Monday, February 21, 2011

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, শেয়ারবাজারে অন্তত দুটি বিষয় নিশ্চিত করুন

সাম্প্রতিক সময়ের দেশের শেয়ারবাজারের বিরাজমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে শেয়ারবাজারের সাধারণ বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা ভালো শেয়ারগুলো ধরে রাখলে লোকসান এড়িয়ে লাভ করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু শেয়ারবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। অনেক বিষয় সাধারণ-ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আয়ত্বের বাইরে। এমতাবস্থায় সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সহযোগিতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রধান মন্ত্রীর বর্ণিত আহ্বান সুফল বয়ে আনবে না। তাই শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অন্তত দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বিষয় দুটি হলো- ১। ফোর্স সেল বন্ধ করা, ২। কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের কম দামে শেয়ার পূন:খরিদের সুযোগ রহিত করা।

শেয়ারবাজারের বুলিস অবস্থা সৃষ্টির পরপর অনেক গুলো মার্চেন্ট ব্যাংক কে ব্যবসা পরিচালনার জন্য এসইসি অনুমোদন প্রদান করে। সাধারণ বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব পুঁজি বিনিয়োগের পাশাপাশি এসব মার্চেন্ট ব্যাংকের নিকট থেকে শেয়ার খরিদের জন্য ঋণ সুবিধা গ্রহণ করেছে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো মূলত:  মার্জিন রুলস এর আওতায় এই ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। সেই মাফিক তারা ওই বিনিয়োগকারীদের নিকট থেকে চার্জ পেপারে স্বাক্ষর করিয়ে রেখেছে। এখন শেয়ার মূল্য পড়ে যাওয়ায় মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো প্রদত্ত ঋণ সুদসহ ফেরত পেতে ঋণ গ্রহণকারীদের শেয়ারগুলো ফোর্স সেল করে দিচ্ছে। ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় কল্পে আপাতত ফোর্স সেল করা হবে না বলে অর্থ মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বিষয়টি যাতে নিশ্চিত হয় তার জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এখানে উল্লেখ্য, এসব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ব্যবসায় এক প্রকার অজ্ঞ। তারা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোরই সহায়তা নিয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ফি নিয়ে এদেরকে বিভিন্ন শেয়ারে অতি উচ্চ মূল্যে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে। সে মতে শেয়ারের সাম্প্রতিক মূল্য পতনে প্রেক্ষিতে লোকসানের দায়ভার এইসব মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ওপর কিছুটা হলেও বর্তায়।

অপর বিষয় আরও গুরুত্বপুর্ণ। শেয়ারবাজারে উর্ধ্বমুখী প্রবনতা শুরু হওয়ার পর বাজার খেলোয়াড়রা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সময় তারা সিন্ডিকেট তৈরি করে বুল কার্টেলের মাধ্যমে বাজার আরও ঊর্ধ্বমূখী করে তোলে। সাধারণ বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কে এরা বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনতে প্রলুব্ধ করে। এই চক্রের সঙ্গে কোম্পানির মালিক-পরিচালকরাও জড়িত হয়। এভাবে শেয়ারগুলো অতিমুল্যায়িত হওয়ার পর ওই সিন্ডিকেট চক্রের সাথে সাথে কোম্পানির মালিক-পরিচালকরাও নিজেদের কাছে থাকা শেয়ারের সিংহভাগ বিক্রি করে দিয়েছে। জাতীয় সংবাদ পত্রগুলোতে বিষয়টি নিয়মিত প্রকাশিত হলেও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসইসি এর বিরুদ্ধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এসব কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অনেক নামী-দামি কোম্পানিও রয়েছে। অথচ মালিক-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির বিষয়ে এসইসি’র সুনির্দিষ্ট বিধি-বিধান রয়েছে, যা মানা হয়নি। এখন এইসব পরিচালকরা কোম্পানির মালিকানা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বিক্রিত শেয়ারগুলো পুন:খরিদ করতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। কিন্তু বিক্রিত দামে তো তারা শেয়ার পুন:খরিদ করবে না। এরা চাইছে, যেনতেন প্রকারে শেয়ারে ব্যাপক মূল্য পতন ঘটিয়ে অনেক কম দামে শেয়ারগুলো পুন:খরিদ করতে। কিন্তু তারা যাতে এই হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ না করতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক। কারণ বিশেষজ্ঞদের মত হলো, শেয়ার বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া অর্থের অনেকাংশ ফিরিয়ে আনতে না পারলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যাবে না। এইসব শেয়ারের লেনদেনের যাবতীয় বিবরণ সিডিবিএল-এ সংরক্ষিত আছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ সালে এদের হাতে থাকা শেয়ারের বিবরণ পর্যালোচনা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে। কিন্তু এই দুষ্টচক্র শেয়ারবাজারে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং সক্রিয়। এদের ক্ষমতাও অনেক। এসইসি এবং সরকারী নীতি-নির্দ্ধারকদের প্রভাবিত করে লক্ষ্য হাসিল করার উপায় এদের জানা আছে।

তাই ব্যবস্থা নিতে হলে দরকার সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ এবং তা হতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। অন্যথায় শেয়ারবাজারের আরও মূল্য পতন কেউ ঠেকাতে পারবে না। আবার এটি করতে পারলে একদিকে যেমন সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা হবে অপর দিকে শেয়ারবাজারে একটি সুষ্ট পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

No comments:

Post a Comment