Sunday, October 10, 2010

দুই বাজারে বড় ধরনের দরপতন

শেয়ারবাজারে মূল্য সংশোধন

টানা ১১ দিনেরও বেশি সময় ধরে চাঙাভাবের পর ঢাকার শেয়ারবাজারে মূল্য সংশোধন হয়েছে। ফলে সপ্তাহের শুরুতে রোববার সূচকের পতন দিয়ে লেনদেন শুরু হলে বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে সব সূচক ও বাজার মূলধন। শেয়ারবাজারের ব্যাপক দরপতনকে অনেক বিনিয়োগকারীই ডিএসই ও সিএসইর সংবাদ সম্মেলনের প্রভাব হিসেবে মনে করছেন। অবশ্য এ দরপতনকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। টানা ঊর্ধমুখী থাকার পর বাজারে মূল্য সংশোধন হওটা জরুরি ছিল বলে মনে করেন তারা।

রোববার বেলা বাড়ার সঙ্গে সূচকের উর্ধ্বগতি ফিরে এলেও মার্জিন ঋণ নির্ধারণ ও নেটিং বন্ধে এসইসির সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ এমন খবরে আবারও দরপতন হয়। দিনশেষে সাধারণ সূচক ১৮৭ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট কমে ৭২৯২ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ পর সূচক কিছুটা বাড়ে। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে সাধারণ সূচক আবার ১৩১ দশমিক ৭০ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর থেকে সাধারণ সূচক ক্রমান্বয়ে নিম্নগামী হয়। একইসঙ্গে লেনদেন ও বাজার মূলধন কমেছে যথাক্রমে ৪৩৬ কোটি ও ৮ হাজার কোটি টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, টানা ঊর্ধমুখীর পর রোববার বাজারে স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন হয়েছে। এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি আরও বলেন, বাজারে মূল্য সংশোধন হওয়ার পেছনে দুটি বিষয় কাজ করেছে, প্রথমটি ডিএসই ও সিএসই সভাপতির শনিবারের সংবাদ সম্মেলন এবং রোববার মার্জিন লোন সংক্রান্ত মামলায় আপিল বিভাগের রায় এসইসির পক্ষে যাওয়া।
এদিকে ডিএসইতে গতকাল মোট ২ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতদিনের চেয়ে ৪৩৭ কোটি টাকা কম। এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া প্রায় সব ক্যাটাগরির শেয়ারের দাম কমেছে। লেনদেন হওয়া মোট ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মধ্যে দাম বেড়েছে ২৫টির, কমেছে ২১২টির আর দাম অপরিবর্তিত ছিল ৩টি প্রতিষ্ঠানের।

ডিএসইর সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, টানা কয়েক দিন ধরে পুঁজিবাজারে উর্ধ্বগতি রয়েছে। তাই মূল্য সংশোধন কাংখিত ছিল।
খাত ভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া সিমেন্ট, জ্বালানি, বীমা, প্রযুক্তি, পাট, সেবা, ট্যানারি খাতের সবকটি কোম্পানির দাম কমেছে। এছাড়া গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম ৭ টাকা ৬০ পয়সা, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৩০ টাকা ৫০ পয়সা কমেছে। ব্যাপক দরপতনের দিনেও ব্যাংকগুলো অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে ছিল। ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে ১১টির দাম বেড়েছে। 

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি কো¤পানি হলো- প্রিমিয়ার ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স এন্ড সার্ভিসেস লি., ইউসিবিএল, বেক্সিমকো লি., ওয়ান ব্যাংক লি., স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক , ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ব্যাংক, শাহজালাল ব্যাংক লি. ও স্কয়ার ফার্মা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ফুওয়াং সিরামিকসের শেয়ারের দাম। এছাড়া এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, বেক্সিমকো সিনথেক্স, কোহিনূর ক্যামিকেলস, সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক লি., ফুয়াং ফুড ও ২য় আইসিবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো- ইমাম বাটন, এইমস ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, কেয়া কসমেটিক্স, ঢাকা ফিসারিজ, কন্টিনেন্টাল ইন্সুরেন্স, বিডি অটোকারস্, অগ্রণী ইন্সুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইন্সুরেন্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিঃ ও ইষ্টার্ণ হাউজিং। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩,১৬,৮০৬ কোটি টাকা। 

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল লেনদেন হওয়া ১৮২টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ২৫টির, কমেছে ১৫১টির এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। দিনশেষে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১৭ কোটি টাকা৫৬ লাখ ৬ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৬ কোটি ৮৯ লাখ  ৫৬ হাজার ৯৫৭ টাকা কম। সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২ দশমিক ৫৮৬৩ শতাংশ  কমে ২১ হাজার ২৪৫ দশমিক ৬৭৬৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এছাড়া উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক ও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলেও আর্থিক লেনদেন তেমন একটা কমেনি। এদিন বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী ব্যাংকের শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে দিনশেষে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় বেশির ভাগই ছিল ব্যাংকিং খাতের শেয়ার।

এমএম মাসুদ

No comments:

Post a Comment