ট্রেন ছেড়েছে শব্দটি শেয়ার বাজারে অনেক বিনিয়োগকারীর প্রিয় শব্দ। যখন একটি সিকিউরিটিজের দাম বাড়তে শুরু করে তখনই ধরে নেয়া হয় ট্রেনটি কমলাপুর ষ্টেশন ছাড়লো মাত্র। এর গন্তব্য চট্টগ্রাম। অথ্র্যাৎ বিনিয়োগকারীর হিসাবে সর্বোচ্চ দাম। এই ট্রেন যাত্রী পরিবহনের নয়, বরং ধনী হবার। এমন অসংখ্য মুনাফা কামানোর ট্রেন আসে বিনিয়োগকারীর জীবনে। কেউ সঠিক ট্রেনটি চিনতে পারেন, তরতর করে পৌঁছে যান গন্তব্যে অর্থাৎ কামিয়ে নেন নিজের হিসাবে মুনাফার পুরোটুকু। আবার কেউ কেউ অংকের হিসাব মেলাতে না পেরে চেপে বসেন ভুল ট্রেনে, যার পরিণতি নিজের পুঁজি হারানো। লোভ-মুনাফা কিংবা লোকসান্তহতাশার এই বাজারে তাই সতর্ক বিনিয়োগকারীদের অনেকটা সময় চলে যায় ট্রেন চিনে নিতে।
গত সপ্তাহে অনেক বিনিয়োগকারীদের পছন্দের ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছার আগেই থেমে যায়, বলা যায় তা থামে অনেক বিনিয়োগকারীর মনের মতো গন্তব্য পৌঁছার আগেই। কাজটি করা হয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে। দ্'ুদফায় মোট ১৫ টি কোম্পানীর শেয়ারের লেনদেন স্থগিত করা হয়। অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে বুধবার স্থগিত করা হয় দ'ুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা এসইসি নির্দেশে রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এবং দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।
বলা হয়, গত কয়েক দিন অব্যাহতভাবে কোম্পানি দু'টির দাম বাড়ছিলো। শেয়ার দুটির প্রতিটির অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা। লেনদেন বন্ধের আগে রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার ২৩১ টাকা বেড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৪৩ টাকায় বিক্রি হয়। আগের দিন এটির সর্বশেষ মূল্য ছিল ২,৩১২টাকা। এ ছাড়া দুলামিয়া কটনের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৭৫ টাকা বেড়ে সর্বোচ্চ ৫১৫.২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। আগের দিন এটির সর্বশেষ মূল্য ছিল ৪৪০.২৫ টাকা।
এর আগে, অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ার অভিযোগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৩ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়। কোম্পানিগুলো হলো সোনালী আঁশ, মিথুন নিটিং, তাল্লু স্পিনিং, সাফকো স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, আজিজ পাইপস, বাংলাদেশ অটোকারস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, দেশ গার্মেন্টস, ঢাকা ডায়িং, এমবি ফার্মা ও সিএমসি কামাল। এর মধ্যে সোনালী আঁশ, বাংলাদেশ অটোকারস, দেশ গার্মেন্টস ও সিএমসি কামাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বা সিএসই'র তালিকাভুক্ত নয়। সেই হিসেবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ অপর নয়টি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করেছে।
আগেই বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পেলেই খুশী হন, তবে বাজারে হঠাৎ পতনে নিজের পুঁজি হারালে মনে কষ্টও পান যথেষ্ট। তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, লেনদেন স্থগিত করায় অনেক বিনিয়োগকারীই তাদের কৌশল পাল্টাবেন। যদিও এসইসি বলছে বাজারের লাগাম টেনে ধরতে তাদের এই সিদ্ধান্ত, কিন্তু বিনিয়োগকারীরা তাদের এই সিদ্ধান্ত কতটুকু সফল করবে তা নিয়ে সংশয় আছে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ষ্টক এক্সচেঞ্জ এবং এসইসির সম্র্পকের নতুন মাত্রা বিনিয়োগকারীদের আলোচনার নতুন বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাজার তদারকি ও নজরদারির ব্যাপারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ভূমিকায় অসন-োষ প্রকাশ করে এসইসি এই আলোচনার সূত্রপাত করে। এমনকী সংস্থাটি এ ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ দ'ুটির প্রশাসনিক দক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বা এসইসি'র সঙ্গে এক বৈঠকে বুধবার এসইসির পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়। বৈঠক শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ সাংবাদিকদের খোলামেলাই বলেছেন, স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকাে এসইসি খুশি নয়। গত মঙ্গলবার অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ার কারণে ১৩ টি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষেরই এ কাজটি করার কথা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো এ ধরনের পদপেক্ষ নিয়ে থাকে। কিন্তু ডিএসই ও সিএসই প্রশাসন তা না করায় এসইসিকেই এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
