়োগ করতে হয়। ঝুঁকি নিরূপণও তা এড়ানোর বিভিন্ন কৌশল বিদ্যমান রয়েছে এখানে। দেশের শেয়ারবাজার আজকের জায়গায় নিয়ে আসার জন্য কথিত জ্ঞানী অনেক অর্থনীতিবিদের অবদানও কম নয়। তারা বিভিন্ন লেখার মাধ্যমে ও টেলিভিশন টকশোতে অনবরত নছিহত করে গেছেন যে, আপনারা ভালো শেয়ার খরিদ করুন। এমনকি বাজার যখন অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে গেছে, তখনও তারা কথিত ভালো শেয়ার কেনার কথা বলে এসব অতিমূল্যায়িত শেয়ার কেনার জন্য অকাতরে উপদেশ দিয়ে গেছেন। শেয়ারবাজার ম্যানিপুলেটররা এর সুযোগ নিয়েছে। তারা সাধারণ-ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্বিকভাবে প্ররোচিত করে ওইসব শেয়ার গছিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাও কম নয়। শেয়ারবাজারের অস্বাভাবিক উত্থানের পর সরকার প্রথমে বাহবা নিয়েছে। বলেছে, শেয়ারবাজার স্বাভাবিকভাবে চলছে, এখানে ভয়ের কোন কারণ নেই, তাছাড়া ১৯৯৬ সালের মতো কোন ঘটনা ঘটার সম্ভবনা নেই। এমনকি এ বলেও বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্থ করা হয়েছে যে, ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর এ বাজার ধ্বংস করার ক্ষমতা কারও নেই। অর্থমন্ত্রী নিজেও তার বিভিন্ন ভূলের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন।
গত ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লাভ করে শেয়ারবাজার থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও তাতে আপত্তি করেনি। এমনকি এ সময় তারা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রেখেছে। কারণ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাজারে অবদান ৬০%-এর বেশি। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ভেবেছে এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি শেয়ার বিক্রি করে লাভ করে তাতেও কোন ক্ষতি নেই। কারণ, ওদের লাভের অংশবিশেষ ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে তারা ফেরত পাবেন। এমনকি বেশি লাভ করলে ওইসব শেয়ারের ক্যাপিটাল গেইনের মাধ্যমে তারা আরও লাভ করতে পারবে। সরকার এখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রকার প্রতারণা করেছে। একদিকে সরকার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিয়মিতভাবে আশ্বস্ত করেছে, অন্যদিকে ওইসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে নতুন করে বিনিয়োগ করতে মানা করছে। এমনকি শেয়ারবাজার থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর ডিভিডেন্ড দিতেও তারা নিষেধ করেছে। তাহলে এখন এসব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যাবে কোথায়?
শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক মূল্য পতনের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যথেষ্ট আস্থা হারিয়েছে। সে সঙ্গে বাজারে তারল্য সঙ্কট বিরাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ও তারল্য সঙ্কট দূর করতে সরকারের নির্দেশে আইসিবি এবং সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি বড় আকারের তহবিল গঠন করে ভালো শেয়ার খরিদের মাধ্যমে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি একটি স্বাভাবিক উদ্যোগ। অথচ অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি এর সমালোচনা করে বলছেন, সরকার এখানে কেন অর্থ ঢালছেন।
অনিবার্য এমনকি স্বাভাবিক ক্র্যাশের পরও বিভিন্ন দেশের সরকার শেয়ারবাজার পরিস্থিতি উত্তরণে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে থাকে। আর আমাদের শেয়ারবাজার ধসের জন্য সরকারও যেখানে অনেকাংশে দায়ী, সেখানে শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি উত্তরণে বিভিন্নভাবে সাপোর্ট দেয়া সরকারের নৈতিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। ধরা যাক, ধসের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জায়গায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেরিয়ে আসতে পারল না। তাহলে কি হতো? এসব প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যেত। আর জনসাধারণের আমানত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিও ধ্বংস হয়ে যেত। বলা যায়, লাখ লাখ সাধারণ-ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বলি দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচানো হয়েছে। সে সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিও বেঁচে গেছে।
মনে রাখা দরকার, সরকার এখানে কোনরূপ অনুদান দিচ্ছে না। ঋণ দিচ্ছে মাত্র। শেয়ারবাজারে এখনও যেমন কিছু অতিমূল্যায়িত শেয়ার বিদ্যমান রয়েছে তেমনি ধসের কারণে অনেক ভালো শেয়ারেরও অস্বাভাবিক মূল্য পতন ঘটেছে। এসব শেয়ারে বিনিয়োগ যথেষ্ট লাভজনক হবে। বিশেষ করে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম স্মরণকালের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এখানে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকৃত পুঁজি দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান। তবে সরকারকেও স্পষ্ট করে বলতে হবে যে, এ বছরে অন্তত সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ার অফলোড করা হবে না। এখানে উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতভাবে ভারত সরকার সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে চলেছে (ইউনিয়ন বাজেট ২০১১-১২ দ্রষ্টব্য)। অথচ আমাদের দেশে কিছুসংখ্যক অর্থনীতিবিদের চাপে সরকার এসব কোম্পানিগুলো থেকে সরকারি পুঁজি প্রত্যাহার করতে চাইছে।
তহবিল গঠনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মনে রাখতে হবে, টাকাটা সরকার দিচ্ছে ঋণ হিসেবে। ব্যাংক হারে হলেও এর সুদ গুণতে হবে। সরকার মানে গৌরী সেন নয়। যথেচ্ছা ব্যবহারের মাধ্যমে যাতে এ টাকা নয়-ছয় না হয় তার জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ অর্থ বিনিয়োগের সময় দুই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্টদের পরামর্শ ও সহযোগিতা গ্রহণ একান্ত জরুরি। অন্যথায় বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে। আর এ বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর্থিকভাবে তো বটেই, শেয়ারবাজার পরিস্থিতি উত্তরণের সার্বিক লক্ষ্য অর্জনও সম্ভব হবে না। তাতে শেয়ারবাজারের আস্থার সঙ্কট আরও বৃদ্ধি পাবে।
No comments:
Post a Comment