Sunday, October 10, 2010

উচ্চ আদালতের আদেশ স্থগিত সুপ্রিম কোর্টে



মার্জিন ঋণ ও নেটিং সুবিধা


মার্জিন ঋণ ও নেটিং সুবিধা নিয়ে উচ্চ আদালতের আদেশ সুপ্রিম কোর্ট স্থগিত করেছে। গতকাল প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এনিয়ে উচ্চ আদালতের দেয়া রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে। এর আগে মার্জিন ঋণ নিয়ে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নেয়া সিদ্ধান্ত ৩ মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট। রোববার এসইসির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ।

এসইসির মার্জিন ঋণ ও নেটিং সুবিধা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মোরশেদুর রহমান এবং শাহ নেওয়াজ জুয়েল নামে পুঁজিবাজারের দুই জন বিনিয়োগকারী একটি রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে মার্জিন ঋণ এবং পিই রেশিও ৪০-এর উপরে থাকা কোম্পানির নেটিং সুবিধা বন্ধে ৬ ও ২১ সেপ্টেম্বর নেয়া এসইসির প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করা হয়। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে এসইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে উচ্চ আদালত। ৪ সপ্তাহের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, এসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জকে জবাব দিতে বলা হয়।

৪ অক্টোবর উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে আপিল করে এসইসি। উচ্চ আদালতের আদেশ বহাল রেখে আপিল মামলাটি শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান চেম্বার বিচারপতি। গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য হয়। তবে ওই দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

প্রসঙ্গত, এসইসি এক প্রজ্ঞাপনে পিই রেশিও ৪০-এর উপরে থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে আর্থিক সমন্বয় সুবিধা (নেটিং সুবিধা) বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে পিই রেশিও ৪০-এর মধ্যে থাকা কোম্পানির শেয়ারে প্রকৃত সম্পদ মূল্য বিবেচনায় ঋণ প্রদানের সর্বশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া ইতিপূর্বে শেয়ারের সর্বশেষ বাজার দরে নেয়া ঋণ বর্তমান পদ্ধতি প্রয়োগ করে অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় করতে হবে বলে এসইসি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। ঋণ সমন্বয়ের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় এসইসি। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গ্রাহকরা অতিরিক্ত ঋণের অর্থ সমন্বয় করতে না পারলে বাধ্যতামূলক বিক্রির (ফোর্স সেল) মাধ্যমে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত ঋণ সমন্বয় করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।

এমএম মাসুদ

No comments:

Post a Comment