স্টক এক্সচেঞ্জ প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক-এসইসির এই বক্তব্যে একমত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এইমস ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ। কোন কোম্পানির শেয়ারের লেনদেনে সন্দেহ হলে তদন-ের জন্য ১৪ দিনের জন্য লেনদেন বন্ধ করা যায় বলে জানান তিনি। এ সময়ে বিষয়টির সুরাহা না হলে আরো ১৪ দিনের জন্য লেনদেন বন্ধ করা যায়। কিন্তু এ সবই একটি স্বচ্ছ নীতিমালার আওতায় করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। যেখানে আগে থেকেই সবাই বুঝতে পারবে কোম্পানীটির শেয়ারের লেনদেন বন্ধের দিকে এগুচ্ছে। শেয়ালে মুরগী খাবার আগেই নিয়ন্ত্রকদের ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। আর এ কাজটি করা গেলে বিনিয়োগকারীদের হঠাৎ লোকসান গুনতে হবে না।
সন্দেহ হলে নিয়ন্ত্রক হঠাৎই আইন প্রয়োগ করবে, তবে তা করবে একটি নীতিমালার আওতায়। যে নীতিমালাটি আগে থেকেই সবার জানা থাকবে। উদারহরণ টেনে ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, এমন হতে পারে যে, একটি কোম্পানির শেয়ার পর পর একটানা কয়েকদিন সার্কিট ব্রেকার স্পষ্শ করলে তার লেনদেন বন্ধ করা হবে। সে ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করতে হবে সব কোম্পানির জন্য। দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাবার পর লেনদেন বন্ধ করলে বিনিয়োগকারীর যেমনি লোকসান হয়, তেমনি সেই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন দেখা দেয়।
কোন কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা স্বচ্ছ নীতিমালার আওতায় নেয়া উচিত বলে মনে করেন প্রাইলিংক সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান ডা.জহিরুল ইসলাম। তিনি মনে করেন নীতিমালা আগে থেকেই সবার জানা থাকবে এবং তা সব কোম্পানীর জন্য প্রযোজ্য হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি শাকিল রিজভীও মনে করেন, বাজারে প্রতিদিনের বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের। স্টক এক্সচেঞ্জ কাজ করবে প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে। প্রতিদিনের বিষয় গুলোতে নজড় দিতে গিয়ে এসইসির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করার পরিবেশ স্টক এক্সচেঞ্জ গুলোকে তৈরী করে দেয়াও জরুরী বলে মনে করেন তিনি।
একটি কোম্পানীর শেয়ারের লেনদেন বন্ধ করা হলে নানা মহলে থেকে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি সামনে আসে। অতীতে কোম্পানীর লেদদেন বন্ধ করে স্টক এক্সচেঞ্জকে নানা মহলের চাপ মোকাবেলা করতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শাকিল রিজভী। এক্ষেত্রে প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে স্টক এক্সচেঞ্জ কে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে বলে জানান ডিএসই সভাপতি।
বন্ধ নয়, ঋণ কমলো একধাপ:
মার্জিন ঋণ বন্ধ বিষয়ে নানা কথার এবার অবসান হলো। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী একেবারে বন্ধ হলো না ঋণ, তবে কমলো অনেকখানিই। বাজারে তারল্য প্রবাহ কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তরফে। মার্জিন ঋণ ১:১ এর পরিবর্তে কমিয়ে ১:০৫ করা হয়েছে। আর এতে ঋণের আওতায় থাকা কোম্পানির শেয়ারের ১০০ টাকায় যেখানে ১০০ টাকা ঋণ পাওয়া যেতো তা কমে ১০০ টাকায় ঋণ পাওয়া যাবে ৫০ টাকা। আগের নিয়ম আনুযায়ী এনএভি ফর্মুলা প্রয়োগ করে ঋণ দেয়া হবে।
সরকারি মালিকাধীন কোম্পানির শেয়ার:
সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসতে শুরু করেছে। ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ার বিক্রি দিয়েই শুরু হলো এই যাত্রা। রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা আইসিবি'র মাধ্যমে বুধবার থেকে ব্যাংকটির শেয়ার বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়। আইসিবি সূত্রমতে, প্রথম দিন মাত্র এক হাজার ৬০০টির মতো শেয়ার বিক্রি হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ ব্যাংকটির ৯৩ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার বর্তমানে সরকারের হাতে রয়েছে। আর বাকি ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। রূপালী ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকা, যা এক কোটি ২৫ লাখ শেয়ারে বিভক্ত।
শেয়ার বাজারে ঋণের টাকা অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ছে:
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার আকারে ছোট। কিন্তুু এই ছোট বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ছে। বাজার মূলধন ছাড়িয়ে গেছে তিন লাখ কোটি টাকা। এত টাকার সরবরাহ দেখে মনে হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি বিরাজ করছে। কিন্তুু আসলে কি তাই?
অর্থনীতির প্রাণ প্রবাহ হিসাবে শেয়ার বাজারে দরের উলস্নম্ফন কিংবা টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে, অর্থনীতি গতিশীল। বাস্তবে সে অবস্থা নেই। দেশের অর্থনীতি নিয়ে রয়ে গেছে নানা সন্দেহ সংশয়। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, অর্থনীতির সংকটকাল কাটছে না।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামপ্রতিক সময়ে শেয়ার বাজার বেশ জমজমাট। এখানে বিনিয়োগও বাড়ছে। এমনকি মৌল ভিত্তি দুর্বল এমন কোম্পানির শেয়ারের দরও বাড়ছে। সর্বোপরি শেয়ার বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়েছে। আর এই টাকা আসছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন তাদের মূল ব্যবসার বাইরে এসে শেয়ার বাজারে অতিমাত্রায় বিনিয়োগ করেছে। একই ভাবে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শেয়ার বাজারে খাটানো হচ্ছে। ব্যাংকের টাকা প্রকল্প ঋণ হিসাবে নিয়ে শেয়ারবাজারে খাটানোর মাধ্যমে ফটকাবাজারিতে জড়িয়ে পড়েছে উদ্যোক্তাদের অনেকে। এর কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, শিল্পকারখানায় গত দুই বছর ধরে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। গ্যাস বিদ্যুত সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে, বাধ্য হয়েই অনেকে শেয়ার বাজারে টাকা খাটিয়ে মুনাফা নেয়ার চেষ্টা করছেন। আবার ব্যাংকগুলোও শেয়ার বাজার থেকে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। বাস্তবে তাদের বকেয়া ঋণ আদায়ের পরিমানও সন্তোষজনক নয়।
সূত্রমতে, গ্যাস বিদ্যুত সংকটের কারণে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। দু'তিন কিস্তি খেলাপি হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাংকগুলোও গ্রাহকদের ওপর চাপ দিতে পারছে না।
দেশের ব্যাংকগুলোর হিসাবে সামপ্রতিক সময়ে নতুন করে মেয়াদী শিল্প ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তুু নতুন কোন শিল্প স্থাপন হচ্ছে না। আবার শিল্পকারখানা সমপ্রসারণের সুযোগও এখন কম। জ্বালানি সংকটের কারণে কেউ ঝুঁকি নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় ব্যাংক থেকে নেয়া শিল্পঋণের একটি অংশ ব্যবহার হচ্ছে আসলে শেয়ার বাজারে। যা বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়িয়েছে।
ব্যাংকগুলো নিজেদের পরিধির বাইরে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হুঁশিয়ারির পর লাঘাম টানা হচ্ছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের পাশাপাশি শিল্পখাতে দেয়া ব্যাংক ঋণও এখন ঝুঁকির মুখে। জ্বালানি সংকটের কারণে প্রকল্প বান্তবায়ন ও কারখানার চাকা ঘুরানো পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় শেয়ার বাজারে উলম্ফণ থেমে গেলে কিংবা বড় ধরণের কোন কারসাজি হলে পুরো অর্থনীতিতেই বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে।
অন্যদিকে, মেয়াদী শিল্প ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কিংবা কাঁচামাল আমদানির চিত্রও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সংকটের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কর্মকৌশল প্রণয়ন জরুরী। অন্যথায় শেয়ারবাজারের চাঙ্গা লেনদেন দিয়ে অর্থনীতিকে বেশি দূর টেনে আনা যাবে না। অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত দূর করে শিল্পের গতি বাড়াতে হবে। কারণ, শিল্পখাতে কর্মসংস্থান ও রফতানি আয় বিবেচনায় জ্বালানি সংকট মেটাতে হবে। শিল্পের চাকা সচল করতে না পারলে অর্থনীতি গতিশীল হবে না।
গত সপ্তাহে অনেক বিনিয়োগকারীদের পছন্দের ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছার আগেই থেমে যায়, বলা যায় তা থামে অনেক বিনিয়োগকারীর মনের মতো গন্তব্য পৌঁছার আগেই। কাজটি করা হয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে। দ্'ুদফায় মোট ১৫ টি কোম্পানীর শেয়ারের লেনদেন স্থগিত করা হয়। অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে বুধবার স্থগিত করা হয় দ'ুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা এসইসি নির্দেশে রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এবং দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।
বলা হয়, গত কয়েক দিন অব্যাহতভাবে কোম্পানি দু'টির দাম বাড়ছিলো। শেয়ার দুটির প্রতিটির অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা। লেনদেন বন্ধের আগে রহিম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার ২৩১ টাকা বেড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৪৩ টাকায় বিক্রি হয়। আগের দিন এটির সর্বশেষ মূল্য ছিল ২,৩১২টাকা। এ ছাড়া দুলামিয়া কটনের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৭৫ টাকা বেড়ে সর্বোচ্চ ৫১৫.২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়। আগের দিন এটির সর্বশেষ মূল্য ছিল ৪৪০.২৫ টাকা।
এর আগে, অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ার অভিযোগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৩ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়। কোম্পানিগুলো হলো সোনালী আঁশ, মিথুন নিটিং, তাল্লু স্পিনিং, সাফকো স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, আজিজ পাইপস, বাংলাদেশ অটোকারস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, দেশ গার্মেন্টস, ঢাকা ডায়িং, এমবি ফার্মা ও সিএমসি কামাল। এর মধ্যে সোনালী আঁশ, বাংলাদেশ অটোকারস, দেশ গার্মেন্টস ও সিএমসি কামাল চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বা সিএসই'র তালিকাভুক্ত নয়। সেই হিসেবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ অপর নয়টি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করেছে।
আগেই বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পেলেই খুশী হন, তবে বাজারে হঠাৎ পতনে নিজের পুঁজি হারালে মনে কষ্টও পান যথেষ্ট। তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, লেনদেন স্থগিত করায় অনেক বিনিয়োগকারীই তাদের কৌশল পাল্টাবেন। যদিও এসইসি বলছে বাজারের লাগাম টেনে ধরতে তাদের এই সিদ্ধান্ত, কিন্তু বিনিয়োগকারীরা তাদের এই সিদ্ধান্ত কতটুকু সফল করবে তা নিয়ে সংশয় আছে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ষ্টক এক্সচেঞ্জ এবং এসইসির সম্র্পকের নতুন মাত্রা বিনিয়োগকারীদের আলোচনার নতুন বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাজার তদারকি ও নজরদারির ব্যাপারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ভূমিকায় অসন-োষ প্রকাশ করে এসইসি এই আলোচনার সূত্রপাত করে। এমনকী সংস্থাটি এ ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ দ'ুটির প্রশাসনিক দক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সাম্প্রতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বা এসইসি'র সঙ্গে এক বৈঠকে বুধবার এসইসির পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়। বৈঠক শেষে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ সাংবাদিকদের খোলামেলাই বলেছেন, স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকাে এসইসি খুশি নয়। গত মঙ্গলবার অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ার কারণে ১৩ টি কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষেরই এ কাজটি করার কথা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্টক এক্সচেঞ্জগুলো এ ধরনের পদপেক্ষ নিয়ে থাকে। কিন্তু ডিএসই ও সিএসই প্রশাসন তা না করায় এসইসিকেই এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
স্টক এক্সচেঞ্জ প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক-এসইসির এই বক্তব্যে একমত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এইমস ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ। কোন কোম্পানির শেয়ারের লেনদেনে সন্দেহ হলে তদন-ের জন্য ১৪ দিনের জন্য লেনদেন বন্ধ করা যায় বলে জানান তিনি। এ সময়ে বিষয়টির সুরাহা না হলে আরো ১৪ দিনের জন্য লেনদেন বন্ধ করা যায়। কিন্তু এ সবই একটি স্বচ্ছ নীতিমালার আওতায় করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। যেখানে আগে থেকেই সবাই বুঝতে পারবে কোম্পানীটির শেয়ারের লেনদেন বন্ধের দিকে এগুচ্ছে। শেয়ালে মুরগী খাবার আগেই নিয়ন্ত্রকদের ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। আর এ কাজটি করা গেলে বিনিয়োগকারীদের হঠাৎ লোকসান গুনতে হবে না।
সন্দেহ হলে নিয়ন্ত্রক হঠাৎই আইন প্রয়োগ করবে, তবে তা করবে একটি নীতিমালার আওতায়। যে নীতিমালাটি আগে থেকেই সবার জানা থাকবে। উদারহরণ টেনে ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, এমন হতে পারে যে, একটি কোম্পানির শেয়ার পর পর একটানা কয়েকদিন সার্কিট ব্রেকার স্পষ্শ করলে তার লেনদেন বন্ধ করা হবে। সে ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করতে হবে সব কোম্পানির জন্য। দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাবার পর লেনদেন বন্ধ করলে বিনিয়োগকারীর যেমনি লোকসান হয়, তেমনি সেই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন দেখা দেয়।
কোন কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা স্বচ্ছ নীতিমালার আওতায় নেয়া উচিত বলে মনে করেন প্রাইলিংক সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান ডা.জহিরুল ইসলাম। তিনি মনে করেন নীতিমালা আগে থেকেই সবার জানা থাকবে এবং তা সব কোম্পানীর জন্য প্রযোজ্য হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি শাকিল রিজভীও মনে করেন, বাজারে প্রতিদিনের বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের। স্টক এক্সচেঞ্জ কাজ করবে প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে। প্রতিদিনের বিষয় গুলোতে নজড় দিতে গিয়ে এসইসির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করার পরিবেশ স্টক এক্সচেঞ্জ গুলোকে তৈরী করে দেয়াও জরুরী বলে মনে করেন তিনি।
একটি কোম্পানীর শেয়ারের লেনদেন বন্ধ করা হলে নানা মহলে থেকে প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি সামনে আসে। অতীতে কোম্পানীর লেদদেন বন্ধ করে স্টক এক্সচেঞ্জকে নানা মহলের চাপ মোকাবেলা করতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শাকিল রিজভী। এক্ষেত্রে প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে স্টক এক্সচেঞ্জ কে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে বলে জানান ডিএসই সভাপতি।
বন্ধ নয়, ঋণ কমলো একধাপ:
মার্জিন ঋণ বন্ধ বিষয়ে নানা কথার এবার অবসান হলো। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী একেবারে বন্ধ হলো না ঋণ, তবে কমলো অনেকখানিই। বাজারে তারল্য প্রবাহ কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তরফে। মার্জিন ঋণ ১:১ এর পরিবর্তে কমিয়ে ১:০৫ করা হয়েছে। আর এতে ঋণের আওতায় থাকা কোম্পানির শেয়ারের ১০০ টাকায় যেখানে ১০০ টাকা ঋণ পাওয়া যেতো তা কমে ১০০ টাকায় ঋণ পাওয়া যাবে ৫০ টাকা। আগের নিয়ম আনুযায়ী এনএভি ফর্মুলা প্রয়োগ করে ঋণ দেয়া হবে।
সরকারি মালিকাধীন কোম্পানির শেয়ার:
সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ার বাজারে আসতে শুরু করেছে। ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ার বিক্রি দিয়েই শুরু হলো এই যাত্রা। রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা আইসিবি'র মাধ্যমে বুধবার থেকে ব্যাংকটির শেয়ার বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়। আইসিবি সূত্রমতে, প্রথম দিন মাত্র এক হাজার ৬০০টির মতো শেয়ার বিক্রি হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ ব্যাংকটির ৯৩ দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার বর্তমানে সরকারের হাতে রয়েছে। আর বাকি ৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। রূপালী ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকা, যা এক কোটি ২৫ লাখ শেয়ারে বিভক্ত।
শেয়ার বাজারে ঋণের টাকা অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ছে:
বাংলাদেশের শেয়ার বাজার আকারে ছোট। কিন্তুু এই ছোট বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ছে। বাজার মূলধন ছাড়িয়ে গেছে তিন লাখ কোটি টাকা। এত টাকার সরবরাহ দেখে মনে হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি বিরাজ করছে। কিন্তুু আসলে কি তাই?
অর্থনীতির প্রাণ প্রবাহ হিসাবে শেয়ার বাজারে দরের উলস্নম্ফন কিংবা টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে, অর্থনীতি গতিশীল। বাস্তবে সে অবস্থা নেই। দেশের অর্থনীতি নিয়ে রয়ে গেছে নানা সন্দেহ সংশয়। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, অর্থনীতির সংকটকাল কাটছে না।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামপ্রতিক সময়ে শেয়ার বাজার বেশ জমজমাট। এখানে বিনিয়োগও বাড়ছে। এমনকি মৌল ভিত্তি দুর্বল এমন কোম্পানির শেয়ারের দরও বাড়ছে। সর্বোপরি শেয়ার বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়েছে। আর এই টাকা আসছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখন তাদের মূল ব্যবসার বাইরে এসে শেয়ার বাজারে অতিমাত্রায় বিনিয়োগ করেছে। একই ভাবে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে শেয়ার বাজারে খাটানো হচ্ছে। ব্যাংকের টাকা প্রকল্প ঋণ হিসাবে নিয়ে শেয়ারবাজারে খাটানোর মাধ্যমে ফটকাবাজারিতে জড়িয়ে পড়েছে উদ্যোক্তাদের অনেকে। এর কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, শিল্পকারখানায় গত দুই বছর ধরে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। গ্যাস বিদ্যুত সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে, বাধ্য হয়েই অনেকে শেয়ার বাজারে টাকা খাটিয়ে মুনাফা নেয়ার চেষ্টা করছেন। আবার ব্যাংকগুলোও শেয়ার বাজার থেকে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। বাস্তবে তাদের বকেয়া ঋণ আদায়ের পরিমানও সন্তোষজনক নয়।
সূত্রমতে, গ্যাস বিদ্যুত সংকটের কারণে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না। দু'তিন কিস্তি খেলাপি হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাংকগুলোও গ্রাহকদের ওপর চাপ দিতে পারছে না।
দেশের ব্যাংকগুলোর হিসাবে সামপ্রতিক সময়ে নতুন করে মেয়াদী শিল্প ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তুু নতুন কোন শিল্প স্থাপন হচ্ছে না। আবার শিল্পকারখানা সমপ্রসারণের সুযোগও এখন কম। জ্বালানি সংকটের কারণে কেউ ঝুঁকি নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় ব্যাংক থেকে নেয়া শিল্পঋণের একটি অংশ ব্যবহার হচ্ছে আসলে শেয়ার বাজারে। যা বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়িয়েছে।
ব্যাংকগুলো নিজেদের পরিধির বাইরে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হুঁশিয়ারির পর লাঘাম টানা হচ্ছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের পাশাপাশি শিল্পখাতে দেয়া ব্যাংক ঋণও এখন ঝুঁকির মুখে। জ্বালানি সংকটের কারণে প্রকল্প বান্তবায়ন ও কারখানার চাকা ঘুরানো পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় শেয়ার বাজারে উলম্ফণ থেমে গেলে কিংবা বড় ধরণের কোন কারসাজি হলে পুরো অর্থনীতিতেই বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে।
অন্যদিকে, মেয়াদী শিল্প ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কিংবা কাঁচামাল আমদানির চিত্রও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সংকটের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কর্মকৌশল প্রণয়ন জরুরী। অন্যথায় শেয়ারবাজারের চাঙ্গা লেনদেন দিয়ে অর্থনীতিকে বেশি দূর টেনে আনা যাবে না। অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, জ্বালানি সংকট দ্রুত দূর করে শিল্পের গতি বাড়াতে হবে। কারণ, শিল্পখাতে কর্মসংস্থান ও রফতানি আয় বিবেচনায় জ্বালানি সংকট মেটাতে হবে। শিল্পের চাকা সচল করতে না পারলে অর্থনীতি গতিশীল হবে না।
আনোয়ার সাদী
উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক, শনিবার, নভেম্ব-২০১০।
No comments:
Post a Comment